Monday , 8 March 2021
Home » দৈনিক সকালবেলা » অপরাধ ও দূর্নীতি » বাগেরহাটের ফকিরহাটে অনুমোদনহীন চলছে আজিজ কো-অপারেটিভের বেআইনি ব্যাংক ব্যবসা
বাগেরহাটের ফকিরহাটে অনুমোদনহীন চলছে আজিজ কো-অপারেটিভের বেআইনি ব্যাংক ব্যবসা

বাগেরহাটের ফকিরহাটে অনুমোদনহীন চলছে আজিজ কো-অপারেটিভের বেআইনি ব্যাংক ব্যবসা

বাগেরহাট প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের ফকিরহাটে বিশ্বরোড সংলগ্ন গড়ে উঠেছে অনুমোদন বিহীন আজিজ কো-অপারেটিভের বেআইনি ব্যাংক ব্যবসা। কোনরকম নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই চলছে এই প্রতিষ্ঠান। গ্রাহকদের নানারকম প্রলোভন দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সম্পূর্ণ এমএলএম কোম্পানির মতো। এছাড়া ব্যাংক হিসেবে এ প্রতিষ্ঠনের কোনো স্বীকৃতি নেই। কিন্তু নামের শেষে ব্যাংক শব্দটি ব্যবহার করে সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা করে, মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের প্রতিনিয়ত হয়রানি করে যাচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানটি। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান ব্যাংকিং ব্যবসা করতে পারে না। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান নিজ নামের শেষে বা কোনো অংশে ব্যাংক শব্দটি ব্যবহার করা যায় না। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ছিল সম্পূর্ণ এমএলএম কোম্পানির মতো। এছাড়া ব্যাংক হিসেবে এ প্রতিষ্ঠনের কোনো স্বীকৃতি নেই। কিন্তু নামের শেষে ব্যাংক শব্দটি ব্যবহার করে সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা করে, মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে ৩শ’ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তিনি বলেন, এ ৩শ’ কোটি টাকা প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলামের ৫০টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়। পরে এসব অ্যাকাউন্ট থেকে অনলাইনে ট্রান্সফার করে টাকা স্ত্রী ও তিন ছেলের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করেন তিনি। কানাডায় বসবাসরত দুই ছেলের কাছে ১শ’ কোটি টাকা পাচার করেছেন তিনি। টাকার কিছু অংশ দিয়ে তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকায় মার্কেট ও জমি ক্রয় করেন। গ্রাহকরা কেন এমন প্রতিষ্ঠানে টাকা জমা রাখতেন এ প্রশ্নের উত্তরে মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘১২ শতাংশ সুদ ও ১৮ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়ার কথা বলে ১৬০টি শাখার মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে বিভিন্ন মেয়াদি আমানত নেয়া হতো। মেয়াদ শেষ হলে গ্রাহকরা টাকা চাইলে তাদের আজ নয় কাল করে সময় দেয়া হতো। গ্রাহকরা না মানলে তাদের হুমকিও দেয়া হতো। এভাবে ব্যাংকের নামে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করে বেআইনিভাবে ব্যাংক ব্যবসা করে আসছিলেন তাজুল ইসলাম।’ এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় তাজুল ইসলামের স্ত্রী ও তিন ছেলে জড়িত। এ বিষয়ে মানি লন্ডারিং আইনে রমনা থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। তারাও মামলার আসামি।’ সিআইডি জানায়, এমএলএম কোম্পানি হয়েও ব্যাংক বলে ১১ হাজার ৪২৫ জন গ্রাহকের কাছ থেকে ৩শ’ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম। এছাড়া অনুমোদিত ২৬টি শাখার বিপরীতে সারা দেশে ১৬০টি শাখা অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়। ব্যাংকের হিসাব বিবরণী এবং স্টেটমেন্ট পর্যালোচনা করে সিআইডি জানতে পেরেছে, গ্রাহকদের জমাকৃত আনুমানিক ৩শ’ কোটি টাকা নগদ ও অনলাইনে ট্রান্সফার করে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান এম তাজুল ইসলাম বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাব, তার স্ত্রী আফরোজা পারভীন এবং ছেলে সাজ্জাদুল ইসলাম তানভীরের পরিচালিত সাউদি বাংলা প্রপার্টিজ লি., তানভীর এন্টারপ্রাইজ ও তানভীর অটো ব্রিক লিমিটেডের হিসাবে হস্তান্তর করেন। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান ব্যাংকিং ব্যবসা করতে পারে না। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান নিজ নামের শেষে বা কোনো অংশে ব্যাংক শব্দটি ব্যবহার করা যায় না। কিন্তু আজিজ কো-অপারেটিভ সোসাইটি সমবায় অধিদফতর থেকে লাইসেন্স নিয়ে বেআইনিভাবে ব্যাংক ব্যবসা করে আসছে। একই সঙ্গে নিজের নামের শেষে ব্যাংক শব্দটি ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটিকে ‘আজিজ ব্যাংক’ নামে সারা দেশে পরিচিত করেছে। এতে টাকা জমা রাখলে বছর শেষে ১২ থেকে ১৮ শতাংশ মুনাফা দেয়ার ঘোষণা করায় সরলমনা অনেক গ্রাহক টাকা জমা রাখতেন। বিষয়টি ২০০১ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরে এলে সমবায় অধিদফতরে চিঠি দিয়ে বলা হয়, আজিজ কো-অপারেটিভ সোসাইটির নামের শেষে যাতে ব্যাংক শব্দটি না লেখা হয়। এরপর ব্যাংক শব্দ না লিখতে সময়বায় অধিদফতর থেকে আজিজ কো-অপারেটিভ সোসাইটিসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেয়া হয়। কিন্তু তারা উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করে চিঠির কার্যকারিত স্থগিত রাখে। ফলে ব্যাংক শব্দটি ব্যবহার করে বেআইনিভাবে ব্যাংকিং ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে প্রতিষ্ঠানগুলো। সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিষয়ক কেন্দ্রীয় ট্রাস্কফোর্সের বৈঠকেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ওইসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সমবায় অধিদফতরকে আবারও নির্দেশ দেয়া হয়। সিআইডি জানায়, তাজুল ইসলাম ১৯৮৪ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডে কর্মরত ছিলেন। ১৯৮৪ সালে আজিজ কো-অপারেটিভ কমার্স অ্যান্ড ফাইন্যান্স ক্রেডিট সোসাইটি লিমিটেডেরও কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০৫ সালে তিনি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত হন। সমবায় অধিদফতর থেকে প্রতিষ্ঠানটির ২৬টি শাখার অনুমোদন থাকলেও সারা দেশে প্রায় ২০০ টির মতো শাখা পরিচালনা করছেন তিনি। তার হাতে নিয়োগ পাওয়া ৮০ টি শাখার ব্যবস্থাপক ও কর্মকর্তারা অধিক হারে মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ আমানত সংগ্রহ করেন। এর আগে ২০১৭ সালে কানাডার গ্রিন কার্ডধারী তাজুল ইসলামসহ ব্যবস্থাপনা কমিটির বর্তমান ও সাবেক ৩১ জন সদস্যেকে সমবায় অধিদফতর ২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা জরিমানা করে। সমিতির অর্থ তসরুপের দায়ে তাদের জরিমানা করা হয়।

ফকিরহাট শাখার ম্যানেজার মোঃ আমান উল্লাহ আল আমিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমরা এথনো জেলা সমবায় অধিদপ্তর থেকে অনুমোদন পাইনি তবে খুব দ্রুত অনুমোদন নিব।

এ ব্যাপারে বাগেরহাট জেলা সমবায় কমকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমরা এ বিষয়ে কিছু জানি না। আমাদের কাছ থেকে কোন প্রকার অনুমোদন না নিয়েই তারা তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। এ বিষয়ে আমরা তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো। এভাবে ফকিরহাটে অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের অধীক মুনাফার লোভ দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে দাবি এলাকায় সচেতন মহলের। তাই অতিদদ্রুত যদি এদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহন না করা হয় তাহলে শেষ সম্বল হারিয়ে অনেকেরই পথে বসতে হবে এমনটাই দাবি সচেতন মহলের।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*