Thursday , 24 September 2020
Home » দৈনিক সকালবেলা » পাচঁফোড়ন » দুর্নীতিবাজ যে দলেরই হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি, নেব

দুর্নীতিবাজ যে দলেরই হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি, নেব

সংসদ প্রতিবেদক:
গতকাল বৃহস্পতিবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, ‘দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িতদের আমরা ধরে যাচ্ছি। দুর্নীতিবাজ যে দলেরই হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি, নেব। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্তদের শাস্তি দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়ার পরও সমালোচিত হওয়ায় ‘চোর ধরে আমরাই যেন চোর হয়ে যাচ্ছি’ বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘দুর্নীতির সাথে জড়িত, অনিয়মে জড়িত, আমরা যাকেই পাচ্ছি এবং যেখানেই পাচ্ছি তাকে ধরছি। আর ধরছি বলেই, চোর ধরে আমরাই যেন চোর হয়ে যাচ্ছি। আমরা ধরি আবার আমাদেরকেই দোষারোপ করা হয়। এটাই হচ্ছে দুর্ভাগ্য। এর আগে তো দুর্নীতিটাই নীতি ছিল। অনিয়মটাই নিয়ম ছিল। সেভাবেই রাষ্ট্র চলেছে।’ তিনি বলেন, ‘যত দূর পারি শুদ্ধ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এই অনিয়মগুলো আমরা নিশ্চয়ই মানব না।’
প্রশ্ন হলো কয়জন সমালোচক মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন 
প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ ও দলের সব সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য যেসব কাজ করে যাচ্ছেন তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের তো অনেক রাজনৈতিক দল আছে। সমালোচনা অনেকেই করে যাচ্ছে। এমনকি বহু এনজিও, অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। ঠিক বর্তমানে কতজনকে চোখে পড়ে যারা কাজ করছে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে? সেটাই আমার প্রশ্ন।’
সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে সংসদ নেতা বলেন, ‘ঘরে বসে সমালোচনা, বাজেটের খুঁত ধরা, কাজের খুঁত ধরা সেগুলো অনেকেই ধরতে পারেন, এটা ঠিক। কিন্তু মাঠে গিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানুষকে সেবা করা, এই কাজগুলো কিন্তু আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সৈনিক যারা, আমরাই মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। কারণ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে জন্মলগ্ন থেকে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এবং এখনো দাঁড়িয়েছে।’
চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার
করোনাভাইরাস সংকটে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে সরকারের কাজ করে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইতিমধ্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য আমরা দুই হাজার ডাক্তার ও ছয় হাজার নার্স নিয়োগ দিয়েছি। পাশাপাশি আরো দুই হাজার ডাক্তারের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। তা ছাড়া হেলথ টেকনোলজিস্ট, কার্ডিওগ্রাফার এবং ল্যাব অ্যাটেনডেন্টের তিন হাজার পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। আমরা সেগুলোও দেব।’ তিনি বলেন, ডাক্তার, নার্স ও টেকনিশিয়ানদের থাকা-খাওয়াসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
মিলিটারি ডিক্টেটরশিপ মানুষের চরিত্র চরিত্র হরণ করেছে
