Saturday , 26 September 2020
Home » দৈনিক সকালবেলা » পাচঁফোড়ন » ৭ই মার্চকে ‘জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস’ হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব অনুমোদন

৭ই মার্চকে ‘জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস’ হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব অনুমোদন

অনলাইন ডেস্ক:
৭ই মার্চকে ‘জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস’ হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার। মহান স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন ৭ই মার্চ।
গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে প্রথমবারের মতো ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।
একই সঙ্গে বৈঠকে আসন্ন ঈদুল আজহায় ছুটি না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঈদের ছুটি পূর্বনির্ধারিত তিন দিন বা চার দিন। এই সময় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ নিজ কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না। অর্থাৎ যাঁর যেখানে কর্মস্থল, তাঁকে ঈদের ছুটিতে ওই এলাকায়ই থাকতে হবে।
এ ছাড়া মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে খুলনায় একটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় এসংক্রান্ত আইনের খসড়া অনুমোদন পেয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিবালয়ে বৈঠকের বিস্তারিত জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।
৭ই মার্চ ‘জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস’ হচ্ছে  মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, একাত্তরের যে দিনটিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন, সেই ৭ই মার্চকে ‘জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস’ হিসেবে ঘোষণা এবং দেশের সব জেলা-উপজেলায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণের বিষয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব তুলেছিল। এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর ৭ই মার্চকে ‘জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস’ ঘোষণার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
চলতি বছরের শুরুতে একটি রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এক আদেশে ৭ই মার্চকে ‘জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস’ ঘোষণা করে এক মাসের মধ্যে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে প্রতি উপজেলায় জাতির জনকের ম্যুরাল নির্মাণের আদেশও দিয়েছিলেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘বর্ণিত রিটের রুলে প্রদত্ত নির্দেশনাসমূহ জন-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বিধায় ৭ই মার্চকে জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস ঘোষণার বিষয়ে মতামত চেয়ে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পাঠানো পত্রের অনাপত্তি পাওয়া গেছে।’ তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ এ দেশের স্বাধীনতার মূল প্রেরণা। বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে এর স্বীকৃতি দিয়ে ইউনেসকো ভাষণটিকে এরই মধ্যে মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করেছে।’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, অর্থ বিভাগ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে জাতীয় পর্যায়ের দিবস পালনের তালিকায় ৭ই মার্চকে ‘ক’ ক্যাটাগরিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে জাতীয়ভাবে উদযাপনের সম্মতি প্রদান করেছে।
মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘৭ই মার্চ এবং স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে সরকার অনেক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড হাতে নিয়েছে। তাই মন্ত্রিসভা আলাদাভাবে বঙ্গবন্ধুর কোনো ম্যুরাল নির্মাণ করার প্রয়োজন নেই বলে মনে করে। কারণ ওই প্রগ্রামের মধ্যেই অনেক কিছু আছে। হাইকোর্টকে এ জিনিসটি অবহিত করা হবে। পুরো যে প্রকল্প বাস্তবায়িত করা হচ্ছে হাইকোর্ট সম্ভবত সে বিষয়ে অবহিত না। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এখন হাইকোর্টে বিষয়টি উপস্থাপন করবে।’
