Wednesday , 21 April 2021
Home » দৈনিক সকালবেলা » উপজেলার খবর » ৬ মন কয়েন নিয়ে বিপাকে মহম্মদপুরের সবজি বিক্রেতা
৬ মন কয়েন নিয়ে বিপাকে মহম্মদপুরের সবজি বিক্রেতা

৬ মন কয়েন নিয়ে বিপাকে মহম্মদপুরের সবজি বিক্রেতা

মহম্মদপুর( মাগুর) উপজেলা প্রতিনিধি:    
অসহায়ের সহায় হয়ে দরিদ্র সবজি বিক্রেতা খাইরুল ইসলাম খবির নিজেই এখন অসহায়। দরিদ্রঘরে জমেছে এক টাকার কয়েনের পাহাড়। গচ্ছিত কয়েনের ওজন প্রায় ৬ মণ। টাকার অংকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা। এই মোটা অংকের অর্থ কোনো উপকারেই আসছেনা তার। দরিদ্র ভিক্ষুকদের হাত পেতে আনা এক টাকার কয়েন অন্য ব্যবসায়ীরা না নিলেও মানবিকতার কারণে কাউকেই ফিরিয়ে দেননি ওই সবজি বিক্রেতা। এক টাকার কয়েন নিয়েই তিনি সবজি বিক্রি করেছেন। মানবিকায় উপকার করে তিনিই এখন বিপদে। 
খাইরুল ইসলাম খবির মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সদর বাজারে সবজি বিক্রেতা এবং স্থানীয় জাঙ্গালিয়া গ্রামের মৃত: জহুর ফকিরের ছেলে।
গত শুক্রবার সকালে দরিদ্র সবজি বিক্রেতা খাইরুল ইসলাম খবিরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বস্তা ও বালতি ভর্তি এক টাকার কয়েন। তিনি তার স্ত্রী ও ছেলো ঘরের মেঝেতে সব কয়েনগুলো ঢেলে দেখান। এরপর ওজন করা হয়। প্রায় ৬ মণ। ওজনের পর ৮টি বালতিতে তোলা হয়। এক বালতির কয়েন গণনা করা হয়। এক বালতিতে সাড়ে সাত হাজার টাকার কয়েনেরও বেশি। ওই হিসেব অনুযায়ী ৮টি বালতিতে প্রায় ৬০ হাজার টাকা হবে।
খাইরুল ইসলাম খবির বলেন, ২৫ বছর ধরে সবজি বিক্রি করে আসছি। তবে গত ১০ বছরে কয়েনগুলো জমেছে। বাজারের অন্যকোনো ব্যবসায়ী এক টাকার কয়েন নিতেন না। তিনি মানবিক কারণে কয়েন বিনিময়ে সবজি বিক্রি করতেন। কারণ হিসেবে তিনি জানান, গ্রামের দরিদ্র ভিক্ষুকরা মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে সাহায্য হিসেবে যাকিছু এক টাকার কয়েন পেতেন তা দিয়ে আমার কাছে সবজি ক্রয় করতে আসলে আমি কাউকেই ফিরিয়ে দেইনি। ফিরিয়ে দিলে কষ্ট পাবেন; এটা ভেবে এক টাকার কয়েন নিয়েই তাদেরকে সবজি দিয়েছি। তারা খুব খুশি হয়েছেন। তাদের খুশিটাকে বড়ো করে দেখেছি। এভাবে উপকার করতে গিয়ে আমার পূঁজি আটকে গেছে।
খাইরুল ইসলাম খবিরের পরিবারের স্ত্রী ও সন্তানসহ সদস্য সংখ্যা ৪। দরিদ্র পরিবার। ছোট্ট পরিসরে সবজি বিক্রি করে সংসার চালান। কিন্তু ৬ মণ ওনের এক টাকার প্রায় ৬০ হাজার টাকা ঘরে অলসভাবে পড়ে থাকায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি। কারণ এই কয়েনগুলো কেউ নিচ্ছেন না। স্থানীয় ব্যাংকগুলোও তার কয়েনগুলো বদলে দিচ্ছেন না বলে জানান। এই পরিস্থিতিতে তিনি প্রতিকার চান।
দরিদ্র সবজি বিক্রেতা খাইরুল ইসলাম খবির তার গচ্ছিত কয়েনগুলো বদলে টাকা পাওয়ার জন্য ব্যাংকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন ককর্তৃপক্ষের সুদৃস্টি কামনা করেছেন।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*