করোনাকালে স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি নিয়ে বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের মানুষের চরিত্র নষ্ট করে দিয়ে গেছে ১৯৭৫-এর পরে যারা রাতের অন্ধকারে অস্ত্র হাতে নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল তারাই। কারণ অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে সেই ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য এরা মানুষকে দুর্নীতি শিখিয়েছে, কালো টাকা ও ঋণখেলাপি শিখিয়েছে। তারা এই সমাজটাকে কলুষিত করে গেছে। মানুষ আগে যে একটা আদর্শ ও নীতি নিয়ে চলত, দীর্ঘদিন এ দেশে মিলিটারি ডিক্টেটরশিপ মানুষের চরিত্র হরণ করেছে। কারণ তাদের অবৈধ ক্ষমতাটাকে নিষ্কণ্টক করাই ছিল তাদের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, সামরিক স্বৈরশাসকরা বছরের পর বছর এই দুর্নীতির বীজ বপন করেছে। তা মহীরুহ হয়ে গেছে। যতই কাটেন কোথা থেকে আবার গজিয়ে ওঠে। মানুষের চরিত্রটাই নষ্ট করে দিয়ে গেছে তারা। এই চরিত্রহীনতা একেবারে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত ছিল। সেখানে আপনি যতই চেষ্টা করেন এর মূলোৎপাটন যথেষ্ট কঠিন। তিনি বলেন, তার পরও এর মধ্যে যে খবরগুলো পাচ্ছেন, এটা কারা করছেন? আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর দল-মত-নির্বিশেষে দুর্নীতিবাজদের ধরছে।
করোনায় মনে সাহস রাখতে হবে
শেখ হাসিনা বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কথা শুনলেই মানুষ ভয়ে আতঙ্কিত হয়। এত আতঙ্কিত হব কেন। মরতে তো একদিন হবেই। তবে নিজে সুরক্ষিত থাকার জন্য স্বাস্থ্যবিধিসহ যা যা মেনে চলা দরকার, তা করবেন। আমরা যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি, তাহলে করোনা সংক্রমণ থেকে মুক্তি পাব। আমাদের দেশে করোনা রোগীর সুস্থতার হার অনেক বেশি। তাই মনে সাহস রাখতে হবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘করোনা শুনলেই মানুষের মৃত্যুভয় পেয়ে বসে। কিন্তু ভয়কে জয় করতে হবে। মৃত্যু তো আছেই, মৃত্যু অবধারিত। তাই বলে মরার আগে মরব না, মরণকে জয় করতে হবে। করোনা জয় করে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলব।’
আধুনিক পাটকল করব, চাকরি পাবে অভিজ্ঞরা
বস্ত্র-পাটকলগুলোর শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হবে এবং পাটকলগুলো আধুনিকায়ন করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘বিশ্বে পাটের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাটের সম্ভাবনা রয়েছে।’ সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী এ বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এ পাটকলগুলোকে সময়োপযোগী ও আধুনিক করতে হবে। আমরা সেটা করব। শ্রমিকদের পাওনা পাঁচ হাজার কোটি টাকা দিয়ে আমরা পরিশোধ করব। সব টাকা তাদের হাতে দেওয়া হবে না। দিলে খরচ হয়ে যাবে। অর্ধেক টাকা আমরা তাদের পারিবারিক সঞ্চয়পত্র করে দেব। এতে তারা প্রতিদিনের মজুরির চেয়ে বেশি পাবে। এ পাটকলগুলো আধুনিক করে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তাদের যারা আগ্রহী হবে, তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো যাবে।’
বন্যা মোকাবেলার প্রস্তুতি রয়েছে
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা তো আছেই। এরই মধ্যে ঘূর্ণিঝড় গেল। এখন এলো বন্যা। ইতিমধ্যে উত্তরাঞ্চলে কয়েকটি জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। এই বন্যার পানি নেমে এলে দক্ষিণাঞ্চল প্লাবিত হবে। ইতিমধ্যে মধ্য অঞ্চলে বন্যায় প্লাবিত হতে শুরু করেছে। এ জন্য আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। কোনো দুর্যোগ আসার পর যাতে ত্রাণের অপেক্ষা করতে না হয় তার জন্য আগাম ব্যবস্থা রেখে দিয়েছি। আমরা জেলায় জেলায় বরাদ্দ দিয়ে রেখেছি। দেশের প্রকৃত অবস্থা জেনেই ব্যবস্থা নিই মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে। মানুষের কষ্ট যাতে কমাতে পারি সেদিকে লক্ষ রেখে পদক্ষেপগুলো নিয়ে থাকি।’ তিনি বলেন, ‘জিনিসের দাম যেন নিয়ন্ত্রণে থাকে সেই ব্যবস্থা নিয়ে যাচ্ছি। যেভাবে হোক দেশের অর্থনীতি যেন গতিশীল থাকে সেই ব্যবস্থা করতে হবে।’

About Sakal Bela

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!