Wednesday , 30 September 2020
Home » দৈনিক সকালবেলা » পাচঁফোড়ন » শিল্প ও সেবা খাতে ৪৬ বছরে গড়ে তোলেন ৪১ টি প্রতিষ্ঠান

শিল্প ও সেবা খাতে ৪৬ বছরে গড়ে তোলেন ৪১ টি প্রতিষ্ঠান

অনলাইন ডেস্ক:

’প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাই ব্যবসার ‘পরশপাথর’—এটাই ছিল তাঁর মূল দর্শন’

মেধা, দক্ষতা, পরিশ্রম ও সাহসিকতার মাধ্যমে শিল্প ও সেবা খাতে ৪৬ বছরে গড়ে তোলেন ৪১ টি প্রতিষ্ঠান। শূন্য থেকে শুরু করে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতির কাতারে উঠে এসেছিলেন দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুল। বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ কাজ করছে এই যমুনা গ্রুপে। তাঁর নেতৃত্বে চার দশক ধরে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে এই শিল্পগোষ্ঠী।
এশিয়ার সবচেয়ে বড় শপিং মল যমুনা ফিউচার পার্ক, নির্মাণাধীন ম্যারিয়ট হোটেলসহ শিল্প ও সেবা খাতে শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে গ্রুপটি। ইলেকট্রনিকস, বস্ত্র, ওভেন গার্মেন্ট, রাসায়নিক, চামড়া, মোটরসাইকেল, বেভারেজ টয়লেট্রিজ, নির্মাণ ও আবাসন খাতের ব্যবসায় শীর্ষস্থানে রয়েছে এই গ্রুপ।
যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে নুরুল ইসলাম তাঁর কর্মীদের প্রকৃত মানবসম্পদ হিসেবে বিবেচনা করতেন। প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাই ব্যবসার ‘পরশপাথর’—এটাই ছিল তাঁর মূল দর্শন। শুধু তা-ই নয়, কম্পানির সেবাগ্রহীতাদের প্রতিও তিনি যথেষ্ট অনুগত ছিলেন। তিনি মনে করতেন, এই মানবসম্পদই কম্পানির অব্যাহত উন্নতি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করে। ব্যবসায় উদ্যোগের প্রতিটি স্তরের কর্মীদের প্রাধান্য দিয়ে একটি শক্তিশালী দল গড়ে তোলার ব্যাপারে দৃঢ়প্রত্যয়ী ছিলেন তিনি।
তাঁর বিশ্বাস ছিল, একমাত্র দক্ষ শ্রমিকরাই কম্পানি ও শিল্পের আসল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য উপলব্ধি করতে পারেন। শিল্প খাত নিয়ে তাঁদের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা আছে। একমাত্র কর্মীরাই জানেন, বাজারের অসংখ্য প্রতিযোগীর মধ্যে কিভাবে টিকে থাকতে হয়।
সমৃদ্ধি ও উন্নতি মানে পরিবেশ, সমাজ ও অর্থনীতির মধ্যে একটি ভারসাম্য গড়ে তোলা—এই মনোভাব নিয়েই যমুনা গ্রুপ গড়ে তোলেন নুরুল ইসলাম। পরিবেশ ও প্রকৃতির প্রতি দায়বদ্ধ থেকেই তিনি সব কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। এশিয়ার সর্ববৃহৎ শপিং মল যমুনা ফিউচার পার্ক তৈরি করে চমক দেখান এই শিল্পপতি। এ ছাড়া ঢাকার বারিধারায় নির্মাণাধীন ম্যারিয়ট হোটেলের মালিকানাও রয়েছে যমুনা গ্রুপের হাতে।
