Wednesday , 21 April 2021
Home » দৈনিক সকালবেলা » করোনাভাইরাস » করোনার দ্বিতীয় ঢেউ পরিস্থিতি নাজুক করে দিতে পারে

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ পরিস্থিতি নাজুক করে দিতে পারে

সেঁজুতি সাহা বাংলাদেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের অণুজীববিজ্ঞানী। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসের জিন নকশা (জিনোম সিকোয়েন্স) উন্মোচিত হয়। এখন তিনি অবস্থান করছেন যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজে। সেখান থেকে কোভিড-১৯-এর দ্বিতীয় ঢেউয়ের শঙ্কা, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, সম্ভাব্য কিছু পদক্ষেপ নিয়ে তিনি প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন। গত রোববার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন

সেঁজুতি সাহা: যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় আমরা করোনার দ্বিতীয় ঢেউ দেখা শুরু করেছি। অনেক জায়গায় আবার কড়া লকডাউন শুরু হচ্ছে। যুক্তরাজ্যে দ্বিতীয় জাতীয় লকডাউন শুরু হতে যাচ্ছে। আমাদের দেশে এ বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনার তিনজন রোগী শনাক্ত হলো। তারপর থেকে শনাক্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছিল। আমরা দেখেছি, আমাদের দেশে এক দিনে চার হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। সেই প্রবণতা এখন কমে গেছে। এ সংখ্যা এখন হয়তো ১,২০০ থেকে ১,৫০০-এর মধ্যে থাকছে। এটা মানতেই হবে যে সংক্রমণের হার কমেছে, আমরা আর শিখরে নেই। তবে পাশাপাশি এ কথাও বলতে হবে, আমাদের প্রথম ঢেউয়ের পর্যায় এখনো শেষ হয়নি। এই মুহূর্তে খুব সাবধানে না থাকলে শীতের সময় বড় একটা ধাক্কা আমরা খেতে পারি।

কিসের নিরিখে আপনি বলছেন যে করোনার প্রথম ঢেউ আমরা পার হইনি?

সেঁজুতি সাহা: আমি যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সংক্রমণ পরিস্থিতি তুলে ধরে এটা বোঝাতে চাই। যুক্তরাজ্যে এপ্রিল-মে মাসে দৈনিক ৭০০০ থেকে ৮০০০ সংক্রমণ হতো। মারা যেত ১,২০০-র মতো মানুষ। সে সংক্রমণ নেমে এসেছিল ৬০০-তে। আমাদের সংক্রমণ ৪০০০–এ উঠে গিয়েছিল। এখন সংক্রমণ ঘটছে ১,২০০ থেকে ১,৫০০। তার মানে, আমরা ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সংক্রমণ কমাতে পেরেছি। আমাদের পজিটিভিটির সংখ্যা অনেক বেশি। আমাদের টেস্ট কম হচ্ছে। কিন্তু শনাক্তের হার নমুনা পরীক্ষায় এখনো ১০ শতাংশের ওপরে। সে কারণে আমরা বলতে পারব না যে সংক্রমণ কমে গেছে। এখন খুব জরুরি হলো, করোনার প্রথম ঢেউয়ের সংক্রমণের সংখ্যা আরও কমিয়ে ফেলা। তা না হলে দ্বিতীয় ঢেউ পরিস্থিতি অনেক নাজুক করে দিতে পারে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামলানোর জন্য প্রথম ঢেউ সামলানো কেন জরুরি?

সেঁজুতি সাহা: এখন আমরা যখন করোনার প্রথম ঢেউয়ে আছি, তখন প্রতিদিন সংক্রমণ হচ্ছেন এক হাজারের ওপরে মানুষ। এ সংখ্যা যদি এক শতে নামিয়ে আনা যায়, তাহলে দ্বিতীয় ঢেউয়ে রোগ ছড়াবেন এই এক শ জন মানুষ। এক শ জন মানুষ স্বাভাবিকভাবেই এক হাজার মানুষের চেয়ে কম সংক্রমণ ছড়াবেন। তাই এক শ জন কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী নিয়ে দ্বিতীয় ঢেউয়ে যাওয়া আর এক হাজার জন রোগী নিয়ে দ্বিতীয় ঢেউয়ে যাওয়ার মধ্যে পার্থক্য অনেক বড়। তবে দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা অনেক বেশি। চীনের মতো দেশেও মাঝেমধ্যে হঠাৎ সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তারা পুরো একটি শহরের কয়েক লাখ মানুষকে একযোগে টেস্ট করাতে পারছে। আমাদের তো সেই ব্যবস্থা নেই। তাই আমাদের প্রথম ঢেউ প্রশমন খুব জরুরি।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*