Tuesday , 22 September 2020
Home » জাতীয় » মুজিববর্ষে দেশের একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না: শেখ হাসিনা
মুজিববর্ষে দেশের একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না: শেখ হাসিনা

মুজিববর্ষে দেশের একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না: শেখ হাসিনা

–ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,বন্যা ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তসহ সারা দেশের গৃহহারা ও ভূমিহীনদের আবাসন নিশ্চিত করতে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে। তিনি বলেন, মুজিববর্ষে দেশের একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কক্সবাজারের খুরুশকুলে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পে ফ্ল্যাট বরাদ্দ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি ঢাকায় নিজের সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই প্রকল্প উদ্বোধন করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে যেমন ঘর করে দিচ্ছি, পাশাপাশি যাঁদের জমি আছে তাঁদের ঘর করে দেওয়ার জন্য গৃহায়ণ তহবিল নামে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি তহবিল করা আছে, সেখান থেকে যেকোনো প্রতিষ্ঠান টাকা নিয়ে ঘর করতে পারে। আর আমরা নিজেরাও আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে যাঁদের জমি আছে, ভিটা আছে কিন্তু ঘর নাই, তাঁদের ঘর করে দিচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ মুজিববর্ষে আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশে একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না। প্রত্যেকটা মানুষকে যেভাবে পারি গরিবানা হালে একটা চালা হলেও আমরা করে দেব। এটাই আমাদের লক্ষ্য।’

দেশের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের প্রস্তুতি রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এবার বন্যার প্রকোপটা একটু বেশি দেখা যাচ্ছে। এটা হচ্ছে শ্রাবণ মাস, এরপর ভাদ্র মাসের দিকে হয়তো আরো পানি আসবে। অর্থাৎ আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমাদের আরো বন্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে। আমাদের সেই প্রস্তুতি আছে, এটা মোকাবেলা করার।’

তিনি বলেন, ‘কিন্তু বন্যায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত বা নদীভাঙনে যাঁরা গৃহহারা হচ্ছেন তাঁদেরও আমরা ঘরবাড়ি করে জীবনযাপনের ব্যবস্থা করে দেব। সেটাও আমাদের লক্ষ্য রয়েছে। বাজেটে আমরা আলাদাভাবে টাকাই রেখে দিয়েছি গৃহহীন মানুষের ঘর করে দেওয়ার জন্য, যাতে একটি মানুষও গৃহহারা না থাকে।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জলোচ্ছ্বাসের হাত থেকে রক্ষা পেতে উপকূলবাসীকে বেশি করে গাছ লাগানোর পাশাপাশি দেশবাসীর প্রতি করোনাভাইরাস মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বানও পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাজের গতি খুব ভালো ছিল। কিন্তু এই করোনাভাইরাস এসে সব জায়গাতেই একটা বাধার সৃষ্টি করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সকলকে অনুরোধ করব, আপনারা স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যে নির্দেশনাগুলো রয়েছে সেগুলো মেনে চলবেন। মাস্কটা পরে থাকবেন, যখন বাইরে যাবেন বা কারো সাথে কথা বলবেন। নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন।’

কক্সবাজারকে পর্যটন শহর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘একদিকে যেমন আমাদের পর্যটনকেন্দ্র হবে দু-তিনটি, সেই সাথে মানুষের জীবন-জীবিকার ব্যবস্থাও আমরা করে দিচ্ছি। সেখানে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলও করে দেব।’

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শেষ দিকে বলেন, ‘আমি খুরুশকুল যাব, শুঁটকি ভর্তা দিয়ে ভাত খাব।’ সরকারপ্রধানের এই বক্তব্য শুনে খুরুশকুল প্রান্তে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা হাততালি দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান।

কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীতীরের খুরুশকুলে নির্মিত বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২০টি বহুতল ভবন উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ ৬০০ উদ্বাস্তু পরিবারকে ফ্ল্যাটের চাবি হস্তান্তর করা হলো। বাকি যাঁরা আছেন তাঁরাও পর্যায়ক্রমে ফ্ল্যাট পাবেন।’ তিনি বলেন, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে খুরুশকুলের চেহারা বদলে যাবে। এখানে স্কুল, মসজিদ, মাদরাসা, গির্জা ও প্যাগোডা গড়ে উঠবে।’

উপকারভোগীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে ঘরবাড়িগুলো করে দিলাম, সেগুলো যত্ন করে রাখবেন। এ ফ্ল্যাটগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ করবেন। পরিবেশ বজায় রাখবেন। পর্যাপ্ত গাছ লাগাবেন। এখানে পুকুর কাটা হয়েছে। সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ ফাঁড়ি করা হয়েছে। এ ছাড়া এখানে যাঁরা বসবাস করবেন তাঁরা অধিকাংশই মৎস্যজীবী। তাঁরা যেন মাছ ধরে শুঁটকি করতে পারেন এবং এখানে যেন শুঁটকির বিশাল একটি বাজার গড়ে ওঠে সে ব্যবস্থা আমরা করব।’

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ গণভবন থেকে এবং দশম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার মো. মাঈন উল্লাহ চৌধুরী কক্সবাজার প্রান্ত থেকে বক্তৃতা রাখেন। অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান প্রধানমন্ত্রীর হাতে প্রকল্পের একটি রেপ্লিকাও তুলে দেন। অনুষ্ঠানে প্রকল্পের ওপর একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয় এবং প্রকল্পস্থলে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তিনজন উপকারভোগী তিনটি গাছের চারাও রোপণ করেন। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে উপকারভোগী ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মত বিনিময় করেন। উদ্বোধনের পরেই প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ফ্ল্যাটপ্রাপ্ত পরিবারগুলোর হাতে ফ্ল্যাটের চাবি তুলে দেওয়া হয়।

About Expert

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*