Friday , 25 September 2020
Home » জাতীয় » স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই স্বাবলম্বী হতে হবে
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে  অবশ্যই স্বাবলম্বী হতে হবে
--ফাইল ছবি

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই স্বাবলম্বী হতে হবে

অনলাইন ডেস্ক:

ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের মতো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্রীয় সরকারের দিকে তাকিয়ে না থেকে নিজেদের টাকায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, এভাবে দীর্ঘদিন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারের টাকায় চলতে দেওয়া যায় না। তাদের অবশ্যই স্বাবলম্বী হতে হবে। নিজেদের টাকায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।

একনেক-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, জনগণ যদি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান থেকে পানিসহ অন্যান্য পরিষেবা গ্রহণ করে, তাহলে নাগরিকদের অবশ্যই টাকাও দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘ মেয়াদে কেন্দ্রীয় সরকার থেকে টাকা দেওয়া ঠিক হবে না। তাদের নিজেদের স্বাবলম্বী হতে হবে। স্বাধীন হতে হলে স্বাবলম্বী হতে হবে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে। সে জন্য কী উপায়ে আয় বাড়ানো যায়, এখন থেকে চিন্তা করতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন। গণভবন থেকে একনেকের ভার্চুয়াল সভায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো স্বশাসিত। নিজেদের আইন দিয়ে চলে। জনগণকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দিয়ে থাকে। জনগণকে সেবা দিলে সেখান থেকে নিশ্চয়ই তাদের আয় হওয়ার কথা। নিজেদের আয়ের টাকা দিয়েই তাদের চলা উচিত।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীন নয় বলে অনেকে সমালোচনা করেন। কিন্তু এটিও দেখতে হবে যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সরকার থেকে টাকা নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। তাদের স্বাধীন হতে হলে সরকার থেকে টাকা নেওয়া বন্ধ করতে হবে। নিজেদের টাকায় চলতে হবে। স্বাবলম্বী হতে হবে। রাজশাহী মহানগরীতে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং খুলনায় পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন শিরোনামের দুটি প্রকল্প অনুমোদন করতে গিয়ে গতকাল একনেক সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

এদিকে একনেক সভায় দুই হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘ইনকাম সাপোর্ট প্রগ্রাম ফর দ্য পুওরেস্ট’ শিরোনামের আরেকটি প্রকল্প অনুমোদনের সময় সরকারের এক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আরেক মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়হীনতার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়। ২০১৫ সালে সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, উত্তরের গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী, মধ্যাঞ্চলের জামালপুর, ময়মনসিংহ ও শেরপুর—এই সাতটি জেলার ৪৩টি উপজেলায় ছয় লাখ গর্ভবতী নারী বাছাই করে তাঁদের স্বাস্থ্যসেবার জন্য নগদ টাকা দেওয়া হবে। এরই অংশ হিসেবে ২০১৫ সালের এপ্রিলে একনেক সভায় ইনকাম সাপোর্ট প্রগ্রাম ফর দ্য পুওরেস্ট (আইএসপিপি) শিরোনামের প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ ধরা হয় দুই হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে বহুজাতিক সংস্থা বিশ্বব্যাংক ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় দুই হাজার ৩৪০ কোটি টাকা। বাকি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে জোগান দেওয়ার কথা। ২০১৮ সালে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার কথা ছিল স্থানীয় সরকার বিভাগের। কিন্তু ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো ছয় লাখ গর্ভবতী নারী বাছাই করতে পারেনি স্থানীয় সরকার বিভাগ। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিশ্বব্যাংক এখন তাদের প্রতিশ্রুত দুই হাজার ৩৪০ কোটি টাকা থেকে পাঁচ কোটি ডলার বা ৪২৫ কোটি টাকা সরিয়ে রোহিঙ্গাদের পেছনে খরচের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গতকালের একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্প মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করতে পারত। কারণ, সারা দেশেই তারা নারী ও শিশু নিয়ে কাজ করে। তাদের কাছে দরিদ্র নারীদের তালিকা আছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের এ ধরনের কাজের অভিজ্ঞতা নেই। স্থানীয় সরকার বিভাগ চাইলে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা নিতে পারত। তাহলে প্রকল্পটি এত দিনে শেষ হয়ে যেত।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আরেক মন্ত্রণালয়ের কাজের সমন্বয়হীনতা রয়েছে। সমন্বয় থাকলে কাজে গতি আসে। সরকারি টাকার অপচয় হয় না। এই প্রকল্পের আওতায় ছয় লাখ দরিদ্র গর্ভবতীর তালিকা করার কথা ছিল বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস)। কিন্তু সরকারি সংস্থাটি তালিকা করতে পারেনি। এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘অবশ্যই তালিকা করতে না পারায় বিবিএস দায়ী। আমি খবর নেব, কেন তারা তালিকাটা করতে পারেনি।’

এদিকে আরো এক বছর মেয়াদ বেড়েছে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার প্রকল্প ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ প্রকল্পের। ২০০৯ সাল থেকে শুরু হওয়া প্রকল্পটি এ পর্যন্ত চার দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে এখন ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। যদিও প্রকল্পের ব্যয় কমেছে ১২৫ কোটি টাকা। ২০০৯ সালে প্রকল্পটি যখন প্রথম অনুমোদন দেওয়া হয়, তখন এর ব্যয় ছিল এক হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। এরপর তিন ধাপে ব্যয় বাড়িয়ে প্রকল্পের ব্যয় আট হাজার ১০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। গতকালের একনেক সভায় ১২৫ কোটি টাকা খরচ কমিয়ে সাত হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানান, ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ প্রকল্প অনুমোদন দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রকল্পটি চিরদিনের জন্য নয়। সুফলভোগীদের স্বাবলম্বী করতে হবে। ক্ষুদ্রঋণ মানুষকে পুরোপুরি স্বাবলম্বী করে না। এ জন্য সঞ্চয়ের দিকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

এদিকে ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ প্রকল্পটির চতুর্থ সংশোধনী প্রস্তাবসহ গতকালের একনেক সভায় মোট সাত প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে খরচ ধরা হয়েছে তিন হাজার ৭৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি নিজস্ব তহবিল থেকে দুই হাজার ১৩৩ কোটি এবং বিদেশি ঋণ থেকে ৯৪২ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।

About Dainik Sakalbela

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!