Wednesday , 30 September 2020
Home » দৈনিক সকালবেলা » বিভাগীয় সংবাদ » দেশগ্রাম » একটি সেতুর অভাবে ১২ গ্রামের ছাত্র-ছাত্রীসহ লক্ষাধিক মানুষ চরম ভোগান্তিতে

একটি সেতুর অভাবে ১২ গ্রামের ছাত্র-ছাত্রীসহ লক্ষাধিক মানুষ চরম ভোগান্তিতে

অনলাইন ডেস্ক:
কুড়িগ্রামের উলিপুরে একটি সেতুর অভাবে ১২ গ্রামের ছাত্র-ছাত্রীসহ লক্ষাধিক মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। গত বছর বন্যার পানির তোড়ে সেতুসহ সংযোগ সড়ক ভেঙে গেলে তা আজও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন গ্রামবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে বাঁশ, রশিসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছেন। প্রতিদিন বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে গ্রামবাসীরা ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হলেও জনপ্রতিনিধিদের নজর পড়ে না।
উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের বড়ুয়া তবকপুর গ্রামের উলিপুর-আদর্শগ্রামগামী সড়কের চুনিয়ারপাড় নামক স্থানে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। ২০১৯ সালে ভয়াবহ বন্যার পানির তোড়ে সংযোগ সড়কের এক পাশের মাটি ধসে গেলে ব্রিজটিও দেবে যায়। ফলে আশপাশের ১২টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ উপজেলা সদরের সঙ্গে  যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বর্ষা মৌসুমে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ এসব গ্রামের মানুষকে পানিতে ভিজে দুর্ভোগে পারাপার করতে হলেও জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের টনক নড়েনি। ব্রিজের পূর্ব পাশের বাসিন্দারা গুরুতর অসুস্থ হলে ২০ কিলোমিটার পথ ঘুরে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। ব্রিজটি পুনর্নির্মাণসহ সংযোগ সড়কটি মেরামতের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি বলে গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেন।
গ্রামবাসীরা ঝুঁকি নিয়েই বাঁশের তৈরি সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা আবু তাহের, জয়নাল হোসেন, কাইয়ুম সরকার, এন্তাজ আলীসহ অনেকের সঙ্গে কথা হলে তাঁরা জানান, গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন উলিপুর উপজেলা ও চিলমারী উপজেলার সহস্রাধিক মানুষ যাতায়াত করে। কিন্তু ব্রিজ না থাকায় পার্শ্ববর্তী নয়াগ্রাম, শেখপাড়া, তেলিপাড়া, ব্যাপারীপাড়া, ঘুঘুরহাট, পাইকপাড়া, চুনিয়ার পাড়সহ প্রায় ১২টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী খায়রুল কবীর মো. সাদেকুল ইসলাম বলেন, পুনর্নির্মাণ ছাড়া ওই ব্রিজটি সংস্কার করার কোনো সুযোগ নেই। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজটির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ এলে যত দ্রুত সম্ভব ব্রিজটি পুনর্নিমার্ণের কাজ শুরু করা হবে।

About Sakal Bela

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!