Sunday , 20 June 2021
ব্রেকিং নিউজ
Home » অর্থনীতি » কুষ্টিয়ায় কৃত্রিমভাবে মৌমাছির চাষ করে স্বাবলম্বী প্রবাস ফেরত মোক্তার
কুষ্টিয়ায় কৃত্রিমভাবে মৌমাছির চাষ করে স্বাবলম্বী প্রবাস ফেরত মোক্তার

কুষ্টিয়ায় কৃত্রিমভাবে মৌমাছির চাষ করে স্বাবলম্বী প্রবাস ফেরত মোক্তার

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার কুমারখালীর সদকী ইউনিয়নের  মট মালিয়াট গ্রামের  মাঠের শ’শ’ বিঘা জমিতে ফুটেছে  কচুরিপানা ও শাপলা ফুল। মাঠে পানি থাকায় ফুল হয়ে উঠেছে তরতাজা। সেই ফুলে মৌমাছি ছেড়ে দিয়ে মোক্তার হোসেন নামের এক যুবক সংগ্রহ  করছেন কেজি কেজি মধু। খোকসা উপজেলার আমবাড়িয়া গ্রামের মোক্তার হোসেন শুধু কুমারখালীতেই নয় রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ, গাইবাঁন্ধাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন মৌসুমে সরিষাসহ নানারকম ফুল থেকে মৌবাক্সের মাধ্যমে চাষ করে মধু সংগ্রহ করেন তিনি।  মধু বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করার পাশাপাশি স্বাবলম্বী হয়েছেন ৩৫ বছরের এই যুবক। জানা যায়,প্রায় দশ বছর আগে মোক্তার জীবিকার তাগীতে পরিবার পরিজন ছেড়ে পারি জমিয়েছিলেন মালয়েশিয়ায়।সেখান ইলেক্ট্রিক কাজ করতেন তিনি।কিন্তু প্রবাসে জীবিকা নির্বাহে ব্যর্থ হয়ে  দেশে ফিরে এসে মৌবাক্সের মাধ্যমে মৌমাছি চাষের প্রশিক্ষণ গ্রহন করেন বেসিক থেকে।এরপর গাইবাঁন্ধার একটি ফার্ম থেকে বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে নিজ উদ্যোগে শুরু করে ভ্রাম্যমাণ মধু আহরণ।বছরে পাঁচ থেকে সাত মাস মধু আহরণ করে আট থেকে দশ লক্ষ টাকা আয় করেন তিনি।এবিষয়ে মোক্তার হোসেন বলেন,অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে বিদেশ গিয়েছিলাম।কিন্তু সেখানে জীবিকার্জনে সুবিধা করতে না পারায় বাড়ি ফিরে ছোট বেলার অভ্যাস মধু আহরণের জন্য বেসিক প্রশিক্ষণ গ্রহন করে মাত্র ৩ লক্ষ টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করি।বাংলাদেশে এপিস সেরেনা ইন্ডিকা মৌমাছির চাষ হয়ে থাকে। আমার বর্তমানে ১৫০ টি মৌবাক্স আছে। প্রতি মৌবাক্স থেকে বছরে ১০ থেকে ১২ কেজি মধু পাওয়া যায়। তাতে করে ১৫০ টি মৌবাক্স থেকে প্রতি সপ্তাহে ১৫০ কেজি থেকে ১৭০ কেজি মধু সংগ্রহ করি।  তিনি আরো বলেন,বছরে আট থেকে দশ লক্ষ টাকার মধু বিক্রি করি।মৌমাছির খাবার ও অন্যান্য খরচ বাদে চার থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা মুনাফা হয়।উপজেলা কৃষি অফিসার ও কৃষিবিদ দেবাশীষ  কুমার দাস বলেন,আমরা নিজেরাই মৌমাছির বসবাসের স্থান ও প্রজনন ক্ষেত্র নষ্ট করে ফেলছি। বিশেষ করে কীটনাশক ব্যবহারের ফলে বিশ্বে মৌমাছির সংখ্যা দ্রুত কমছে ফলে হুমকির মুখে পরতে যাচ্ছে আগামী দিনের কৃষি উতপাদন। কীটনাশকের কারনে মৌমাছির মড়ক কৃষির জন্য অশনিসংকেত কারন বিশ্বজুড়ে ৩০ শতাংশ উদ্ভিদের পরাগায়ন ঘটায় মৌমাছি। যেকারনে মৌচাষে বেশী বেশী প্রান্তিক চাষী ও বেকার যুবকদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তিনি আরো বলেন উপজেলায় চার হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়। এবছর ৩ হাজার হেক্টর  জমিতে এখনো পানি থাকায় শাপলা ও কচুরিপানার ফুল ফুটেছে।সেখান থেকে মোক্তার নামের এক যুবক মধু সংগ্রহ করার কথা শোনা গেছে।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*