Tuesday , 22 September 2020
Home » বিশ্ব সংবাদ » চীনের নজর এবার ভুটান, দিল্লির ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল?

চীনের নজর এবার ভুটান, দিল্লির ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
চীনের নজর এবার ভুটান, দিল্লির ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল।ভুটানের সাকটেঙ্গ অভয়ারণ্যকে নিজেদের বলে দাবি করে আন্তর্জাতিক মহলে সরব হয়েছে বেইজিং।
যদিও চীনের সেই দাবি নাকচ করে দিয়েছে ভুটান। প্রতিবেশী দেশের জমি দাবি করেই ক্ষান্ত হয়নি বেইজিং। ভারতকে বার্তা দিয়ে চীন বলেছে, চীন ও ভুটানের সীমান্ত বিরোধে যেন তৃতীয় পক্ষ হস্তক্ষেপ না করে।
বিশ্বজুড়ে পরিবেশ সংক্রান্ত প্রকল্পগুলোতে আর্থিক সাহায্য করতে ভার্চুয়াল বৈঠকের আয়োজন করে গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফেসিলিটি কাউন্সিল (জিইএফসি)।
ওই বৈঠকে ভারতের পাশাপাশি ভুটান, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন ভারতের আইএএস কর্মকর্তা অপর্ণা সুব্রহ্মণ্যম।
বৈঠকে হঠাৎ করেই সাকটেঙ্গ অভয়ারণ্যকে বিতর্কিত এলাকা হিসেবে দাবি করেন চীনের প্রতিনিধি। বেইজিংয়ের দাবি, ওই এলাকা নিয়ে বিবাদ রয়েছে৷ ফলে তা নিজেদের বলে দাবি করতে পারে না ভুটান৷
সাকটেঙ্গকে বিতর্কিত এলাকা প্রমাণ করে আর্থিক সাহায্য আটকে দেওয়া ছিল চীনের প্রকৃত উদ্দেশ্য। তবে, চীনের সেই উদ্দেশ্য সফল হয়নি।
তাদের আপত্তি সত্ত্বেও সাকটেঙ্গ অভয়ারণ্য উন্নয়নে ভুটানের জন্য বরাদ্দ অনুমোদিত হয়। তবে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে চীন ও ভুটানের দাবি কার্যবিবরণীতে স্থান পেয়েছে।
গত ২-৩ জুন কাউন্সিল বৈঠকের কার্যবিবরণী অনুযায়ী চীনের প্রতিনিধি বলেন, চীন-ভুটানের বিতর্কিত এলাকা হলো সাকটেঙ্গ অভয়ারণ্য। চীন-ভুটান সীমান্ত আলোচনার অন্যতম ইস্যু ছিল বিষয়টি। সে কারণে ওই অভয়ারণ্যের জন্য ভুটানের দাবির প্রতিবাদ করছে চীন। এমনকি কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের সঙ্গে চীন একমত নয়।
কাউন্সিলে ভুটান, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার হয়ে প্রতিনিধি জানান, কাউন্সিলে চীনের প্রতিনিধির দাবি উড়িয়ে দিয়েছে ভুটান। সাকটেঙ্গ অভয়ারণ্য ভূটানের অখণ্ড ও সার্বভৌম এলাকা। সীমান্ত বৈঠকে কোনো সময়ই বিতর্কিত ওই এলাকা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কথা হয়নি।
জানা গেছে, নয়াদিল্লিতে অবস্থিত চীনের দূতাবাসকে ভুটানের পক্ষ থেকে কড়া বার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে সাকটেঙ্গ অভয়ারণ্যর পুরোটাই তাদের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ৷ একে অপরের দেশে কোনো দূতাবাস না থাকায় ভুটান ও চীন দিল্লিতে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের মাধ্যমেই কাজ করে থাকে।
ভুটান-চীন ২৪ রাউন্ড সীমান্ত বৈঠক করেছে। আগামী বৈঠকে বেইজিং সাকটেঙ্গ অভয়ারণ্যের দাবি জানালে থিম্পু তার প্রতিবাদ করবে ও পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন করবে। ভুটানের পূর্বদিকে অবস্থিত ওই অভয়ারণ্যের জমি তাদের বলে এর আগে কখনো দাবি করেনি চীন।
গত শনিবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে হিন্দুস্তান টাইমকে বলা হয়, চীন এবং ভুটানের সীমানা কখনো সীমাবদ্ধ হয়নি। বহু দিন ধরেই পূর্ব, মধ্য ও পশ্চিমের সীমান্ত নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এই অংশ নিয়ে নতুন করে তাই বিতর্ক উঠে আসছে না। চীন-ভুটান সীমান্ত সমস্যা মেটাতে বেইজিং সবসময় আপস-সমাধানের পক্ষেই কথা বলেছে। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মন্তব্যেই সমস্যা আরো জটিল হয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে বলা হয়েছে, এক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ মানা হবে না। যা ভারতের প্রতি বেইজিংয়ের বার্তা বলে ধরে নিচ্ছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। পুরো বিষয়ের ওপর নজর রেখেছে দিল্লি। ভারতীয় কূটনীতিকদের বেশিরভাগই মনে করছেন, কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে চীনের বিস্তারবাদের এটা একটা উদাহরণ।

About Sakal Bela

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*