Tuesday , 29 September 2020
Home » দৈনিক সকালবেলা » পাচঁফোড়ন » বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে কি ফেরত পাবে বাংলাদেশ?

বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে কি ফেরত পাবে বাংলাদেশ?

অনলাইন ডেস্ক:
বঙ্গবন্ধুর খুনি এম রাশেদ চৌধুরীর যুক্তরাষ্ট্রে ‘অ্যাসাইলাম’ (আশ্রয় প্রার্থনা) রায়ের নথিপত্র খতিয়ে দেখছেন মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল। আর এই তৎপরতাকে রাশেদ চৌধুরীর আশ্রয় পাওয়া মামলাটি নতুন করে চালু করার উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন আইনজীবীরা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জার্নাল পলিটিকো গতকাল শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য দিয়েছে।
প্রতিবেদনে রাশেদ চৌধুরীর আইনজীবীর দেওয়া তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এই ধরনের উদ্যোগকে ‘নজিরবিহীন’ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল যদি মামলা আবার সচল করেন এবং তাতে যদি রাশেদ চৌধুরীর আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়, তবে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে এনে মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা সহজ হবে।
খুনি রাশেদ চৌধুরী সম্পর্কে পলিটিকো জার্নালের প্রতিবেদনের শিরোনামে বলা হয়েছে, ‘তিনি ভেবেছিলেন তাঁর অ্যাসাইলাম আছে। এখন তিনি মৃত্যুদণ্ডাদেশের মুখোমুখি হতে পারেন।’
রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় আবেদনে দাবি করেছিলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডে তাঁর ভূমিকা খুব কমই ছিল। বিষয়টি তুলে ধরে পলিটিকো লিখেছে, বাংলাদেশ রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত চায়। আর তাঁর ভাগ্য এখন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল বিল বারের হাতে।
পলিটিকো বলছে, গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল বিল বার নীরবে মামলাটি সচল করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি তাঁর পূর্ণ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এম রাশেদ চৌধুরীর আদ্যক্ষর ‘এ-এম-আর-সি’ সংক্রান্ত নথি পাঠাতে ইমিগ্রেশন আপিল বোর্ডকে নির্দেশনা দিয়েছেন।
রাশেদ চৌধুরী ১৯৯৬ সালে ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান। এর কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি সেখানে আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেন। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে আবেদনের ১০ বছর পর তিনি আশ্রয়ের অনুমতি পান। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ তার মামলায় যুক্তি দেখিয়েছিল, অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ায় তিনি আশ্রয় পেতে পারেন না। কিন্তু তখন আদালত তাঁদের যুক্তি খারিজ করে দিয়ে রাশেদ চৌধুরীর পক্ষে রায় দিয়েছিলেন।
পলিটিকো বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী যে আইন আছে তা রাশেদ চৌধুরী ভেঙেছেন কি না সে বিষয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। আইনজীবীদের বরাত দিয়ে পলিটিকো বলেছে, অ্যাটর্নি জেনারেলের এ উদ্যোগ গুরুতর অপরাধ করে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেওয়া রাশেদ চৌধুরীর মতো অনেকের জন্য বড় বার্তা। এ থেকে নজির সৃষ্টি হচ্ছে যে আশ্রয় পাওয়ার এক দশক পরও মামলা পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
মামলা আবারও চালু করার উদ্যোগ প্রসঙ্গে রাশেদ চৌধুরীর আইনজীবী মার্ক ভ্যান দার হোওট বলেছেন, ‘এতে স্পষ্ট যে ট্রাম্প প্রশাসন এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করছে। তবে তারা কিভাবে করছে তাই এখানে প্রশ্ন?’
পলিটিকো বলেছে, অ্যাটর্নি জেনারেল কেন আবার মামলাটি সচল করতে যাচ্ছেন এবং এ নিয়ে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী, তা স্পষ্ট নয়।
অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্যোগের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও বাংলাদেশ দূতাবাস কোনো মন্তব্য করেনি।
রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত পেতে বাংলাদেশ বেশ কয়েক বছর ধরে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিঠি পাঠিয়েছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গে একাধিক বৈঠকে রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত পাঠানোর দাবি তুলেছেন। এ ছাড়া দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনায় প্রায় নিয়মিত ইস্যু রাশেদ চৌধুরী।
বাংলাদেশ বিষয়টি এত গুরুত্বের সঙ্গে তুলেছে যে গত বছর আগস্ট মাসে ব্যাংককে এক বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেনকে দেখে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছিলেন, ‘ডোন্ট আস্ক ইওর রাশেদ চৌধুরী (আপনাদের রাশেদ চৌধুরীর বিষয়ে জানতে চাইবেন না)।’ ড. মোমেন এর আগের বৈঠকেই তাঁকে বলেছিলেন, ‘আপনারা সুশাসনের, আইনের শাসনের কথা বলেন। আমি যদি আমার আদালতের রায় কার্যকর না করি তাহলে আমি আইনের শাসন কিভাবে করব। আপনি আমাকে সাহায্য করুন।’

About Sakal Bela

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!