Wednesday , 30 September 2020
Home » জাতীয় » পল্লবীর তিন বোমা বহনকারী ‘ভাড়াটে খুনি’
পল্লবীর তিন বোমা বহনকারী ‘ভাড়াটে খুনি’

পল্লবীর তিন বোমা বহনকারী ‘ভাড়াটে খুনি’

পল্লবী থানায় বোমা বিস্ফোরণে পাঁচজন আহত হওয়ার ঘটনায় জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা নেই বলেই মনে করছে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) ওয়ালিদ হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, বোমা বহনকারী যে তিনজনে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়ার পর ওই বিস্ফোরণ ঘটে, তারা ‘ভাড়াটে খুনি’।

“পুলিশের কাছে তথ্য ছিল তারা পল্লবীর স্থানীয় একজন রাজনৈতিক নেতাকে হত্যা করবে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের পর বিষয়গুলো স্পষ্ট হবে।”

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন- রফিকুল ইসলাম (৪০), শহিদুল ইসলাম (২৩) ও মোশাররফ হোসেন (২৬)। তাদের তিনজনকে থানা থেকে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে বলে পল্লবী থানার উপ পরিদর্শক আকলিমা আক্তার জানিয়েছেন।

তবে কাকে তারা হত্যার পরিকল্পনা করেছিল, সে বিষয়েও কিছু বলেননি পুলিশ কর্মকর্তারা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায় দুপুরে পল্লবী থানার সামনে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, কালশী কবরস্থানের কাছে ‘একদল সন্ত্রাসী’ অবস্থান করছে খবর পেয়ে রাত ২টার দিকে পল্লবী থানা পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়।

“অভিযানে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আরও কয়েকজন ছিল, তারা পালিয়ে যায়। গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে দুটি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি এবং একটি ডিভাইস পাওয়া যায়, যেটি দেখতে ওজন মাপার মেশিনের মত।”

থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে গ্রেপ্তার তিনজন পুলিশকে জানায়, ওই ওজন মাপার যন্ত্রে ‘বোমা রয়েছে’। এরপর বোমা নিস্ক্রিয়কারী দলকে খবর দেওয়া হলে তারা এসে ডিউটি অফিসারের কক্ষে ওই ওজন মাপার মেশিন পরীক্ষা করেন।

পরে আরেকটি বিশেষজ্ঞ দলকে ডাকা হয়, তারা পৌঁছানোর আগেই বিস্ফোরণ ঘটে বলে ঢাকার পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান।

বিস্ফোরণের ধাক্কায় থানার দোতলার জানালার কাচ ভেঙে যায়, আশপাশের মানুষের মধ্যে তৈরি হয় আতঙ্ক। পল্লাবী থানায় পরিদর্শক (অপারেশনস) এমরানুল ইসলামসহ পাঁচজনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

বিস্ফোরণে ভেঙে গেছে পল্লবী থানার জানালা কোরবানির ঈদ ও অগাস্ট মাস সামনে রেখে দেশে জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় দিন দশেক আগেই সারা দেশে পুলিশের সকল ইউনিটকে সতর্ক করেছিল পুলিশ সদর দপ্তর।

পুলিশ সদস্য, পুলিশের স্থাপনা, পুলিশের যানবাহন এ ধরনের হামলার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে সদর দপ্তর থেকে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়েছিল।

তবে পল্লবীর ঘটনার সঙ্গে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে ব্রিফিংয়ে জানান কৃষ্ণপদ রায়।

তিনি বলেন, “অপরাধীচক্র, যারা মিরপুর ভিত্তিক অপরাধ করে থাকে, গ্রেপ্তাররা তাদেরই সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা একটি অপরাধ করার জন্য এসেছিল, সে অপরাধ হতে পারে কাউকে খুন করা, কোনো সম্পত্তি সংক্রান্ত অথবা ডাকাতি করা। আমরা বিষয়টা তদন্ত করে দেখছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”

তবে উপ-কমিশনার (মিডিয়া) ওয়ালিদ হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, ওই তিন অস্ত্রধারী ‘ভাড়াটে খুনি’ হিসেবে কাজ করছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে।

কাকে তারা হত্যা করতে চেয়েছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বড় কোনো নেতা নয়, স্থানীয়ভাবে থাকে না অনেক ধরনের দুশমনি? সেইরকম শত্রুতা থেকে কোনো একজনকে হত্যা করার পরিকল্পনার কথা তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে বলেছে।”

About Sakal Bela

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!