Tuesday , 29 September 2020
Home » জাতীয় » সমালোচনা ও আত্ম-সমালোচনা ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারেন না

সমালোচনা ও আত্ম-সমালোচনা ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারেন না

রোজ আমাদের যে সব জিনিস প্রয়োজন সমালোচনা ও আত্ম-সমালোচনা তারই একটি। পানি বাতাসের মতই এটা আমাদের প্রয়োজনে লাগে। পানি আর বাতাস ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না, তেমনি সমালোচনা ও আত্ম-সমালোচনা ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারেন না।
এগিয়ে যাবার প্রেরণা জুগিয়ে দেয় সমালোচনা আর আত্ম-সমালোচনা। বিভিন্ন মহান মানুষদের মূল উৎকর্ষ-এর ভেতর দিয়েই প্রকাশিত হয়। এটা আবার জরুরী নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসও বটে- এরই থেকে আসে অবাধ প্রগতির প্রেরণা, এরই থেকে শক্তি ও তেজ সংগ্রহ করে বিপ্লবী মানুষগুলো, ক্ষমতা এতে বেড়ে চলে।
আমরা সত্যই বলতে পারি, সমালোচনা ও আত্ম-সমালোচনার সাহায্যে বিপ্লবী সংগঠন সুসংহত হয়, ব্যক্তিগতভাবে বিপ্লবীরা কর্মতৎপর হন এবং এর ফলে অতিরিক্ত শক্তির নিশ্চিত ভরসা পাওয়া যায়।
এ কথাটি অনেক মানুষ ঠিক মত বোঝেন না। তাঁরা ভাবেন, সমালোচনা, আত্ম-সমালোচনা এমন কিছু গুরুতর ব্যাপার নয়, প্রয়োজনীয়ও নয়- ওটা শুধু অনুধাবন করার একটা পদ্ধতিমাত্র। সমালোচনা ও আত্ম-সমালোচনা হচ্ছে অপরকে আক্রমণ করার একটা বিশেষ পদ্ধতি- এমন কথাও কোন কোন মানুষ মনে করেন। আবার কেউ কেউ ভাবেন যে, এটা একটা ঐন্দ্রজালিক জিনিস যাতে সব দোষ ঢাকা পড়ে। এমন এক ধরনের মানুষ আছেন যাঁরা প্রায়ই আত্ম-সমালোচনা করেন- খোলাখুলি স্বীকৃতিতে তাঁরা ‘অদ্বিতীয়’ হলেও, তারপরও দোষ-ত্রুটিতে তাঁরা যে মহাপ্রভু সেই মহাপ্রভুই থেকে যান। কোন কোন মানুষ আবার অপরকে সমালোচনা করার বেলায় সবার আগে; কিন্তু নিজের দুর্বল জাযগায় ভুলেও হাত দেন না। লোকের চোখে ধূলো দিয়ে নিজেদের দোষ ঢাকার জন্যে তাঁরা এলোপাতাড়ি সমালোচনা করে চলেন।
কেউ কেউ ভাবেন, সমালোচনা ও আত্ম-সমালোচনা যেন বনের বাঘের মত ভয়ঙ্কর; সমালোচনার জন্যে মিটিং হবে শুনলেই তাঁদের ‘জ্বর এসে যায়’ এবং এইভাবেই তাঁরা পালাবার চেষ্টা করেন। আত্ম-সমালোচনা করতে হলেই এঁদের বুক কেঁপে উঠে, তার ঠেলা সামলাতে তাঁরা ভরসা পান না। কেউ কেউ আবার এ জিনিসটাকে জুজুর মত ভয় করেন; আর সব যেন ঠিকই চলছে, কেবল এটা নিয়েই যত গন্ডগোল। এরা ভুল করে মনে করেন যে, প্রকৃত সমালোচনা যেন “জনতার আদালতে বিচার”। মানুষ ভাবেন যে, অন্য লোকে তাঁদের দোষ-ত্রুটির কথা জানলে তাদের মর্যাদা নষ্ট হয়ে যাবে, ইজ্জত ধূলোয় লুটোবে। সমালোচনা ও আত্ম-সমালোচনার লক্ষ্য কি তা পরিষ্কার না বোঝার ফলেই এই সব ধারনার উদ্ভব হয়।
মোট কথা হল: সমালোচনা ও আত্ম-সমালোচনা হচ্ছে সততা আর অসৎ মধ্যেকার একটি মূল পার্থক্য। আবার এর দ্বারাই মানুষদের উৎকর্ষ ও প্রগতিশীলতা কতখানি তা-ও স্থির করা যায়।
আদর্শগত শত্রুর হাত থেকে আমরা কখনই নিরাপদ নই। কারণ তারা অনবরত চেষ্টা করেছে যাতে আমাদের আক্রমণ করে মনোবল ভেঙ্গে দিতে পারে।
মতাদর্শে সবসময়ে অনেক ‘বংশগত’ দুর্বলতা প্রতিফলিত হয় এবং সেগুলো বারে বারে সামনে এসে দাঁড়ায়।
এক রকম মানুষ আছেন তাঁর দোষ ঢাকবার চেষ্টা করেন; খোলাখুলি, সৎ আচরণ করতে চান না। দেখলেই বোঝা যায় যে, তাঁদের দোষের কমতি নেই- তবু তারা ভাবেন যে দোষ অতি সামান্য। এমন কি একটা দোষের কথাও হয়তো তারা স্বীকার করেন না। এরা ভাবেন যে, যতক্ষণ দোষ স্বীকার না করছি ততক্ষণ ধরে কে? চীনে একটা প্রবাধ আছে,“কোন কিছু যদি বাস্তবিক গোপন রাখতে চাও তো তেমন কাজ করোই না”। কিন্তু এই সব মানুষ মনে করেন, “গোপন রাখার উপায় হল মুখে তালাচাবি আঁটা। আর যদি কেউ জেনেও ফেলে তবু যতক্ষণ স্বীকার না করছি ততক্ষণ করবে কি?” এ সব হল অহংকারের কথা- তাঁর বদনামের ভয়। কিন্তু, যদি আপনি স্বীকার না-ও করেন তবু বাস্তবিকই কি আপনি মনে করেন যে, কেউ জানতে পারবে না? চুপ করে থাকতে আপনার শুধু তিক্ততাই বাড়বে। দোষ স্বীকার করলে “মানহানিটা” কোন খানে?
কারই বা দোষ নেই? নিজের দোষ স্বীকার করে শোধরাবার সাহস যদি আপনার থাকে তো লোকে আপনার তারিফই করবে,
আপনাকে ঘৃণা করবে না।

সংকলনে
জোসেফ ডি কস্তা

About Expert

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!