Wednesday , 30 September 2020
Home » বিশ্ব সংবাদ » মার্কিন টমাহুকের চারগুণ শক্তিশালী ‘ব্রাহ্মস’ নিয়ে লাদাখ সীমান্তে ভারত

মার্কিন টমাহুকের চারগুণ শক্তিশালী ‘ব্রাহ্মস’ নিয়ে লাদাখ সীমান্তে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
রাশিয়া যে মাঝারি পাল্লার সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বানিয়েছিল, ভারত দেশীয় প্রযুক্তিতে সেটারই উন্নত সংস্করণ তৈরি করে নাম দিয়েছে ব্রাহ্মস।
শব্দের চেয়েও দ্রুত গতি এই ব্রাহ্মসের। যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন থেকে হেলিকপ্টার, অ্যাটাক কপ্টার তার ত্রিসীমানায় আসা শত্রুপক্ষের যে কোনো সামরিক অস্ত্র নিমিষেই ধ্বংস করতে পারে ব্রাহ্মস।
মাটি, আকাশ, পানি; তিন জায়গা থেকেই ছোড়া যায় এই ক্ষেপণাস্ত্র। এর বেগ এতটাই বেশি যে একবার টার্গেটের দিকে ধাওয়া করলে মাঝপথে তাকে থামিয়ে দেওয়া প্রায় অসম্ভব। বিশ্বের অত্যাধুনিক ও শক্তিশালী এই ক্ষেপণাস্ত্র আছে ভারতের। শক্তিতে ও প্রযুক্তিতে যা টেক্কা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রকেও।
পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় উত্তেজনা যেভাবে বাড়ছে, তাতে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের প্রস্তুতি দরকার ভারতের। লাদাখে এরই মধ্যে কুইক রিঅ্যাকশন সারফেস টু এয়ার মিসাইল মোতায়েন করেছে ভারত। বিমান প্রতিরক্ষা সিস্টেমকে আরো মজবুত করতে ডিআরডিও (ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন)-র কাছ থেকে ‘নির্ভয়’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার ব্যাপারে ছাড়পত্র দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
রাশিয়ার কাছ থেকে আসছে সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান। সুখোই-এর এই বিমান থেকে ছোড়া যায় ব্রাহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র। তাছাড়া ভারতের তৈরি সুখোই-এর নতুন ভার্সন থেকেও ব্রাহ্মস নিক্ষেপ করার প্রযুক্তি রয়েছে।
জানা গেছে, রাশিয়ার এনপিওএম সংস্থার তৈরি ব্রাহ্মস ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মাঝারি পাল্লার। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর হাতে এই মাঝারি পাল্লার ব্রাহ্মস রয়েছে।
কিন্তু ভারতের ডিআরডিও এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা আরো বাড়িয়ে তাকে ক্ষিপ্র ও বিধ্বংসী করে তুলেছে। ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে থাকা ব্রাহ্মস পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ও দ্রুতগতির অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। এটি ভূমি থেকে ভূমিতে, আকাশ থেকে ভূমিতে এবং যুদ্ধজাহাজ থেকেও ছোড়া যায়। ব্রাহ্মসের হাইপারসনিক ভার্সন ব্রাহ্মস-২ নিয়ে এখন কাজ চলছে।
১৯৮৭ সালে ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (এমটিসিআর) নামে একটি সংগঠন তৈরি হয়। ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকা দেশগুলো এই সংগঠন তৈরি করে। ভারত সে সময় এই সংগঠনে ছিল না। পরে যুদ্ধাস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তিতে ভারত এতটাই অগ্রসর হয় যে ২০১৬ সালে এমটিসিআরের সদস্য হয়। এর পরেই সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইলের আধুনিকীকরণে একসঙ্গে যোগ দেয় ভারত ও রাশিয়া।
২০১৯ সালে ব্রাহ্মসের নতুন মডেলের পাল্লা বাড়িয়ে ৫০০ কিলোমিটার করেছিল ভারত। বর্তমানে রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই ক্রুজ মিসাইলের পাল্লা ৬০০ কিলোমিটারের বেশি রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রাহ্মসের নতুন মডেল শুধু দুরন্ত গতিতে ছুটবেই না, একেবারে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করবে।
তিন হাজার কিলোগ্রাম ওজনের ব্রাহ্মস লম্বায় প্রায় ২৮ ফুট। তবে আকাশ থেকে নিক্ষেপের মডেলের ওজন আড়াই হাজার কিলোগ্রামের কাছাকাছি। ২০০ কিলোগ্রাম ওজনের ওয়ারহেড রয়েছে। এটি নিক্ষেপ করার জন্য রয়েছে সলিড রকেট বুস্টার ইঞ্জিন ও লিকুইড র‍্যামজেট ইঞ্জিন।
ব্রাহ্মস একই সঙ্গে ক্রুজ মিসাইল, বিমান থেকে নিক্ষেপ করা ক্রুজ মিসাইল, জাহাজ থেকে নিক্ষেপ করা মিসাইল, ভূমি থেকে নিক্ষেপ করা মিসাইল রয়েছে। প্রতিরক্ষার তিন স্তম্ভ স্থলবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর হাতে রয়েছে ব্রাহ্মস। এর গতি ঘণ্টায় ৩৭০০ কিলোমিটার। সেখানে মার্কিন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র টমাহুকের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯০ কিলোমিটার। ভারতের ব্রাহ্মসের গতি এর চার গুণ।

About Sakal Bela

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!