Thursday , 22 April 2021
Home » দৈনিক সকালবেলা » বিভাগীয় সংবাদ » খুলনা বিভাগ » ছাত্রলীগ কর্মীকে শিবির আখ্যা দিয়ে ইবি শিক্ষকের হুঁশিয়ারী
ছাত্রলীগ কর্মীকে শিবির আখ্যা দিয়ে ইবি শিক্ষকের হুঁশিয়ারী

ছাত্রলীগ কর্মীকে শিবির আখ্যা দিয়ে ইবি শিক্ষকের হুঁশিয়ারী

ইবি প্রতিনিধি: বিভিন্ন ইস্যুতে সমালোচনা করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হুমকি দিয়ে ফেসবুকে ব্লক করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আলতাফ হোসেন রাসেল। তাছাড়া কোন শিক্ষার্থী ইসলামিক কোন কথা বললে তাকে শিবির আখ্যা দিয়েও ব্লক করে দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমন কর্মকাণ্ডে ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় বইছে। শিক্ষার্থীদের কল দিয়ে হেনস্থা করায় ওই শিক্ষকের ব্যাপারে প্রশাসনের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছে আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থী।

সম্প্রতি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের চতুর্থবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী শাহিনুর ইসলাম ফিরোজ ছাত্র ইউনিয়নের নেত্রী চিত্রা ঘোষ পরমার এক বক্তব্যের সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট করেন। সমালোচনা করায় সহকারী অধ্যাপক আলতাফ হোসেন রাসেল তাকে মেসেঞ্জারে কল দিয়ে শাসিয়ে ব্লক করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।       

শাহিনুর ইসলাম ফিরোজ সমালোচনা করে ফেসবুকে লিখেন, ‘যিনি কিনা বাঙালি সংস্কৃতিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে একটি মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে পশ্চিমা, ল্যাংটো, সংস্কৃতি চালু করার প্রয়াস দেখিয়েছেন যা আমাকে এবং আমার বাঙালি সংস্কৃতিকে ভীষণভাবে আঘাত করেছে তার দরুন আমি জানতে চেয়েছি যে এটা কি আদৌও ধর্ষণের বিচার চাওয়া নাকি আমার দেশকে একটি ন্যাংটো সমাজ ব্যবস্থার চালু করার দাবি?

এমন পোস্ট দেওয়ার কারণে পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আলতাফ হোসেন রাসেল ওই শিক্ষার্থীকে মেসেঞ্জারে কল দিয়ে শাসান বলে জানান শাহিন।          

তিনি ওই শিক্ষার্থীকে বলেন, শাহিন তুই তো ছাত্রলীগ করিস তাই না? তোর যে সভাপতি ছিলো না শাহিন (ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহীন) সে এক বাটপাড় তুই এক বাটপাড়। এছাড়াও এমন কর্মকাণ্ড শিবিরের বলে আখ্যা দেন তিনি।

ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের চতুর্থবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী শাহিনুর ইসলাম ফিরোজ বলেন, ধর্ষণের কঠোর বিচার চাই, কিন্তু ধর্ষণের বিচার চাওয়ার নামে, রাত তিনটা পর্যন্ত বাহিরে থাকবে, প্রকাশ্যে দিবালোকে বিড়ি খাইবে ছোট ছোট পোষাক পড়বে এগুলো তো আমাদের সংস্কৃতির সাথে যায় না।

আমি ছাত্র ইউনিয়নের এক নেত্রী চিত্রা ঘোস পরমা যে  অশ্লীল বক্তব্য দিয়েছে তার বিরুদ্ধে  কথা বলেছি। তাই ওনি আমাকে শিবির বানাতে চাচ্ছেন। ছাত্র ইউনিয়নের এই নেত্রীর বক্ত্যবোর বিরুদ্ধে কথা বললে আর ধর্ষণের বিচার চাইলেই কি শিবির হয়ে যাবো। 

