Wednesday , 30 September 2020
Home » দৈনিক সকালবেলা » বিভাগীয় সংবাদ » দেশগ্রাম » সুন্দরগঞ্জে বন্যা পরিস্থতির অবনতি, আশ্রয় খুঁজছে মানুষ

সুন্দরগঞ্জে বন্যা পরিস্থতির অবনতি, আশ্রয় খুঁজছে মানুষ

অনলাইন ডেস্ক:
কয়েক দিনের টানা ভারি বর্ষণ আর উজানের ঢলে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। প্রতিদিন প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। তিস্তার পানি ৭ সেন্টিমিটার কমলেও ব্রহ্মপুত্রের ৩ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আর ঘাঘট নদীর পানি ৪৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।
আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে তিস্তার পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর ব্রহ্মপুত্রের পানি ফুলছড়ি পয়েন্টে ৭০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৮ ইউনিয়নের ১০ হাজার ৮৩০ পরিবারের ৪৩ হাজার মানুষ। বন্যার পানি থেকে রক্ষা পেতে আশ্রয়কেন্দ্র ও উঁচু এলাকায় অবস্থান নিয়েছে বানভাসিরা।
উপজেলার ভেতর দিয়ে বয়ে চলা তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ জনপদ। নিম্নাঞ্চলের পাশাপাশি উঁচু এলাকায় পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। প্রমত্ত তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি হুহু করে বাড়তে থাকায় চরাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বেলকা, হরিপুর, কাপাসিয়া, শ্রীপুর, চন্ডিপুর, তারাপুর, শান্তিরাম ও কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের ১০ হাজার ৮৩০ পরিবার। তলিয়ে গেছে কাঁচাপাকা বাড়িঘর ও ফসলি জমি। বন্যার্তদের সরকারিভাবে উদ্ধারের ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই পরিবার-পরিজন, গবাদি পশু-পাখি নিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ ও উঁচু স্থানসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে। এতে গবাদিপশু গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি নিয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে বানভাসিরা। বন্যার পানিতে বাড়িঘর নিমজ্জিত থাকায় রান্নার অভাবে অনাহারে-অর্ধাহারে জীবনযাপন করছেন তারা। গৃহহারা হয়ে খোলা আকাশের নিচে তাবু টাঙিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন অনেকেই। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বানভাসিদের মধ্যে তীব্র খাদ্যভাব দেখা দিয়েছে। অনেকেই খেয়ে না-খেয়ে দিনাতিপাত করছে। বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার ও জ্বালানি না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে এসব পরিবার।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্র জানায়, উপজেলায় ৮টি ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার ৮৩০ পরিবারের ৪৩ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে তারাপুর ইউনিয়নে ৪০০, বেলকায় দুই হাজার, হরিপুরে ৩ হাজার ৫০০, কঞ্চিবাড়ীতে ৪০০, শ্রীপুরে ৩৫০, চন্ডিপুরে ৪৭০ ও কাপাসিয়া ইউনিয়নে ৩ হাজার ৬৩০ পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। তবে সরকারি হিসাবের চেয়ে প্রকৃত পানিবন্দির মানুষের সংখ্যা আরো বেশি। তাদের অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। খাদ্য সঙ্কটে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, তিস্তা নদীর পানি ৭ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি আরো ৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী লুতফুল হাসান বলেন, পানিবন্দি মানুষদের জন্য ২৫ আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বানভাসিদের জরুরি খাদ্য সহায়তা হিসেবে এ পর্যন্ত ১০ মেট্রিকটন চাল ও নগদ ৫০ হাজার টাকার শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

About Sakal Bela

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!