Wednesday , 30 September 2020
Home » দৈনিক সকালবেলা » পাচঁফোড়ন » পদ্মার পানি বাড়ছে, ভাঙনও ভয়ংকর চেহারায় ফিরছে

পদ্মার পানি বাড়ছে, ভাঙনও ভয়ংকর চেহারায় ফিরছে

অনলাইন ডেস্ক:
নদ-নদীর পানি কোথাও বাড়ছে, কোথাও কমছে।পদ্মার পানি বাড়ছে, ভাঙনও ভয়ংকর চেহারায় ফিরছে।
কুড়িগ্রামে ধরলা এবং নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তার পানি ফের বেড়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বগুড়ার বাঙ্গালী নদীর পানিও বেড়েছে।
তবে কমছে যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘটের পানির গতি। বন্যায় এখনো ডুবে আছে শতাধিক গ্রাম। পানিবন্দি হয়ে আছে লাখো মানুষ। বন্যাদুর্গত এলাকায় চলছে খাবার সংকট। বগুড়ায় যমুনা, কিশোরগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র এবং রংপুরের পীরগাছায় চলছে তিস্তার ভাঙন। এর ফলে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছে নদীপারের মানুষ। ভয় আর আতঙ্কে ভাঙন এলাকা থেকে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছে অনেকেই।
এদিকে শরীয়তপুরের নড়িয়ায় গতকাল এক অনুষ্ঠানে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম এমপি বলেছেন, বন্যা ও বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ সব স্থানে নদীভাঙন রোধে কাজ চলছে। এরই মধ্যে সারা দেশের মানুষকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। চলমান করোনা মহামারির মধ্যেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোতে পুরোদমে এগিয়ে চলছে বেড়িবাঁধের কাজ। তিনি আশা করেন, এবারের বর্ষা মৌসুমে সারা দেশে কোনো নদীভাঙন হবে না।
বিস্তারিত খবর: 
মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জে পদ্মার পানি এখনো বিপদসীমার  ওপর দিয়ে বইছে। ভাগ্যকূলে পদ্মার পানি ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে ১১ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। এতে পদ্মা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলের জনপদগুলো প্লাবিত হয়েছে। চরাঞ্চলের বহু এলাকা এখন জলমগ্ন। দ্রুত পানি আসার কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। টঙ্গিবাড়ীর দিঘিরপারে কান্দারবাড়ী-শরিষাবন বাঁধ ভেঙে প্রায় ১০০ একর জমিতে পানি ঢুকে পড়েছে। লৌহজংয়ের মেদিনীমণ্ডল ইউনিয়নের কান্দিপাড়া যশলদিয়া, কুমারভোগ, কনকসার, হলদিয়া, লৌহজং-টেউটিয়া ও গাঁওদিয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। শ্রীনগরের ভাগ্যকূলের আশপাশের নিম্নাঞ্চলে বন্যাতঙ্ক বিরাজ করছে। শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌপথে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে টঙ্গিবাড়ীর কান্দারবাড়ী-শরিষাবন বাঁধের প্রায় ১০ ফুট বিলীন হয়ে গেছে।
রাজবাড়ী : রাজবাড়ীর পদ্মা নদী অংশে পানি বাড়ছেই। গত ২৪ ঘণ্টায় গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া পয়েন্টে পদ্মার পানি ২ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৪৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া এখনো সদর উপজেলার মহেন্দ্রপুর ও পাংশার সেনগ্রাম পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপদসীমার  নিচে রয়েছে। তবে জেলার কোথাও এখনো বন্যার খবর পাওয়া যায়নি। তবে গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ও দেবগ্রামের তিনটি চর ও কালুখালীর হরিণবাড়িয়া চরের ফসলি জমিসহ নদীতীরবর্তী ফসলি জমিতে পানি উঠতে শুরু করেছে। এতে কৃষকদের ধান-পাট তলিয়ে যেতে শুরু করেছে।
কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রের পানি ধীরে ধীরে কমলেও ধরলার পানি ফের বাড়ছে। গতকাল শনিবার সকালে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার যথাক্রমে ৫৯ ও ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ধরলার পানি বাড়ায় সদর উপজেলা ছাড়াও ফুলবাড়ী, উলিপুর ও রাজারহাটের শতাধিক গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। পাশাপাশি তিস্তার পানি বেড়ে রাজারহাট ও উলিপুরের ছয়টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে ফসলের ক্ষেত ও কিছু ঘরবাড়ি।
ধুনট (বগুড়া) : বগুড়ায় যমুনা নদীর পানি কমে বিপদসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি ৬ সেন্টিমিটার কমেছে। অন্যদিকে বাঙ্গালী নদীর পানি বিপদসীমার বেড়ে  ৭০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বাড়ার ফলে এবার বাঙ্গালী নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে বন্যা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনটের ১৪টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম এখনো ডুবে আছে। বন্যা দুর্গত এলাকার পাট, ধানসহ ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। যমুনার প্রবল স্রোতে দেখা দিয়েছে ভাঙন। ভাঙনের কবলে এরই মধ্যে সারিয়াকান্দি উপজেলার চার শতাধিক বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
