Friday , 25 September 2020
Home » অর্থনীতি » কৃষি » ঈশ্বরগঞ্জে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ভার্মি কম্পোস্ট
ঈশ্বরগঞ্জে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ভার্মি কম্পোস্ট

ঈশ্বরগঞ্জে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ভার্মি কম্পোস্ট


হোছাইন মোঃ তারেক, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ)
মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ফসল উৎপাদনে অবদান রাখায় ঈশ্বরগঞ্জে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার কৃষকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। জমিতে অতি মাত্রায় বালাই নাশক আগাছা নাশক কৃত্রিম হরমোন ও রাসায়সিক সার ব্যবহার করায় মাটির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হয়ে জৈব পদার্থের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। মাটির উর্বরতা শক্তি ফিরিয়ে আনতে ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভার শিমরাইল গ্রামের কৃষক মনির উদ্দিন কৃষি বিভাগের সাথে পরামর্শ করে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন শুরু করেছেন। তার উৎপাদিত সার নিজের জমিতে ব্যবহার করে প্রচুর ফলন পেয়েছেন। কৃষক মনির উদ্দিনের ফসলের আশানুরুপ ফলন দেখে গ্রামের মানুষ ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার ব্যবহারে আকৃষ্ট হচ্ছেন। কেঁচো সার একটি প্রাকৃতিক জৈব সার। বালাই নাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারে বিনষ্ট মাটির উর্বরতা শক্তি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম। জৈব সার ব্যবহারে কৃষক আগ্রহী হয়ে উঠায় কৃষক মনির উদ্দিন বাণিজ্যিক ভাবে এ কেঁচো সার উৎপাদন শুরু করেছেন।
ঈশ্বরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের শিমরাইল গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক মনির উদ্দিনের বাড়ির আঙ্গিনায় ৬০টি রিং স্থাপন করে পুরানো গোবর আর রেড বেঙ্গল কেঁচো দিয়ে রিংগুলো ঢেকে রেখেছেন। প্রতিটি রিংয়ে ১৫শ থেকে দুই হাজার কেঁচো রয়েছে। কেঁচোগুলো রিংয়ের গোবর খেয়ে মল ত্যাগ করে। এই মল চা পাতার মতো হালকা ও ঝুরঝুর হয়ে রিংয়ের উপর দিকে উঠতে থাকে। প্রথম একমাস পর রিংগুলো থেকে ২৫থেকে ৩০কেজি ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরি হয়। পরে প্রতি এক সপ্তাহ পরপর ১০ থেকে ১৫ কেজি সার উত্তোলন করা যায়।
কৃষক মনির উদ্দিনের জানান, উৎপাদিত কম্পোস্ট সার ১৫ টাকা কেজি দরে নিজ এলাকার চাহিদা মিটিয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বেচে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছি। যার ফলে বাণিজ্যিকভাবে এ কেঁচো সার উৎপাদন শুরু করেছি। আমার ফসলের আশানুরুপ ফলন দেখে গ্রামের মানুষ ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার ব্যবহারে আকৃষ্ট হচ্ছে।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আলী আখছার খান জানান, ভার্মি কম্পোস্ট সার ব্যবহার করলে জমিতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমে আসে, মাটিতে জৈব উপাদান বৃদ্ধি পায়, পানির ধারণ ক্ষমতা বাড়ায়, বাটির বুনট উন্নত করে, শিকর বিস্তার সহজ করে এবং উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান যোগায়। এই সার রাসায়নিক সারের মূল্যের অর্ধেক বা তিন ভাগের এক ভাগ।
উপজেলা কৃষি অফিসার সাধন কুমার গুহ মজুমদার জানান, অত্র উপজেলায় এ প্রযুক্তিটি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। প্রতি মাসে ১০ টন কেঁচো সার উৎপাদিত হচ্ছে এবং কৃষক ন্যায্য মূল্যে তা বিক্রি করছে। ফসলি জমিতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানো ও কৃষকদেরকে পরিবেশ বান্ধব কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্ভদ্ধ করতেই সরকার এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বর্তমানে জৈব সার উৎপাদনের বিষয়টি উপজেলার কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ায় চাষিরা ভার্মি কম্পোষ্ট সার ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে উঠছে। আমরা কৃষকদের পরিবেশ বান্ধব জৈব সার ব্যবহারের নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করছি।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!