Thursday , 29 July 2021
ব্রেকিং নিউজ
Home » জনতার-কলাম » আসুন সাংবাদিক হই, সুবিধা নেই!
আসুন সাংবাদিক হই, সুবিধা নেই!

আসুন সাংবাদিক হই, সুবিধা নেই!

রাহাত হোসাইন:
আপনি মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন, কিন্তু মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নেই, ড্রাইভিং লাইন্সেস নেই, কোন বৈধ কাগজ-পত্র নেই, কোন সমস্যা নেই; কারণ আপনি সাংবাদিক! আপনি মাদকের ব্যবসা করেন, মাদকাসক্ত, কোন সমস্যা নেই; কারণ আপনি সাংবাদিক! আপনি বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা করেন, কোন সমস্যা নেই; কারণ আপনি সাংবাদিক! আপনি শিক্ষক কিংবা অন্য পেশায় কর্মরত, কিন্তু স্কুল/কলেজে যান না কিংবা নিয়মিত অফিস করেন না, কোন সমস্যা নেই, আপনি তো সাংবাদিক! আপনার রয়েছে বাস-ট্রাক-মাইক্রোবাসের ব্যবসা, রয়েছে হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, কিন্তু কোন কিছুরই নেই যথাযথ কাগজপত্র, আপনার এসব নিয়ে কোন চিন্তাই নেই, কারণ আপনি তো সাংবাদিক! আপনি ঠিকাদারী করবেন চলে আসুন একটা সাংবাদিকতার কার্ড নিয়ে, দেখবেন আপনার জন্য সবকিছু কত সহজ! আপনি সরকারি অফিসে গিয়ে দালালি করবেন, বেসরকারি ও ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি করবেন, কোন সমস্যা নেই; কারণ আপনি তো বিশাল সাংবাদিক! আপনার হাতে রয়েছে সাংবাদিকতার আশ্চর্য কার্ড!

সত্যিই বর্তমান সময়ে সাংবাদিকতার কার্ডের ক্ষমতা আলাদিনের আশ্চর্যের দৈত্যের ক্ষমতার চেয়ে কম নয়; বরং বেশি। কারণ দৈত্যকে হুকুম করবেন তারপর সে কাজ করবে; কিন্তু আপনার হাতে সাংবাদিকতার কার্ড থাকলে আর হুকুম করা লাগবে না আপনিই সব পারবেন। দৈত্য হয়ত অবৈধ কর্মকান্ড করতে তার নীতিতে বাধাপ্রাপ্ত হতো; কিন্তু আপনার সেই সমস্যা নেই, কারণ হয়ত আপনি এরকম অবৈধ সুযোগ নেওয়ার জন্যই এসেছেন সাংবাদিকতায়।

সাংবাদিকতা হচ্ছে একটি সমাজ, একটি রাষ্ট্রের দর্পণ। রাষ্ট্রের তৃতীয় স্তম্ভ। আর সেই সাংবাদিকতা এখন কিছু অপসাংবাদিকদের জন্য নেমে যাচ্ছে সমাজের সবচেয়ে নিচু স্তুরে। দর্পণের পরিবর্তে সেটা হয়েছে ঘন কুয়াশায় আবৃত্ত কোন জলাশয়। যেখানে গেলেই বিপদে পড়ছে মানুষ। অথচ বিপদগ্রস্ত মানুষের শেষ ভরসা হচ্ছেন সাংবাদিক।

তবে সাংবাদিকতার এই সংকট একদিনে কিংবা যারা অপসাংবাদিকতা করছেন শুধু তাদের জন্য তৈরি হয়নি। এর পিছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের নানাবিধ কারণ।

বর্তমান সময়ে সাংবাদিকতায় নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের ভীড় করার পিছনে উপরের সুবিধাগুলো পাওয়া যাবে এমন চিন্তা হচ্ছে অন্যতম কারণ। আর এসব অসৎ, নীতিভ্রষ্ট মানুষগুলোকে সাংবাদিকতার কার্ড পেতে সহযোগিতা করছে সাংবাদিকতার নীতিমালার দূর্বলতা, সুনির্দিষ্ট কাঠামোর অভাব, ব্যবসায়িকদের হাতে মিডিয়া, অনিয়মিত শত শত পত্রিকার অনুমোদন বহাল, নিয়ন্ত্রিনহীন ডটকম-ডটটিভি, রাজনৈতিক স্বার্থ-সিদ্ধি, সাংবাদিক সংগঠনের দুর্বলতা ও সাংবাদিকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল।

