Wednesday , 30 September 2020
Home » দৈনিক সকালবেলা » রাজধানী » ওয়ারীতে লকডাউন চলছে নামকাওয়াস্তে

ওয়ারীতে লকডাউন চলছে নামকাওয়াস্তে

অনলাইন ডেস্ক:
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে (ওয়ারীর একাংশ) কার্যত নামকাওয়াস্তে লকডাউন চলছে। ডাক্তার, নার্স, সংবাদকর্মী ও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অন্য কারোরই এলাকা থেকে বের হওয়ার কথা না। কার্যত যারাই ইচ্ছে করছেন, তারাই বের হতে পারছেন। যে দুটি রাস্তা কেবল খোলা রাখা হয়েছিল যাতায়াতের জন্য, সে দুটি দিয়েও দেদার বের হচ্ছেন। গেটে পুলিশ সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকরা একটু-আধটু বাধা দিলেও বের হতে ইচ্ছুক ব্যক্তি একটু ঝাড়ি দিলেই তারা না করছেন না।
এদিকে ওয়ারী এলাকায় স্থাপিত করোনার নমুনা সংগ্রহ বুথে যারা নমুনা দিচ্ছেন, তাদের ৫০ শতাংশই করোনা পজিটিভ হিসেবে ধরা পড়ছে। এ অবস্থায় ওয়ারী এলাকার লকডাউন শক্তভাবে পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।
ওয়ারীতে লকডাউনের চতুর্থ দিন গতকাল মঙ্গলবার দেখা গেছে একেবারেই ঢিলেঢালা ভাব, আগের তিন দিনের মতোই। এলাকায় একটি ওষুধ কোম্পানির কারখানা চালু আছে। তিন শিফটে কাজ করছেন কর্মচারী-কর্মকর্তারা। বেশিরভাগ কর্মচারী অন্য এলাকার বাসিন্দা। প্রতি আট ঘণ্টা পরপর শ্রমিকরা আসা-যাওয়া করছেন। ওই কারখানার লোকজনকে যাতায়াতে বাধা না দেওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন ওয়ারীর বাসিন্দারা। তারা বলছেন, ওষুধ কারখানার লোকজন প্রতিদিনই বাইরে থেকে আসছেন। আবার অফিস শেষে ফিরে যাচ্ছেন। তাহলে ওয়ারীর বাসিন্দাদের এলাকার বাইরে কর্মস্থলে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে কেন?
গতকাল দুপুর ১২টার দিকে এক ব্যবসায়ী জানান, বঙ্গবাজারে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। লকডাউনের প্রথম দু’দিন অনেক অনুরোধ করায় তাকে এলাকা থেকে যেতে দেওয়া হয়েছিল। সোমবার কোনোভাবেই তাকে বের হতে দেওয়া হয়নি। যে কারণে গতকাল এক প্রকার জোর করেই বের হন তিনি।
ওয়ারী থানার ওসি আজিজুর রহমান বলেন, ‘মানুষ অকারণে বের হতে চায়। এটাই বড় সমস্যা।’
লকডাউন এলাকায় তিনটি সুপারশপ খোলার অনুমতি রয়েছে। এসব সুপারশপে পণ্যর দাম বেশি রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ। ক্রেতারা বলছেন, এসব সুপারশপ থেকে তারা লকডাউনের আগে যে মূল্যে পণ্য কিনেছেন, এখন তার চেয়ে অনেক বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে। অন্য দোকানপাট বন্ধ থাকার সুযোগ নিচ্ছে তারা।
এদিকে গতকাল ডিএসসিসি মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ওয়ারীর লকডাউন নিয়ে নগর ভবনে একটি পর্যালোচনা সভা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আরও একটু কঠোরভাবে লকডাউন বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছি। আমরা বুঝি, এলাকাবাসীর অনেক সমস্যা হচ্ছে। তাদের জীবিকা নির্বাহসহ ব্যবসা-বাণিজ্য ও চলাফেরার অনেক অসুবিধা হচ্ছে। আমি অনুরোধ করব, আপনারা ধৈর্য ও সহনশীলতার সঙ্গে সেটা পালন করবেন।’
তাপস বলেন, ‘গত ৪ জুলাই থেকে ওয়ারীর ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে লকডাউন শুরুর পর নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, চিকিৎসাসেবাসহ সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আমরা এ ব্যাপারে সন্তুষ্ট। এই করোনা মহামারি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আমাদের যেসব নির্দেশনা ও বিধি দেওয়া হয়েছে, সেগুলো সবাইকে পালন করা খুবই আবশ্যক।’
বৈঠকে ডিএসসিসি মেয়র আরও বলেন, ‘গত তিন দিনে এলাকায় সংক্রমণের যে হার দেখা গেছে, ওয়ারীতে নমুনা সংগ্রহের প্রায় ৫০ ভাগের বেশি মানুষের সংক্রমণ ধরা পড়ছে। তাই লকডাউন কঠোরভাবে পালন করতে হবে।’

About Sakal Bela

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!