Tuesday , 29 September 2020
Home » দৈনিক সকালবেলা » পাচঁফোড়ন » জনগণের সমর্থন ছিল বলেই কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিলাম

জনগণের সমর্থন ছিল বলেই কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিলাম

অনলাইন ডেস্ক:
দেশের জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন ছিল বলেই এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। গতকাল বৃহস্পতিবার গণভবনে জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ২০২০ এবং মুজিববর্ষ উপলক্ষে সারা দেশে এক কোটি গাছের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রায় ১১ মাস তাঁকে রাখা হয়েছিল সংসদ ভবন এলাকার বিশেষ কারাগারে। গ্রেপ্তারের সেই দিনটিকে ‘শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।
সেদিনের স্মৃতিচারণা করে গতকাল প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের দিনটা একটা বিশেষ দিন, কারণ ২০০৭ সালে তদানীন্তন তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমাকে গ্রেপ্তার করেছিল। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছিল। আমি কৃতজ্ঞতা জানাই আমার বাংলাদেশের জনগণের প্রতি, প্রবাসীদের প্রতি এবং বিশ্বনেতাদের প্রতি। সেই সাথে আমি ধন্যবাদ জানাই আমাদের সংগঠন, বিশেষ করে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ থেকে শুরু করে সকল সংগঠন এবং সহযোগী সংগঠন, তারা প্রতিবাদ করেছিল।’
ওই সময় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ২৫ লাখ মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার অফিসে দিয়েছিল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাদের এই সমর্থন আমি পেয়েছিলাম বলেই এবং জাতীয়, আন্তর্জাতিক চাপে আমাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।’
তিনি বলেন, ‘যদিও আমার বিরুদ্ধে বিএনপির আমলে ১২টা মামলা দেওয়া হয় আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আরো পাঁচটা মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। প্রতিটি মামলা, আমি বলেছি তদন্ত করে দেখতে হবে যে আমি কোনো দুর্নীতি করেছি কি না। ঠিক সেটাই করা হয়েছে। কাজেই আল্লাহর রহমতে সব কিছু থেকেই আমি খালাস পেয়েছি এবং জনগণের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা যে তাদের অকুণ্ঠ সমর্থনে আমি মুক্তি পেয়েছিলাম ২০০৮ সালে।’
অনুষ্ঠানে পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে দেশবাসীকে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যেখানে আপনার যতটুকু জায়গা আছে, আপনি যা পারেন একটা গাছ লাগান। অথবা যাঁরা শহরে থাকেন, ছাদে বাগান করেন বা ব্যালকনিতে একটা টবে গাছ লাগান। যেভাবে হোক একটু গাছ লাগালে ভালোও লাগবে, মনটাও ভালো লাগবে আর আপনার নিজের সচ্ছলতাও আসবে। আর নিজের হাতে লাগানো একটা গাছের কাঁচা মরিচ খেলেও কিন্তু ভালো লাগবে। কাজেই আমি আহ্বান করব সবাইকে—আসুন, সবাই মিলে গাছ লাগাই। আমাদের দেশটা একটা বদ্বীপ। এই দেশটাকে আমরা রক্ষা করে দেশটাকে উন্নত করি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি সিদ্ধান্ত দিয়েছি শুরু থেকেই যে তিনটা গাছ লাগাতে হবে। একটা ফলের গাছ, একটা কাঠের জন্য যেটা আর্থিক সচ্ছলতা আনবে, আরেকটা ভেষজ গাছ, অর্থাৎ যেই গাছ থেকে নানা ধরনের ওষুধ সৃষ্টি হয় বা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো সেই ধরনের গাছ।’
গতকাল গণভবন চত্বরে চালতা, তেঁতুল ও ছাতিয়ানের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি তাঁর বক্তব্যে কাঠ হিসেবে ছাতিয়ান এবং খাদ্যগুণ বিবেচনায় তেঁতুল ও চালতাগাছের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। দেশের বনভূমির পরিমাণ ২৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন সরকারপ্রধান।
তিনি বলেন, ‘যদিও করোনা হয়তো আমাদের সকল অগ্রযাত্রা সাময়িকভাবে থামিয়ে দিয়েছে, তবে আমি আশা করি যে জনগণ এর থেকে মুক্তি পাবে, আবার আমরা এগিয়ে যাব।’

