Friday , 25 September 2020
Home » জাতীয় » বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্ক অনেক গভীরে–প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্ক অনেক গভীরে–প্রধানমন্ত্রী
--ফাইল ছবি

বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্ক অনেক গভীরে–প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্কঃ

বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্ক অনেক গভীরে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থে দ্বিপক্ষীয় এই সম্পর্ক আরো জোরদারে আগ্রহী বাংলাদেশ।

গতকাল সোমবার বিকেলে তুরস্কের রাজধানী আংকারায় নবনির্মিত বাংলাদেশ চ্যান্সারি (দূতাবাস) কমপ্লেক্সের ভার্চুয়ালি উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি ঢাকার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এবং আংকারায় ওই কমপ্লেক্সে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুৎ চাভুসগলু উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ তুরস্কের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। তাই আমরা দুই দেশের জনগণের স্বার্থে এই সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।’ এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্কের শিকড় ইতিহাস, বিশ্বাস ও ঐতিহ্য এবং পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে অনেক গভীরে প্রোথিত।

প্রধানমন্ত্রী ১৯৭৪ সালে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয় বলে উল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদিও তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজির তেরো শতকে বাংলা জয়ের ফলে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরো অনেক আগেই স্থাপিত হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এই ঐতিহাসিক সম্পর্ক উদ্যাপন অনুষ্ঠানে আমি ২০১২ সালের ১৩ এপ্রিল তুরস্কের তৎকালীন  প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের আমন্ত্রণে আংকারা সফরের কথা উত্ফুল্লচিত্তে স্মরণ করছি।’

আংকারায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আল্লামা সিদ্দিকী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। এই উপলক্ষে চ্যান্সারি কমপ্লেক্সের ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, প্রেসসচিব ইহসানুল করিম, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ গণভবন প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী চলমান রোহিঙ্গা সংকটকালে সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করায় তুরস্ক সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে এই সংকট সমাধানে আরো সহযোগিতার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা (বিপুলসংখ্যক) বাংলাদেশে আসার পর এরই মধ্যে তিন বছর পার হয়ে গেছে এবং তাদের অবশ্যই ফিরে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি, তুরস্ক এ ব্যাপারে ভূমিকা পালন করতে পারে।’

শেখ হাসিনা বলেন, রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ অর্জনে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী আরো অনেকগুলো কূটনৈতিক অফিস স্থাপন করছে আর এর মাধ্যমে বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আংকারায় এই স্থায়ী দূতাবাস কমপ্লেক্স তুরস্কের সঙ্গে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো জোরদারে বাংলাদেশ যে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তার প্রমাণ। ঢাকায় সম্প্রতি নির্মিত তুর্কি দূতাবাস ভবনও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে তুরস্কের আগ্রহের প্রমাণ।’

চলমান মুজিববর্ষেই ঢাকায় তুরস্কের নবনির্মিত দূতাবাস ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমি আনন্দিত হব যদি তুর্কি প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফর করেন। দয়া করে আমার শুভেচ্ছা ও আমন্ত্রণের বার্তা প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডির কাছে পৌঁছে দেবেন।’

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও তুরস্কের সহায়তায় বাংলাদেশ দূতাবাসের এই কমপ্লেক্সটির নির্মাণ সম্পন্ন করতে দুই বছরেরও কম সময় লেগেছে। দূতাবাস কমপ্লেক্সে লাল রঙের ইট বাংলাদেশি স্থাপত্য ও ঐতিহ্যের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরবে। এই ভবনটি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি আবক্ষ ভাস্কর্য ও একটি শহীদ মিনার ধারণ করে আছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি এটি জানতে পেরে খুব খুশি যে এই কমপ্লেক্সে চমৎকার একটি মিলনায়তনসহ সব ধরনের সুবিধা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি আংকারায় এই নতুন দূতাবাস কমপ্লেক্সটি ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হওয়ায় আমি খুশি।’

সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা শুধু একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশেরই স্বপ্ন দেখেননি। তাঁর স্বপ্ন ছিল একটি ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও সংঘাতমুক্ত বিশ্ব।’

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!