তিনি আরো বলেন, আমি এবং সাবেক সভাপতি শাহিন ভাই নাকি বাটপার  কেন আমাকে এবং শাহিন ভাই কে বাটপাড় বলা হলো এবং আমি নাকি শিবির এর মতো কথা বলি আমাকে কেন শিবির বলে আখ্যায়তি করা হলো তার জবাব চাই। আমি আমার ছাত্র জীবন নিয়ে আতঙ্কিত প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থী শাহিনুর ইসলাম ফিরোজ এর সাথে এমন আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে ছাত্রলীগ কর্মী রিজওয়ান উল ইসলাম সহকারী অধ্যাপক আলতাফ হোসেন রাসেল বরাবর খোলা চিঠি প্রেরণ করেন।

এই খোলা চিঠির কমেন্ট বক্সে ইবি ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুগ্ম আহ্বায়ক সজিবুল ইসলাম সজিব মন্তব্য করেন, মাদার..কে জুতার মালা পরাবা ক্যাম্পাসে। কামাল স্যারের বুদ্ধিহীনতার কারণে ওর মতো বোকা.দা শিক্ষক হয় যার কোন রেজাল্টই নাই টিচার হওয়ার মতো।

ছাত্রলীগের সাবেক উপ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আরিফ হাসান লিখেন, এরা হচ্ছে স্বার্থবাদী শিক্ষক। এরা সবার কাছে ভালো। যেই সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন এরা সব জায়গায় থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সমস্ত শিক্ষক নিজে কে বিরাট আওয়ামী লীগ মনে করে তাদের নজরে এই সমস্ত অপকর্ম কিছুই মনে হয় না বরং তারাই এগুলোর প্রশ্রয় দেয়।

তৌফিকুর রহমান বলেন, এসব আবাল মার্কা শিক্ষক শুধু শিক্ষকসমাজকে অপমান করছে না জাতীর বিবেককে ধ্বংস করছে। এদের তথ্য প্রযুক্তি আইনে বিচারের আওতাই আনা হোক।

ছাত্রলীগকর্মী রিজওয়ান উল ইসলাম বলেন, তিনি ইসলাম মানবেন কি মানবেন না এটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু যে মানে বা মানতে চায় তাকে হুমকি দেয়া বা হেনস্থা করা কি ক্রাইম নয়? তার কাছে অসাম্প্রদায়িকতার মানে হয়তো ধর্মহীনতা বা নাস্তিকতা বা ইসলাম বিদ্বেষ হতে পারে আমাদের কাছে নয়। তার এরকম ছাত্র হেনস্থার ব্যাপারে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

আলতাফ হোসেন রাসেল বলেন, যারা অভিযোগ করছে তাদের কাছে যদি প্রমাণ থাকে তবে দেখান। আমাকে শিক্ষকতার জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, কে শিবির করলো বা ছাত্রলীগ করলো এটা আমার দেখার দায়িত্ব না। ক্লাসের বাহিরে যদি কেউ ব্যাক্তিগতভাবে সম্পর্ক রাখতে চায় তার সাথে আমি সম্পর্ক রাখবো কি না, মতের, পথের মিল পরে কি না সেটা আমার ইচ্ছার ব্যাপার। কারো সাথে সম্পর্ক না রাখলে কেউ যদি ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বিরুদ্ধে লেখে এতে ত আমার কিছু করার নাই। ক্লাসের বাহিরে আমার সাথে সামাজিক কাজে যারা থাকতে চায় তাদের সাথে আমার আইডলজির মিল পরে কিনা আমি চেক দেই। চেক দিয়ে রাখি আর না হলে বাদ দিয়ে দেই। 

প্রক্টর অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন বলেন, ফেসবুকে এই পোস্টটা আমার নজরে এসেছে। আমি প্রো-ভিসি স্যারকে জানিয়েছি। ভিসি স্যারকে জানানোর জন্য ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*