মন্তব্য

About Sakal Bela

জনগণের সমর্থন ছিল বলেই কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিলাম

অনলাইন ডেস্ক:
দেশের জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন ছিল বলেই এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। গতকাল বৃহস্পতিবার গণভবনে জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ২০২০ এবং মুজিববর্ষ উপলক্ষে সারা দেশে এক কোটি গাছের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রায় ১১ মাস তাঁকে রাখা হয়েছিল সংসদ ভবন এলাকার বিশেষ কারাগারে। গ্রেপ্তারের সেই দিনটিকে ‘শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।
সেদিনের স্মৃতিচারণা করে গতকাল প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের দিনটা একটা বিশেষ দিন, কারণ ২০০৭ সালে তদানীন্তন তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমাকে গ্রেপ্তার করেছিল। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছিল। আমি কৃতজ্ঞতা জানাই আমার বাংলাদেশের জনগণের প্রতি, প্রবাসীদের প্রতি এবং বিশ্বনেতাদের প্রতি। সেই সাথে আমি ধন্যবাদ জানাই আমাদের সংগঠন, বিশেষ করে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ থেকে শুরু করে সকল সংগঠন এবং সহযোগী সংগঠন, তারা প্রতিবাদ করেছিল।’
ওই সময় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ২৫ লাখ মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার অফিসে দিয়েছিল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাদের এই সমর্থন আমি পেয়েছিলাম বলেই এবং জাতীয়, আন্তর্জাতিক চাপে আমাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।’
তিনি বলেন, ‘যদিও আমার বিরুদ্ধে বিএনপির আমলে ১২টা মামলা দেওয়া হয় আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আরো পাঁচটা মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। প্রতিটি মামলা, আমি বলেছি তদন্ত করে দেখতে হবে যে আমি কোনো দুর্নীতি করেছি কি না। ঠিক সেটাই করা হয়েছে। কাজেই আল্লাহর রহমতে সব কিছু থেকেই আমি খালাস পেয়েছি এবং জনগণের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা যে তাদের অকুণ্ঠ সমর্থনে আমি মুক্তি পেয়েছিলাম ২০০৮ সালে।’
অনুষ্ঠানে পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে দেশবাসীকে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যেখানে আপনার যতটুকু জায়গা আছে, আপনি যা পারেন একটা গাছ লাগান। অথবা যাঁরা শহরে থাকেন, ছাদে বাগান করেন বা ব্যালকনিতে একটা টবে গাছ লাগান। যেভাবে হোক একটু গাছ লাগালে ভালোও লাগবে, মনটাও ভালো লাগবে আর আপনার নিজের সচ্ছলতাও আসবে। আর নিজের হাতে লাগানো একটা গাছের কাঁচা মরিচ খেলেও কিন্তু ভালো লাগবে। কাজেই আমি আহ্বান করব সবাইকে—আসুন, সবাই মিলে গাছ লাগাই। আমাদের দেশটা একটা বদ্বীপ। এই দেশটাকে আমরা রক্ষা করে দেশটাকে উন্নত করি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি সিদ্ধান্ত দিয়েছি শুরু থেকেই যে তিনটা গাছ লাগাতে হবে। একটা ফলের গাছ, একটা কাঠের জন্য যেটা আর্থিক সচ্ছলতা আনবে, আরেকটা ভেষজ গাছ, অর্থাৎ যেই গাছ থেকে নানা ধরনের ওষুধ সৃষ্টি হয় বা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো সেই ধরনের গাছ।’
গতকাল গণভবন চত্বরে চালতা, তেঁতুল ও ছাতিয়ানের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি তাঁর বক্তব্যে কাঠ হিসেবে ছাতিয়ান এবং খাদ্যগুণ বিবেচনায় তেঁতুল ও চালতাগাছের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। দেশের বনভূমির পরিমাণ ২৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন সরকারপ্রধান।
তিনি বলেন, ‘যদিও করোনা হয়তো আমাদের সকল অগ্রযাত্রা সাময়িকভাবে থামিয়ে দিয়েছে, তবে আমি আশা করি যে জনগণ এর থেকে মুক্তি পাবে, আবার আমরা এগিয়ে যাব।’