প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি, স্বায়তশাসিত কিংবা ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে একজন প্রধান থাকেন। কিছু নিয়ম-শৃঙ্খলা, আইন-কানুন থাকে। যেখানে কোন কর্মী যদি অপরাধ করেন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রদান করা যায়। অধিকাংশ পেশাজীবীর রয়েছে শক্তিশালী পেশাজীবী সংগঠন, যা সারাদেশব্যাপী নিয়ন্ত্রিত হয়। যার ফলে সেই পেশাজীবীর যেমন পেশার প্রতি থাকে দায়বদ্ধতা, তেমনি থাকে অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের সুযোগ।

কিন্তু সাংবাদিকদের নেই দেশব্যাপী নিয়ন্ত্রিত একক কোন সংগঠন। দেশব্যাপী কেন জেলা পর্যায়ও নেই কোন একক সংগঠন। নেই কোন সাংবাদিকদের সুসংগঠিত একক কর্তৃত্বাধীন সংগঠন। যার ফলে কোন সাংবাদিক কোন অনিয়মের সাথে জড়িয়ে পরলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রদান করার কিংবা তার কোন জবাবদিহিতার স্থান নেই। কিংবা সাংবাদিকতা শুরু করতে কোন অনুমতিরও প্রয়োজন নেই। যার ফলে ডটকম, ডটটিভি দিয়ে সারাদেশে এক হাজারও বেশি সাংবাদিক নিয়োগ দিয়ে, যে কোন ব্যক্তি যেমন লাভবান হচ্ছেন, তেমনি সেই সাংবাদিকরাও লাভবান হচ্ছেন।

আগের দিনের জমিদাররা তাদের জমিদারি রক্ষার জন্য গড়ে তুলতেন লাঠিয়াল বাহিনী। কিন্তু বর্তমানে অনেক ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসার প্রচার-প্রসার, অবৈধ ব্যবসাকে বৈধতা দিতে কিংবা ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে গড়ে তুলেছেন মিডিয়া। এসব সংবাদ মিডিয়া মালিক পক্ষের ইচ্ছা অনুযায়ী পরিচালিত হওয়ায় সেখানে খর্ব হচ্ছে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, খর্ব হচ্ছে সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা। আর এই সুযোগে অনেক সাংবাদিকও নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত। ফলে নষ্ট হচ্ছে আদর্শিক সাংবাদিকতার প্লাটফর্ম।

আপনি যদি ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল, শিক্ষক বা অন্য যেকোন পেশায় নিযুক্ত হতে চান, তাহলে অবশ্যই আপনাকে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্য দিয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আসতে হবে। কিন্তু আপনি সাংবাদিক হবেন, সাংবাদিকতার কার্ড পেতে চান, শিক্ষাগত যোগ্যতা কম, কোন ব্যাপার না- ঢাকা চলে যান আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকা শত শত পত্রিকা কিংবা সমুদ্রের পানির মতো অফুরন্ত ডটকম, ডটটিভির একটি কার্ড নিয়ে চলে আসুন আর ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জানিয়ে দিন আপনি পৃথিবীর একজন অন্যতম মহান সাংবাদিক! সাংবাদিক হওয়ার এই অটোমেশিন বন্ধ না হলে হয়ত এক সময় আর জনগণ কিংবা অন্য পেশার মানুষই পাওয়া যাবে না, কারণ সবাই সাংবাদিক হয়ে যাবেন।

বাংলাদেশে রয়েছে শত শত ডিএফপি মিডিয়াভুক্ত দৈনিক পত্রিকা, রয়েছে সাপ্তাহিক, মাসিক পত্রিকা, রয়েছে সরকারি-বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন, আর এর সাথে সাথে রয়েছে সাংবাদিক তৈরির অটোমেটিক হাজার হাজার কারখানা ডটকম, ডটটিভি। এগুলোর মধ্যে প্রথম শ্রেণির কিছু দৈনিক এবং সরকারি-বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন ছাড়া অন্যগুলোর অস্তিত্ব খুঁজে পেতে হয়ত আপনাকে মঙ্গলগ্রহ পর্যন্তও যাওয়া লাগতে পারে।

