Wednesday , 21 April 2021
Home » দৈনিক সকালবেলা » বিভাগীয় সংবাদ » খুলনা বিভাগ » কুষ্টিয়ার ঐতিহাসিক স্থান ও পর্যটনকেন্দ্র রবীন্দ্র স্মৃতিবিজড়িত ঠাকুরবাড়ি
কুষ্টিয়ার ঐতিহাসিক স্থান ও পর্যটনকেন্দ্র রবীন্দ্র স্মৃতিবিজড়িত ঠাকুরবাড়ি

কুষ্টিয়ার ঐতিহাসিক স্থান ও পর্যটনকেন্দ্র রবীন্দ্র স্মৃতিবিজড়িত ঠাকুরবাড়ি

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: দক্ষিণে গড়াই, উত্তরে পদ্মা নদীর অপর পারে পাবনা শহরের বিপরীতে এর অবস্থান। কুষ্টিয়া কুমারখালি উপজেলার শিলাইদহ নামটি আধুনিক। আগে স্থানটি খোরশেদপুর গ্রাম নামে পরিচিত ছিল। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবার এই গ্রামটি কিনে নেওয়ার আগে এখানে একটি নীলকুঠি ছিল। শেলী নামের একজন নীলকর এটি নির্মাণ করেছিলেন বলে জানা যায়। গড়াই এবং পদ্মা নদীর মিলিত প্রবাহের ফলে সৃষ্ট গভীর একটি ‘দহ’ থেকে গ্রামটি শেলীদহ নামে পরিচিতি লাভ করেছিল। কালক্রমে তা শিলাইদহতে পরিণত হয়। ১৮০৭ সালে রামলোচন ঠাকুরের উইলসূত্রে রবীন্দ্রনাথের পিতামহ দ্বারকানাথ ঠাকুর এই জমিদারির মালিক হন। রবীন্দ্রনাথ জমিদারি দেখাশোনার দায়িত্ব নিয়ে প্রথম শিলাইদহে আসেন ১৮৮৯ সালের নভেম্বর মাসে। ১৮৯১ থেকে ১৯০১ সালের মধ্যে এক দশকেরও বেশি সময় রবীন্দ্রনাথ অনিয়মিতভাবে এখানে অবস্থান করেছেন।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবস্থানকালে নানা উপলক্ষে শিলাইদহে এসেছিলেন স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, প্রমথ চৌধুরী, মোহিতলাল মজুমদারসহ তৎকালীন বঙ্গের খ্যাতনামা বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবী। এই কুঠিবাড়ি ও পদ্মার বোটে বসেই রবীন্দ্রনাথ রচনা করেন ‘সোনার তরী’, ‘চিত্রা’, ‘চৈতালী’, ‘কথা ও কাহিনী’, ‘ক্ষণিকা’, ‘নৈবেদ্য’ ও ‘খেয়া’র অধিকাংশ কবিতা, পদ্মা পারের গল্প, নাটক, উপন্যাস, পত্রাবলী ও ‘গীতাঞ্জলি’ এবং ‘গীতিমাল্যের’ গান। আবহমান গ্রামবাংলার অপরূপ সৌন্দর্যে ভরা শিলাইদহ ও পদ্মার প্রতি রবীন্দ্রনাথের ছিল গভীর অনুরাগ। রবীন্দ্রনাথ তাঁর একটি চিঠিতে লিখেছেন, ‘আমার যৌবন ও প্রৌঢ় বয়সের সাহিত্যরস-সাধনার তীর্থস্থান ছিল পদ্মা-প্রবাহচুম্বিত শিলাইদহ পল্লীতে।’শিলাইদহ কুঠিবাড়ি আম, কাঁঠাল ও অন্যান্য চিরসবুজ বৃক্ষের বাগান, একটি পুষ্পোদ্যান, দুটি পুকুরসহ প্রায় ১১ একর মনোরম এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। শিলাইদহে রয়েছে গ্রামীণ পরিবেশ আর মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। দক্ষিণ দিকে অবস্থিত অতি সাধারণ অথচ আকর্ষণীয় প্রবেশ তোরণ পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করা যায়। কুঠিবাড়ি ভবনটি একটি বেষ্টনী প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। নিচতলা ও দোতলায় বিভিন্ন আকারের মোট ১৫টি কক্ষ রয়েছে। উন্মুক্ত ব্যালকনিগুলো রানীগঞ্জ টালি দিয়ে তৈরি ঢালু ছাদ দ্বারা আংশিক আচ্ছাদিত। নিচতলার ওপরের মধ্যবর্তী অংশে রয়েছে ত্রিকোণ প্রান্তবিশিষ্ট একটি ঢালু ছাদ। দোতলার ওপরের পিরামিড আকৃতির ছাদ ভবনটি আরও বৈচিত্র্য এনে দিয়েছে সৌন্দর্যকে। বর্তমানে শিলাইদহ কুঠিবাড়ি প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর কর্তৃক সংরক্ষিত একটি জাতীয় ইমারত। সরকারি উদ্যোগে এখানে ‘রবীন্দ্র স্মৃতি জাদুঘর’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।শিলাইদহের কুঠিবাড়ি রবীন্দ্রভক্তদের তীর্থস্থান। প্রতিবছর ২৫ বৈশাখ জাতীয় পর্যায়ে কবির জন্মবার্ষিকী ও ২২ শ্রাবণ বিশ্বকবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এখানে অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি অনেক পণ্ডিত ব্যক্তি ও শিল্পী, কবি রবীন্দ্রনাথের জীবন ও কর্মভিত্তিক আলোচনা এবং সংগীত পরিবেশনে অংশগ্রহণ করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৪১ সালে কলকাতার নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*