নীলফামারী : তিস্তার পানি ফের বেড়ে ডিমলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। গতকাল সকালে ওই উপজেলার ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন, ‘এর আগে বন্যার পানি নেমে গেলেও গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে পানি বাড়তে থাকে। গতকাল ভোরে আবারও পানি বাড়ায় বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।
গাইবান্ধা : গাইবান্ধার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি কমতে শুরু করলেও শনিবারও বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। শনিবার ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ৬৬ সেন্টিমিটার ও ঘাঘট নদীর পানি বিপত্সীমার ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এদিকে তিস্তার পানি ১৭ সেন্টিমিটার এবং করতোয়ার পানি ৪ সেন্টিমিটার বেড়ে এখনো বিপদসীমার নিচে রয়েছে। এদিকে গত শুক্রবার রাতে সাঘাটার জুমারবাড়ী-হলদিয়া সড়কের গোবিন্দপুর এলাকায় যমুনা নদীর পানির স্রোতে একটি পাকা সড়কের ২০০ ফুট ভেঙে গেছে। এদিকে সাঘাটার হলদিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়টি সপ্তাহের মধ্যেই যমুনাগর্ভে হারিয়ে গেছে।
সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি কিছুটা কমলেও এখনো বিপদসীমার ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারণে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে নিম্নাঞ্চলের ২১৬টি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ।
কিশোরগঞ্জ : ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে বিপর্যস্ত কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের সাহেবেরচর গ্রাম। প্রতিদিন এই নদে বিলীন হচ্ছে গ্রামের নতুন নতুন এলাকা, বসতবাড়ি। বিপন্ন লোকজন, মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে ছুটছে অজানা ঠিকানায়। গ্রাম রক্ষায় সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় ৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর কয়েক মাস চলে গেলেও এই কাজ শুরুই করেনি তারা। এ অবস্থায় পরিস্থিতি সামাল দিতে বাড়তি আরেকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ, যাতে খরচ হবে আরো কয়েক কোটি টাকা।
পীরগাছা (রংপুর) : পীরগাছার ছাওলা ইউনিয়নের দক্ষিণ গাবুড়া গ্রামটি বিলীনের পর পাশের হাগুরিয়া হাশিম ভাঙনের কবলে পড়েছে। তিস্তার ভাঙনে গত চার দিনে প্রায় অর্ধশত বাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙন হুমকিতে রয়েছে আরো শতাধিক বাড়ি।
সুনামগঞ্জ : সুরমা নদীর পানি কমলেও নিম্নাঞ্চলে পানি বাড়ছে। ফলে জেলা শহরের আশপাশের এলাকা নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে। শহরের বাইরেও নিম্নাঞ্চলে বন্যার পানিতে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। হাওরে এসে সুরমার পানি চাপ তৈরি করায় পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে। অনেকের ঘরবাড়িতে ঢুকে পড়েছে পানি। এতে দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এদিকে এখনো জেলা শহরের সঙ্গে বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, দোয়ারাবাজারসহ চারটি উপজেলার যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন আছে। বিভিন্ন স্থানে সড়ক ভেঙে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ৬১টি ইউনিয়নে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এতে ৬৬ হাজার ৮৬৯টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) : মির্জাপুরে নদীর পানির প্রবল চাপে ধল্যা-বিলপাড়া আঞ্চলিক সড়ক ভেঙে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সড়কটির গ্রামনাহালী আদাবাড়ী এলাকায় পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মিত চারটি কালভার্ট স্থানীয় প্রভাবশালীরা বন্ধ করে দেওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে পাশের বাসাইলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নসহ ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী দুই উপজেলার ২৫ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ বিপাকে পড়েছে।

About Sakal Bela

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!