বাংলাদেশের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা মানুষের মধ্যে যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, সেই ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সাত কোটি বাঙালিকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ঘোষণা দেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’।
তাঁর ওই ভাষণের ১৮ দিন পর পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালি নিধনে নামলে বঙ্গবন্ধুর ডাকে শুরু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ। ৯ মাসের সেই সশস্ত্র সংগ্রামের পর আসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। একাত্তরের ১৬ই ডিসেম্বর পরাজিত পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই আত্মসমর্পণের দলিলে সই করে। বিভিন্ন দেশের ৭৭টি ঐতিহাসিক নথি ও প্রামাণ্য দলিলের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকে ‘ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ হিসেবে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে’ যুক্ত করেছে ইউনেসকো।
ঈদে বাড়ছে না ছুটি, কর্মস্থল ত্যাগ করা যাবে না
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘ঈদের সময় যে নির্ধারিত ছুটি আছে, এই ছুটি আর বাড়ানো হবে না। এবার কেউ কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবে না।’ গত ঈদুল ফিতরের সময় সরকার বাড়তি ছুটি দিয়েছিল। করোনা পরিস্থিতি চলমান থাকায় কোরবানির ঈদেও ছুটি বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা ভাবছিল কেউ কেউ।
আজ মঙ্গলবার আরবি জিলকদ মাসের ২২ তারিখ। আসছে জিলহজ মাসের ১০ তারিখ কোরবানির ঈদ উদ্যাপিত হবে। জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা অনুযায়ী, এবার ৩১ জুলাই বা ১ আগস্ট কোরবানির ঈদ হতে পারে। তবে পূর্বনির্ধারিত সরকারি ক্যালেন্ডারে ১ আগস্ট ঈদ হবে ধরে নিয়ে ৩১ জুলাই, ১ ও ২ আগস্ট ঈদের ছুটি নির্ধারণ করা আছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে যদি কোনো কারণে ঈদ ৩১ জুলাই হয়, তাহলে ৩০ জুলাইও সরকারি ছুটি থাকবে, সে ক্ষেত্রে ঈদের ছুটি হবে চার দিন।
খুলনায় শেখ হাসিনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনের খসড়া অনুমোদন
মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে খুলনায় একটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় এসংক্রান্ত আইনের খসড়া অনুমোদন পেয়েছে। মন্ত্রিপরিষদসচিব জানান, সব বিভাগীয় শহরে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সরকারি পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ‘শেখ হাসিনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইন, খুলনা ২০২০’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। চিকিত্সাক্ষেত্রের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা, গবেষণা, সেবার মানোন্নয়ন ও সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণই এই আইন প্রণয়নের লক্ষ্য।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন। অন্যদিকে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মন্ত্রিসভা কক্ষ থেকে সাতজন মন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদসচিব ও সংশ্লিষ্ট সচিবরা ভার্চুয়ালি বৈঠকে যোগ দেন। সচিবালয় থেকে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক, রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন এবং সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বৈঠকে যুক্ত হন। করোনা পরিস্থিতি সৃষ্টির পর থেকে সব মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের নিয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠক করছেন না সরকারপ্রধান। শুধু যেসব মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত এজেন্ডা থাকে সেসব মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরাই বৈঠকে ডাক পান।

