Sunday , 18 April 2021
Home » দৈনিক সকালবেলা » বিভাগীয় সংবাদ » জেলার-খবর » কুড়িগ্রামে ভূরুঙ্গামারীতে ৫ হাজার পরিবারের কৃষি ও বসতভিটার ৩’শ বিঘা জমি অধিগ্রহণ ছাড়াই দখলের প্রক্রিয়ার অভিযোগ
কুড়িগ্রামে ভূরুঙ্গামারীতে ৫ হাজার পরিবারের কৃষি ও বসতভিটার ৩’শ বিঘা জমি অধিগ্রহণ ছাড়াই দখলের প্রক্রিয়ার অভিযোগ

কুড়িগ্রামে ভূরুঙ্গামারীতে ৫ হাজার পরিবারের কৃষি ও বসতভিটার ৩’শ বিঘা জমি অধিগ্রহণ ছাড়াই দখলের প্রক্রিয়ার অভিযোগ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের সোনাহাট স্থলবন্দর ও পার্শ্ববর্তী ৫ হাজার অসহায় পরিবারের কৃষি ও বসতভিটার ৩’শ বিঘা জমি অধিগ্রহণ ছাড়াই দখল প্রক্রিয়া চলার অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেও প্রতিকার না পেয়ে হতাশ এখানকার মানুষজন। অবশেষে সমাধান চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর আবেদন করেছেন দরিদ্রপীড়িত কুড়িগ্রাম জেলার বিশাল এই জনগোষ্ঠী।
জানা গেছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন যুদ্ধের প্রয়োজনে তৎকালীন সময়ে তড়িঘড়ি করে বাগভান্ডার হতে সোনাহাট স্থলবন্দরগামী রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়। অল্প সময়ে যুদ্ধ শেষ হওয়ায় রাস্তার জমি অধিগ্রহণ করা হয় না বা জমি মালিকগণকে কোন প্রকার ক্ষয়ক্ষতির অর্থ প্রদান করা হয় না। সেহেতু উক্ত রাস্তার জমি ব্যক্তি মালিকানায় এস.এ রেকর্ড চূড়ান্ত হয়। জমির মালিকগণ তাদের নামে উক্ত জমি নামজারি করে সরকারের সকল ভূমি আইন মেনে ভূমি উন্নয়ন পরিশোধ করে আসছিল। পরবর্তী মাঠ জরিপের সময় জনস্বার্থে রাস্তাটি কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের নামে রেকর্ড হয় এবং রাস্তার দুই পার্শ্বের জমি স্বত্ব দখলীয় মালিকগণের নামে রেকর্ড প্রদান করেন। এমতাবস্থায় এলাকার একটি কুচক্রি মহলের প্ররোচণায় তৎকালীন ভূরুঙ্গামারী ভূমি অফিসে কর্মরত কানুনগো জাহিদুল ইসলাম (বর্তমান কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ভূমি হুকুম দখল কর্মকর্তা) নিজ হাতে কিছু কাগজপত্র তৈরি করে সামরিক ভূ-সম্পত্তি নর্দান সার্কেল বগুড়া সেনানিবাসকে তাদের জমি বলে প্রচার করলে উক্ত সংস্থা তাদের নামীয় রাস্তার দু’পার্শ্বের বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কৃষি জমি তাদের বলে দাবি করে আসছে। অপরদিকে, ৩২নং বাগভান্ডার ও ৪৪ নং দেওয়ানের খামার মৌজার তসদিক চলাকালে উপরে উল্লেখিত সামরিক দপ্তর হতে ডিসপুট কেস করলে তৎকালীন ভূরুঙ্গামারী সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার তাদের সঠিক কাগজপত্র না থাকায় ডিসপুট কেসগুলি না মঞ্জুর করে ব্যক্তি মালিকদের নামে রেকর্ড বহাল রাখে ও ডিপি খতিয়ান প্রস্তুত করেন। ৪৫নং গছিডাঙ্গা, ৪৬ নং পাইকেরছড়া ও ৬৪ নং বানুরকুটি তিনটি মৌজায় সামরিক ভূ-সম্পত্তি দপ্তর বগুড়া ৩০ ধারা আপত্তি কেস দায়ের করে। এরই প্রেক্ষিতে ৪৬ নং পাইকেরছড়া মৌজা ও ৪৫নং গছিডাঙ্গা মৌজার আপত্তি কেসগুলি শুনানি অন্তে তৎকালীন সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার বগুড়া সামরিক ভূ-সম্পত্তি প্রশাসক নর্দার্ন সাকেল তাদের দায়েরকৃত ৩০ ধারা আপত্তি কেসের স্বপক্ষে কোন প্রকার বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে না পারায় কেসগুলি নামঞ্জুর করে ব্যক্তি মালিকানা রেকর্ড বহাল রাখেন। বগুড়া সামরিক ভূ-সম্পত্তি প্রশাসক নর্দার্ন সার্কেল একের পর এক মামলায় পরাজিত হয়ে ভূরুঙ্গামারী সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসারের কাছে ১ বছর সময় প্রার্থনা করলে ভূরুঙ্গামারী সেটেলমেন্ট অফিসার গত ০৮.০৭.২০২০ তারিখে ৫০(২) স্মারকে রংপুর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসারকে বিষয়টি অবগত করলে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক গত ১২.০৮.২০২০ইং তারিখে ৫১৮নং স্মারকে সময় না দিয়ে নালিশী ৫টি মৌজার আপত্তি কেসগুলি বিধি মোতাবেক নিষ্পত্তির আদেশ দিলে রংপুর সেটেলমেন্ট অফিসার ভূরুঙ্গামারী সেটেলমেন্ট অফিসারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলেন। এ ব্যাপারে স্বত্ব দখলীয় ভূমি মালিক কমিটির আহবায়ক তাইফুর রহমান মুকুল জানান- বগুড়া ভূ-সম্পত্তি প্রশাসক সেনানিবাস নর্দার্ন সার্কেল গত ২৫/০৯/২০২০ইং তারিখ আবারো ভূরুঙ্গামারী সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসারকে উক্ত ব্যক্তি মালিকানা ৩’শ বিঘা জমি অধিগ্রহণ ছাড়াই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনূকুলে রেকর্ডভূক্ত করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেছেন। যা সম্পূণ বেআইনি। আমরা নিরীহ এলাকাবাসী প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। ভূরুঙ্গামারী সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার মোঃ লতিফুর রহমান জানান-৫টি মৌজার মধ্যে পূর্বের ডিসপুট (তসদিক) ও বর্তমান ৩০ ধারার আপত্তি মামলার একটিও নিষ্পত্তি হয়নি। চলতি অক্টোবরের ২৭, ২৮ ও ২৯ তারিখ শুনানি হবে। যারা বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করবেন রায় তাদের পক্ষে যাবে। এব্যাপারে কথা হলে ভূরুঙ্গামারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, দুই পক্ষই উক্ত জমি দাবি করলেও কাগজপত্রের বৈধতার ভিত্তিতে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে এর সমাধান করা হবে।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*