Thursday , 22 April 2021
Home » জাতীয় » ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড: বুধবারের মধ্যে জারি হতে পারে অধ্যাদেশ
ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড: বুধবারের মধ্যে জারি হতে পারে অধ্যাদেশ
--প্রতীকী ছবি

ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড: বুধবারের মধ্যে জারি হতে পারে অধ্যাদেশ

অনলাইন ডেস্ক:

ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান যুক্ত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ সংশোধনের প্রস্তাব আজ সোমবার মন্ত্রিসভায় উঠছে। এর আগে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আইনের সংশোধনের খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং শেষে সংশোধন প্রস্তাবটি আজ মন্ত্রিসভায় উঠছে। প্রস্তাবিত খসড়াটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন পেলে সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তা অধ্যাদেশ আকারে জারি করতে পারেন চলতি সপ্তাহেই।

জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলমান না থাকায় সংশোধিত আইন অধ্যাদেশ আকারে জারির চিন্তা চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আগামী বুধবার সন্ধ্যায় চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাবেন। তাঁর দেশে ফেরার কথা আগামী ২২ অক্টোবর। তাই রাষ্ট্রপতির দেশ ছাড়ার আগে অর্থাৎ বুধবারের মধ্যেই অধ্যাদেশ জারি হতে পারে। অধ্যাদেশ জারি করা হলে সংবিধানের ৯৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ অধিবেশন বসার পর প্রথম বৈঠকেই তা উপস্থাপন করতে হবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন করাতে হবে।

সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, সংসদ অধিবেশন চলমান না থাকলে সে ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে কোনো বিধান কার্যকর করতে হলে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ আকারে জারি করতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের অধিবেশন বসার পর তা প্রথম বৈঠকেই উপস্থাপন করতে হবে। সুতরাং ধর্ষণের জন্য শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান কার্যকর করতে হলে এই মুহূর্তে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি ছাড়া বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াও অধ্যাদেশ আকারে জারির সম্ভাবনার কথা জানান। তিনি বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ৯(১) ধারা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনের সংশোধনী সোমবার মন্ত্রিসভায় উঠবে। এরপর তা রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হতে পারে।

দেশে একের পর এক ধর্ষণসহ নির্যাতন-নিপীড়নের ঘটনায় সারা দেশে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিক্ষোভ করছে। তাদের দাবি, ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান কার্যকর করতে হবে। এ পটভূমিতে এরই মধ্যে আইন মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গত ৮ অক্টোবর গণমাধ্যমকে বলেন, ‘একটি জনগোষ্ঠীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আইন পরিবর্তনের পদক্ষেপ নিচ্ছি। আগামী সোমবার ক্যাবিনেটে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।’ আইনমন্ত্রীর এ বক্তব্যের পর সর্বস্তরে এক ধরনের স্বস্তি এসেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর আইন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট আইনটি (নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০) সংশোধনের উদ্যোগ নেয়। আইনটির ৯(১) ধারা সংশোধন করা হচ্ছে। এই সংশোধনী যাতে সংবিধান পরিপন্থী না হয়, সেটি মাথায় রেখেই খসড়া তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ আইনের ৯(১) ধারায় ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন শাস্তির বিধান রয়েছে। দণ্ডবিধির ৩৭৬ নম্বর ধারায়ও একই বিধান রয়েছে। তবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ একটি বিশেষ বিধান হওয়ায় এটিকে অন্য সব আইনের ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ফলে ধর্ষণের অভিযোগের সব মামলার এই আইনে বিচার চলছে। এ কারণেই আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, নারী ও শিশু নির্যাতন তথা ধর্ষণের বিচারের জন্য ১৯৯৫ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন বিশেষ বিধান, ১৯৯৫ নামে একটি আইন করা হয়। ওই আইনের ৬(১) নম্বর ধারায় ধর্ষণের শাস্তি ছিল মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। ২০০০ সালে আইনটি বাতিল করা হয়। এরপর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ নামে নতুন আইন করা হয়।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*