About Sakal Bela

৭ই মার্চকে ‘জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস’ হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব অনুমোদন

অনলাইন ডেস্ক:
৭ই মার্চকে ‘জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস’ হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার। মহান স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন ৭ই মার্চ।
গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে প্রথমবারের মতো ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।
একই সঙ্গে বৈঠকে আসন্ন ঈদুল আজহায় ছুটি না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঈদের ছুটি পূর্বনির্ধারিত তিন দিন বা চার দিন। এই সময় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ নিজ কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না। অর্থাৎ যাঁর যেখানে কর্মস্থল, তাঁকে ঈদের ছুটিতে ওই এলাকায়ই থাকতে হবে।
এ ছাড়া মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে খুলনায় একটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় এসংক্রান্ত আইনের খসড়া অনুমোদন পেয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিবালয়ে বৈঠকের বিস্তারিত জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।
৭ই মার্চ ‘জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস’ হচ্ছে  মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, একাত্তরের যে দিনটিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন, সেই ৭ই মার্চকে ‘জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস’ হিসেবে ঘোষণা এবং দেশের সব জেলা-উপজেলায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণের বিষয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব তুলেছিল। এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর ৭ই মার্চকে ‘জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস’ ঘোষণার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
চলতি বছরের শুরুতে একটি রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এক আদেশে ৭ই মার্চকে ‘জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস’ ঘোষণা করে এক মাসের মধ্যে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে প্রতি উপজেলায় জাতির জনকের ম্যুরাল নির্মাণের আদেশও দিয়েছিলেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘বর্ণিত রিটের রুলে প্রদত্ত নির্দেশনাসমূহ জন-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বিধায় ৭ই মার্চকে জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস ঘোষণার বিষয়ে মতামত চেয়ে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পাঠানো পত্রের অনাপত্তি পাওয়া গেছে।’ তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ এ দেশের স্বাধীনতার মূল প্রেরণা। বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে এর স্বীকৃতি দিয়ে ইউনেসকো ভাষণটিকে এরই মধ্যে মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করেছে।’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, অর্থ বিভাগ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে জাতীয় পর্যায়ের দিবস পালনের তালিকায় ৭ই মার্চকে ‘ক’ ক্যাটাগরিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে জাতীয়ভাবে উদযাপনের সম্মতি প্রদান করেছে।
মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘৭ই মার্চ এবং স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে সরকার অনেক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড হাতে নিয়েছে। তাই মন্ত্রিসভা আলাদাভাবে বঙ্গবন্ধুর কোনো ম্যুরাল নির্মাণ করার প্রয়োজন নেই বলে মনে করে। কারণ ওই প্রগ্রামের মধ্যেই অনেক কিছু আছে। হাইকোর্টকে এ জিনিসটি অবহিত করা হবে। পুরো যে প্রকল্প বাস্তবায়িত করা হচ্ছে হাইকোর্ট সম্ভবত সে বিষয়ে অবহিত না। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এখন হাইকোর্টে বিষয়টি উপস্থাপন করবে।’
বাংলাদেশের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা মানুষের মধ্যে যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, সেই ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সাত কোটি বাঙালিকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ঘোষণা দেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’।
তাঁর ওই ভাষণের ১৮ দিন পর পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালি নিধনে নামলে বঙ্গবন্ধুর ডাকে শুরু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ। ৯ মাসের সেই সশস্ত্র সংগ্রামের পর আসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। একাত্তরের ১৬ই ডিসেম্বর পরাজিত পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই আত্মসমর্পণের দলিলে সই করে। বিভিন্ন দেশের ৭৭টি ঐতিহাসিক নথি ও প্রামাণ্য দলিলের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকে ‘ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ হিসেবে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে’ যুক্ত করেছে ইউনেসকো।
ঈদে বাড়ছে না ছুটি, কর্মস্থল ত্যাগ করা যাবে না
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘ঈদের সময় যে নির্ধারিত ছুটি আছে, এই ছুটি আর বাড়ানো হবে না। এবার কেউ কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবে না।’ গত ঈদুল ফিতরের সময় সরকার বাড়তি ছুটি দিয়েছিল। করোনা পরিস্থিতি চলমান থাকায় কোরবানির ঈদেও ছুটি বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা ভাবছিল কেউ কেউ।
আজ মঙ্গলবার আরবি জিলকদ মাসের ২২ তারিখ। আসছে জিলহজ মাসের ১০ তারিখ কোরবানির ঈদ উদ্যাপিত হবে। জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা অনুযায়ী, এবার ৩১ জুলাই বা ১ আগস্ট কোরবানির ঈদ হতে পারে। তবে পূর্বনির্ধারিত সরকারি ক্যালেন্ডারে ১ আগস্ট ঈদ হবে ধরে নিয়ে ৩১ জুলাই, ১ ও ২ আগস্ট ঈদের ছুটি নির্ধারণ করা আছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে যদি কোনো কারণে ঈদ ৩১ জুলাই হয়, তাহলে ৩০ জুলাইও সরকারি ছুটি থাকবে, সে ক্ষেত্রে ঈদের ছুটি হবে চার দিন।
খুলনায় শেখ হাসিনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনের খসড়া অনুমোদন
মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে খুলনায় একটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় এসংক্রান্ত আইনের খসড়া অনুমোদন পেয়েছে। মন্ত্রিপরিষদসচিব জানান, সব বিভাগীয় শহরে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সরকারি পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ‘শেখ হাসিনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইন, খুলনা ২০২০’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। চিকিত্সাক্ষেত্রের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা, গবেষণা, সেবার মানোন্নয়ন ও সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণই এই আইন প্রণয়নের লক্ষ্য।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন। অন্যদিকে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মন্ত্রিসভা কক্ষ থেকে সাতজন মন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদসচিব ও সংশ্লিষ্ট সচিবরা ভার্চুয়ালি বৈঠকে যোগ দেন। সচিবালয় থেকে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক, রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন এবং সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বৈঠকে যুক্ত হন। করোনা পরিস্থিতি সৃষ্টির পর থেকে সব মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের নিয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠক করছেন না সরকারপ্রধান। শুধু যেসব মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত এজেন্ডা থাকে সেসব মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরাই বৈঠকে ডাক পান।

About Sakal Bela

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!