আর নামস্ববর্স এগুলো হতে আইডি কার্ড এনেই সগর্বে বলে বেড়ান তিনি সাংবাদিক। এখনই নামেমাত্র এসব মিডিয়াগুলোকে নিয়ন্ত্রন করা প্রয়োজন । কে সাংবাদিক পরিচয় দিতে পারবেন তা সুনির্দিষ্ট করে জনগণের মধ্যে প্রচারের সময় এসেছে।

রাজনীতি আর সাংবাদিকতা এখন ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েছে। নিজেকে শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করতে এখন অনেক হাইব্রীড রাজনীতিবিদরাও ব্যস্ত। এর ফলে এসব অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও ব্যাপক প্রচারের জন্য তারা একশ্রেণির দালাল সাংবাদিক তৈরি করেন। আর এসব নেতার আর্শীবাদে রাজনীতি এবং সাংবাদিকতা উভয় ক্ষেত্রেই এসব দালাল সাংবাদিকরা সুবিধা নিতে ব্যস্ত থাকেন, এমনকি সুবিধা পেয়েও থাকেন।

সাংবাদিকতার এসব অপসাংবাদিকদের আগমনের পিছনে আরেকটি অন্যতম কারণ হচ্ছে সাংবাদিক সংগঠনের দুর্বলতা ও সাংবাদিকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। পূর্বেই বলেছি সাংবাদিকদের দেশব্যাপী একক সংগঠন না থাকায় তাদের কোন নিয়ন্ত্রন নেই, নেই কোন জবাবদিহিতা। বর্তমানে সাংবাদিকদের এমনও সংগঠন দেখা যায় যার নেই কোন নিজস্ব স্বক্রীয়তা, নেই কোন বৈশিষ্ট্য।

অনেক সময় সাংবাদিকদের অনেক সংগঠন পরিচালিত হয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দ্বারা। তাই সংগঠনগুলো সাংবাদিকদের স্বার্থকে গুরুত্ব না দিয়ে সেই নেতাকে বেশি গুরুত্ব প্রদান করেন। ফলে তাদের সাংবাদিকতাও নিয়ন্ত্রিত হয় তার দ্বারা। এমনকি দেখা যায় ঐ সকল সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দ্বারা রাজনৈতিক নেতা তার নিয়ন্ত্রিত একট সাংবাদিক শ্রেণি তৈরি করেন। যার ফলে অনেক আগাছা সাংবাদিকে পরিণত হন।

বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক তৈরি ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে সাংবাদিকদের জড়িয়ে পড়ার পিছনে ইন্ধন যোগায় সাংবাদিকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। একটি সংগঠন তৈরি হলে সেখানে দেখা যায় জেলায় কর্মরত অধিকাংশ সাংবাদিকদের উপস্থিতি নেই। ফলে তার বিপরীতে তৈরি হয় আরেকটি সংগঠন। কারণ আমাকেও তো নেতা হতে হবে!

এভাবে সাংবাদিকদের একাধিক সংগঠন তৈরি করতে গিয়ে এসব সাংবাদিক নেতারা নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য গড়ে তোলেন একটি সাংবাদিক শ্রেণি। কিন্তু তিনি লক্ষ্য করেন না কোন অখ্যাত মিডিয়া কিংবা কোন নামস্বর্বস ডটকমের সাংবাদিক তৈরি করছেন কিংবা কোন শ্রেণির মানুষকে তিনি সাংবাদিকতার মতো মহান পেশায় নিয়ে আসছেন। কারণ তার মূল লক্ষ্য তার দলের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা।

