Friday , 25 September 2020
Home » জাতীয় » প্রশ্নপত্র ফাঁস করে আসছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র
প্রশ্নপত্র ফাঁস করে আসছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র

প্রশ্নপত্র ফাঁস করে আসছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র

অনলাইন ডেস্ক:

পাঁচ বছর ধরে সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজের প্রশ্নপত্র ফাঁস করে আসছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র। অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তদন্তে এমন তথ্যই বেরিয়ে এসেছে। এই চক্রের প্রধানসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২ জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলার আসামি।

সিআইডি বলেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেসের কর্মী ও তাঁদের স্বজনরা মেডিক্যালের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িত বলে তথ্য পেয়েছে তারা।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ২০১৭ সালের ১৯ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময় ১২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ৪৬ জনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলা তদন্তকালে ২০১৮ সালে মেডিক্যালের প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পায় সিআইডি। তখন আরেকটি মামলা করে। এ মামলায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৫ জনকে গত এক সপ্তাহের অভিযানে রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও নাটোর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন এস এম সানোয়ার হোসেন, জসিম উদ্দিন ভুঁইয়া মুন্নু, পারভেজ খান, জাকির হোসেন দিপু ও মোহাইমিনুল ইসলাম বাঁধন। এর আগে বাকি ৬ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সানোয়ার ও মোহাইমিনুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলারও আসামি।

জসিমের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের দুই কোটি ৬৫ লাখ টাকার ৩৯টি চেক, দুই কোটি ২৭ লাখ টাকা মূল্যের পারিবারিক সঞ্চয়পত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। এ ছাড়া পারভেজের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের ৮৪ লাখ টাকার চেক এবং দিপুর কাছ থেকে ৫৭ লাখ টাকার এফডিআর ও চেক পাওয়া গেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস করে এই টাকা অর্জন করেছেন তাঁরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহাগনর হাকিম আদালতে (ভার্চুয়াল) মিরপুর থেকে সর্বশেষ গ্রেপ্তারকৃত তিনজনের ১০ দিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা আদালতের নির্দেশে জেলহাজতে আছেন। তাঁদের মধ্যে সানোয়ার ১৬ জুলাই ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

গতকাল দুপুরে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেখানে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সুমন কুমার দাস বলেন, ১৫ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও নাটোর থেকে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে তাঁরা জানতে পেরেছেন যে ১৯৮৮ সাল থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে একটি প্রেস থেকে মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ছাপানো হয়। ওই প্রেসে চাকরি করেন এমন কর্মীদের স্বজনদের এসব কাজে যুক্ত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার হওয়া চক্রের সদস্যরা ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ছাপাখানা থেকে মেডিক্যাল ও ডেন্টালে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে আসছিলেন।

সিআইডি সূত্র জানায়, এরই মধ্যে চক্রের প্রধান জসিমসহ ১১ সদস্য সিআইডির সাইবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেস থেকেই মেডিক্যাল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। এ ছাড়া অধিদপ্তরের ক্ষমতাবান কর্তাদের মদদে প্রেস থেকে মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করতেন মেশিনম্যান আবদুস সালাম। জসিম তাঁর খালাতো ভাই। জসিমের কাজ ছিল সারা দেশে প্রশ্ন ছড়িয়ে দেওয়া। এ জন্য একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ছিল। দেশব্যাপী চক্রটির প্রায় অর্ধশত সহযোগীর খোঁজ পাওয়া গেছে। এর মাধ্যমে তাঁরা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

সূত্র আরো জানায়, মেডিক্যালে ভর্তি জালিয়াতিতে জড়িত বাঁধন ও সানোয়ার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলারও আসামি। দীর্ঘদিন তাঁরা পলাতক ছিলেন।

সিআইডি সূত্র জানায়, গত ১৫ জুলাই সানোয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ২০১৩, ২০১৫ ও ২০১৭ সালের মেডিক্যাল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য দেন। পরে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলন শেষে সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল আহসান বলেন, ‘কয়েকটি প্রেসের বিষয়ে তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেসের বিষয়টি আমরা এখনো অনুসন্ধান করছি।’

About Expert

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!