নুরুল ইসলাম বাবুল ১৯৭৪ সালে যমুনা গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। যমুনা ইলেকট্রনিক ম্যানুফ্যাকচারিং কম্পানি লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করার মধ্য দিয়ে শুরু হয় নুরুল ইসলামের প্রথম পথচলা। পরের বছর ১৯৭৫ সাল থেকেই এর আওতায় বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ উৎপাদন শুরু হয়। এরপর একে একে শিল্প ও সেবা খাতে গড়ে তোলেন ৪১টি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান। গত ৪৬ বছরে যমুনা গ্রুপ বৈদ্যুতিক, ইঞ্জিনিয়ারিং, রাসায়নিক, চামড়া, গার্মেন্ট ও টেক্সটাইলসহ স্পিনিং, বুনন ও রঞ্জন, কসমেটিকস, বেভারিজ, আবাসন, হাউজিং, প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া খাতে অর্থ লগ্নি করেছে। স্থানীয় ও বৈশ্বিক উভয় বাজারে যমুনা গ্রুপের পণ্যের সুনাম রয়েছে। জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ভারত ও ইতালি থেকে প্রযুক্তি ও যন্ত্রাংশ আমদানির মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে সেরা কোয়ালিটির পণ্য উৎপাদন করে ‘টেক্সটাইলের নতুন বিশ্ব’ গড়ে তুলেছে যমুনা গ্রুপ।
যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলামের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পুরস্কৃত হয়েছে। ব্যাবসায়িক সাফল্যের জন্য ২০০০-২০০১ সালে শামীম কম্পোজিট মিলস লিমিটেড পায় জাতীয় রপ্তানি স্বর্ণপদক, ১৯৯৮-১৯৯৯ সালে শামীম স্পিনিং মিলস লিমিটেড পায় জাতীয় রপ্তানি রৌপ্যপদক, ১৯৯৮-১৯৯৯ সালে যমুনা নিটিং অ্যান্ড ডায়িং লিমিটেড লাভ করে জাতীয় রপ্তানি ব্রোঞ্জপদক। এ ছাড়া ১৯৯৮-১৯৯৯ স্ক্যান সিমেন্টের (হাইডেলবার্গ সিমেন্ট গ্রুপ) ‘বেটার বিল্ডিং বেটার উইনিং কম্পিটিশন ২০০২ জিতে নেয় যমুনা বিল্ডার্স লিডিটেড। একই বছর জার্মানির মাইলস হ্যান্ডেল গিসেলশ্যাপ্ট ইন্টারন্যাশনাল এমবিএইচ অ্যান্ড কম্পানি পুরস্কার লাভ করে যমুনা নিটিং অ্যান্ড ডায়িং লিমিটেড।
এই গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় আছে দৈনিক যুগান্তর, যমুনা ফিউচার পার্ক, যমুনা টিভি, যমুনা হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড, ক্রাউন বেভারেজ, যমুনা নিটিং অ্যান্ড ডায়িং, যমুনা ডেনিমস, যমুনা স্পিনিং মিলস, শামীম স্পিনিং মিলস, শামীম কম্পোজিট মিলস, শামীম রোটোর স্পিনিং, শামীম গার্মেন্ট, যমুনা ডেনিমস গার্মেন্ট, যমুনা ডেনিমস ওয়েভিং, প্যাগাসাস লেদারস, যমুনা ডিস্ট্রিলারি লিমিটেড, যমুনা ওয়েল্ডিং ইলেক্ট্রোড, যমুনা ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড অটোমোবাইলস, যমুনা টায়ার অ্যান্ড রাবারস ইন্ডাস্ট্রিজ, যমুনা পেপারস মিলস, যমুনা আয়রন অ্যান্ড স্টিল মিলস, যমুনা গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজ, যমুনা পাওয়ার, যমুনা প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিং, যমুনা ফ্যান অ্যান্ড কেবলস, যমুনা পলি সিল্ক, যমুনা লজিস্টিক অ্যান্ড শিপিং, যমুনা বিল্ডার্স, যমুনা গ্যাস, হোলসেল ক্লাব, যমুনা ওয়াশিং, হুরিয়ান এইচটিএফ,  যমুনা মিডিয়া, লন প্রসেসিং, যমুনা ইলেকট্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং, যমুনা ফুডস, হোরক্যাচার, যমুনা ব্রেয়ারি অ্যান্ড বেভারেজ, যমুনা ডেনিমস টেকনোলজি লিমিটেড।
কুড়িল বিশ্বরোড ৩০০ ফিটের পাশেই একটি আন্তর্জাতিকমানের হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনা ছিল এই শিল্পপতির। প্রাথমিক আলাপ-আলোচনা শুরুও করেছিলেন। এর আগেই চলে গেলেন এই গুণী ব্যবসায়ী।

About Sakal Bela

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!