আর যখন তার বিপরীত নেতা সাংবাদিক এই কাজটি করেন তখন তিনি ঐ নেতার দিকে আঙুল তোলেন এমন সাংবাদিক তৈরি করার জন্য। অথচ তিনিও যে সেই কাজটি করেছেন সেটা খেয়াল করেন না। সাংবাদিক সংগঠনগুলোর কমিট গঠনে অস্বচ্ছতা, অনিরপেক্ষতা এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলনের কারণে এসব অখ্যাত মিডিয়ার সাংবাদিকরা সুযোগ পেয়ে থাকেন।

সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। সুষ্ঠ ও সুন্দর সমাজ এবং রাষ্ট্র বিনির্মাণে সাংবাদিকতার ভূমিকা অপরিসীম। দীর্ঘকালের সাংবাদিকতার গৌরব আর ঐতিহ্য আজ কিছু নামধারী সাংবাদিকের কাছে বিপন্ন।

আপনারা যারা সাংবাদিকতায় এসেছেন অবৈধ সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার জন্য তারা হয়ত ভাবছেন সাংবাদিকরা সবার ঊর্ধ্বে। এটা সম্পূর্ণ ভুল। কারণ অপরাধী, সবসময়ই অপরাধী। সে সাংবাদিক কিংবা অন্য পেশার হোন। আপনি ভাবছেন এমন সময় ছিল যাদের ভয়ে আপনি পালাতেন, আর আজ আপনি সাংবাদিক হওয়ার কারণে তারা ভীত-সন্ত্রস্ত। এটা আপনার সম্পূর্ণ ভুল, মিথ্যা ও কল্পনাপ্রসূত চিন্তা।

অপসাংবাদিকতা করলে আপনার সেই শক্তি কিংবা গৌরব থাকবে না, আপনি একদিন ধরা পরবেন। অনেক এমন অপসাংবাদিকদের উত্থান ঘটেছিল এবং তাদের নির্মম পতনও ঘটেছে। সাময়িকভাবে এসব নামধারী সাংবাদিকরা লাভবান হলেও একসময়ে তারা ইতিহাসের অতলগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

তবে এসব অপসাংবাদিকদের জন্য প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছেন সৎ, নির্ভীক, সাহসী ও প্রকৃত সাংবাদিকরা। নানান সংকট ও উদ্ভট পরিস্থিতি তাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে। তারপরও তারা এগিযে চলেছেন। ভূমিকা রাখছেন দেশ ও দশের উন্নয়নে, সুষ্ঠ ও সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে।

এখনই সময় অপসাংবাদিকতা রুখে দেওয়ার। সাংবাদিকতার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি, জবাবদিহিমূলক শক্তিশালী সংগঠন, যত্রতত্র মিডিয়ার অনুমোদন বন্ধ, ডটকম, ডটটিভিকে দ্রুত অনুমোদনের আওতায় আনা, ব্যক্তি, রাজনীতি কিংবা ব্যবসায়িক স্বার্থে মিডিয়ার ব্যবহার বন্ধ, অপ্রয়োজনীয় সাংবাদিক সংগঠন বিলুপ্ত করা এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল বন্ধের মাধ্যমেই অপসাংবাদিকতা, অর্ধশিক্ষিত, পথভ্রষ্ট ও সুবিধাবাদী ব্যক্তিদের সাংবাদিক হওয়ার পথ বন্ধ করা সম্ভব।

পাশাপাশি সাংবাদিকতার মহান পেশাকে আরো বেশি পেশাদারিত্ব ও সৎ, নির্ভীক, সাহসী এবং প্রকৃত সাংবাদিকদের পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে ভালো ও মন্দের পার্থক্যটা আরো বেশি স্পষ্ট করে দেয়া প্রয়োজন।

এখনই যদি এসব ভুয়া, উদ্ভট, নীতিহীন সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য বন্ধ না করা যায় তাহলে হয়ত অদূর ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষ এদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তখন হয়ত বদনামটা পুরো সাংবাদিক সমাজকেই বহন করতে হবে।

তাই নেতা হওয়ার চিন্তাকে বাদ দিয়ে সাংবাদিকতার আদর্শকে বাঁচাতে এবং সাংবাদিকতাকে রক্ষা করতে প্রকৃত সাংবাদিকদের ঐক্য এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। আর অপসাংবাদিকতা বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি।

লেখক:
সাংবাদিক, চ্যানেল আই, মাদারীপুর।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*