Friday , 25 September 2020
Home » অর্থনীতি » কৃষি » যশোরের মণিরামপুরে সবজীর দাম আকাশ ছোঁয়া! দিশেহারা নিম্ন আয়ের মানুষ
যশোরের মণিরামপুরে সবজীর দাম আকাশ ছোঁয়া! দিশেহারা নিম্ন আয়ের মানুষ

যশোরের মণিরামপুরে সবজীর দাম আকাশ ছোঁয়া! দিশেহারা নিম্ন আয়ের মানুষ

যশোরের মণিরামপুরের হাটবাজারে নিত্যপণ্য বিশেষ করে কাঁচা তরকারির দাম এখন আকাশ ছোঁয়া। গত এক মাসের ব্যবধানে সবজি ও কাচাঁমালের দাম কয়েক দফা বৃদ্ধি পাওয়ায় চাহিদা মাফিক দ্রব্য ক্রয় করতে হিমসিম খাচ্ছে ভোক্তা সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষ। প্রতিটি দ্রব্যের দাম সীমাহীনভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বেশিরভাগ ক্রেতা সাধারন চাহিদা মাফিক বাজার সওদা করতে না পেরে খালি প্যাকেট নিয়ে বাড়ি ফিরছে।
গত সোমবার দুপুরে মণিরামপুর পৌর শহরের খুচরা কাঁচা বাজারে যেয়ে খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ২’শ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি বেগুন ৭০-৮০টাকা, গোলআলু ৩৫ টাকা, কাঁচা কলা ৬০টাকা, পটল ৬০টাকা, কচুরমুখি ৫০টাকা, ডাটা ২০-২৫টাকা, কাকরোল ৫০টাকা, করল্লা ৮০টাকা, পেঁপে ৩৫টাকা, বরবটি ৬০টাকা, ওলকচু ৫০টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০টাকা, বাঁধা কপি ৬০টাকা, পেঁয়াজ ৪০টাকা, রসুন ১২০টাকা বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা বাজারের অধিকাংশ দোকানে মালামালের আমদানি কিন্তু কম নয়। 
এছাড়া  সয়াবিন তেল, চিনি, মসলাসহ সকল ধরনের মুদি জিনিসপত্রের দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৫ থেকে ১৫ টাকা। মাছ,মাংসের দামও বেড়েছে। 
খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার রাজগঞ্জ, নেহালপুর, চিনাটোলা, খেদাপাড়া, ঢাকুরিয়া, নেংগুড়াহাট, গোপালপুর, মনোহরপুর, দূর্বাডাঙ্গা, সুন্দলপুর, রোহিতা বাজারসহ প্রতিটি হাটবাজারে এসব নিত্যপন্য ও কাঁচা তরিতরকারির মূল্য সীমাহীনভাবে বেড়ে গেছে। প্রতিটি হাটবাজারের ক্রেতা, ভোক্তা সাধারন ও খেটে খাওয়া  নিন্ম আয়ের মানুষ তাই পড়েছে মহাবিপাকে। সাম্প্রতিককালে করোনা’র প্রভাবে এ সব নিম্ন আয়ের মানুষের আয় রোজগার না থাকায়  সীমাহীন দ্রব্যমূল্যের কারণে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। 
গত সপ্তাহকাল ব্যাপি মৌসুমী ভারী বৃষ্টিপাতের দরুন চাহিদার তুলনায় বাজারে মালামালের সংকট থাকায় কাঁচা তরকারির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান। প্রতিটি দোকানে কাঁচা তরকারির আমদানি কম দেখা গেছে। দাম বেশি, খরিদ্দার কম তাই অধিক দাম দিয়ে ব্যবসায়ীরা বেশি মালামাল দোকানে রাখতে পারছেন না। 
মণিরামপুর কাঁচা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা পাইকারি বাজার থেকে মালামাল যে ভাবে কিনে আনি, সেই ভাবেই আমরা বিক্রি করছি। তবে দাম চড়া হওয়ায় পন্য সামগ্রী কিনতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ।
দেশের কয়েকটি জেলায় বন্যা জনিত ফসলের ক্ষয়ক্ষতি এবং চলতি বছরের সবজি উৎপাদনের ভরা মেীসুমে আম্পান ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি ও সাম্প্রতিককালে অতিবৃষ্টিতে সবজি ক্ষেতের ব্যপক ক্ষতি সাধন হওয়ায় বাজারের চাহিদা মোতাবেক সবজি সরবরাহ না থাকায় কাঁচা মালের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন। 
তবে সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলার প্রতিটি হাটবাজারে নিত্যপন্য ও কাঁচা তরকারির সীমাহীন মূল্যবৃদ্ধির পর সচেতন মহলের পক্ষ থেকে দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!