Monday , 21 September 2020
Home » রাজনীতি » বামপন্থী » ’সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদের সাহস নেই নতজানু সরকারের’

’সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদের সাহস নেই নতজানু সরকারের’

অনলাইন ডেস্ক:
আজ রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ভিডিও কনফারেন্সে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদের সাহস নেই নতজানু সরকারের’।তিনি আরও বলেন, সীমান্তে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশিদের হত্যা করছে বিএসএফ। বাংলাদেশের ভেতর থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতনও চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন,গত তিন মাসে তারা ২৫ জন বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে। গত ২ জুলাইও তারা একজনকে হত্যা করেছে। ৪ জুলাই চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মানসিক ভারসাম্যহীন জাহাঙ্গীর আলমকে ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ভয়ংকর অমানবিক মনুষ্যত্বহীন ঘটনা দেশবাসীকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। অথচ বাংলাদেশ সরকার টুঁ শব্দটি পর্যন্ত করে না।
তিনি বলেন, নতজানু সরকার কোনো প্রতিবাদ করারও সাহস পাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে এ একপেশে হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে বাংলাদেশিরা। বর্তমান সরকার কতটুকু নতজানু যে এর আগে আমরা দেখেছি, বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীরা বিএসএফের হত্যাকাণ্ডের কোনো প্রতিবাদ না করে বরং তাদের গুলিতে নিহত বাংলাদেশিদেরই অভিযুক্ত করেছে। গত তিন মাসে বিএসএফ কর্তৃক সব হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
করোনাকালে মন্ত্রীদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, সরকারের মন্ত্রীরা ঘরে বসে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে দেশ চালাচ্ছেন। বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দলীয় সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়েছেন। করোনায় সয়লাব জনগণ কী মরণদশায় ভুগছে- এসব উপলব্ধি করার ক্ষমতাও তাঁদের নেই। যদি থাকত তাহলে করোনা পরীক্ষার ওপর ২০০ টাকা ফি ধার্য করত না। এ মহামারির মধ্যে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়াত না। বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিলের দাপটে সাধারণ মানুষের দম বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করত না। পাটকল বন্ধ ও পাটশ্রমিকদের ছাঁটাই করত না।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ঢাকা শহরে বাড়িওয়ালারা ভাড়াটিয়া খুঁজে পাচ্ছে না। সবাই ঢাকা ছেড়ে গ্রামমুখী হচ্ছে। স্বল্প আয়ের মানুষ করোনার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এর ওপর বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও জ্বালানি তেলের অত্যধিক মূল্যবৃদ্ধিতে তাদের জীবন ওষ্ঠাগত। শ্রমিক ছাঁটাই আর চাকরিচ্যুতির হিড়িক পড়ে গেছে দেশব্যাপী। চাকরি হারিয়ে আত্মহত্যা করছে মানুষ। এক নজিরবিহীন সংকটের মধ্যে পড়েছে মধ্য ও স্বল্প আয়ের মানুষ। সরকারের লোকেরা এ সংকটগুলোর ওপর নজর না দিয়ে জনদৃষ্টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে বিরোধী দলের ওপর ঝাঁক বেঁধে আক্রমণ শুরু করেছে। সেখানে শুধু মিথ্যা কথার ফুলঝুরি নয়, চলছে গুম, মিথ্যা মামলা, হামলা ও গ্রেপ্তারের হিড়িক।
‘বিএনপি নেতারা আইসোলেশন থেকে শুধু সংবাদ সম্মেলন করে’- তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, তথ্যমন্ত্রীর কাছে জানতে চাই-আপনাদের মন্ত্রী-এমপিরা কে মাঠে আছেন, কে জনগণের পাশে আছেন? আমরা তো দেখছি-আপনাদের এমপি মানবপাচারের জন্য মধ্যপ্রাচ্যে গ্রেপ্তার হচ্ছেন। আপনাদের মন্ত্রী-এমপিরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বলেই জনগণের পাশে দাঁড়ায়নি। বিএনপির তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতাকর্মীরা এ দুঃসময়ে বিভিন্ন সহায়তা নিয়ে কোটি কোটি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।
রিজভী আরো বলেন, অবশ্য জনগণ দেখছে-আপনাদের জনপ্রতিনিধিদের খাটের নিচ থেকে, মাটির নিচ থেকে, গ্যারেজের ভেতর থেকে শুধু চালের বস্তা, তেলের বস্তা বের হচ্ছে। এগুলো জনগণের টাকায় সরকারি ত্রাণ। আর আপনাদের দেখছি সেলফ লকডাউনে থেকে বিরোধী দল ও ভিন্ন মতের মানুষদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করতে।

About Sakal Bela

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*