Sunday , 18 April 2021
Home » দৈনিক সকালবেলা » উপজেলার খবর » মুক্তাগাছায় জেএমবি সদস্য আটক- সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা

মুক্তাগাছায় জেএমবি সদস্য আটক- সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা

ময়মনসিংহ ব্যুরো: ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবির সক্রিয় সদস্য
শহিদুল ইসলামকে (৪১) আটক করেছে র‌্যাব-১৪। এ সময় তার কাছ থেকে উগ্রবাদী বই,
লিফলেট ও একটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়। আটক শহিদুল ইসলাম মুক্তাগাছা উপজেলার বিন্নাকুড়ি গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে। রবিবার (১ নভেম্বর) রাতে র‌্যাব-১৪ কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বিন্নাকুড়ি গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি যে, বিন্নাকুড়ি গ্রামে শহিদুল ইসলামের বাড়িতে নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবি সদস্যরা গোপন বৈঠকে নাশকতার পরিকল্পনা করছে। এমন সংবাদের পর শহিদুলের বাড়িতে অভিযান চালালে দৌড়ে পালানোর সময় শহিদুলকে আটক করে র‌্যাব-১৪। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শহিদুল জানান, দীর্ঘ দিন ধরে তিনি বিভিন্ন উগ্রবাদী বক্তার বয়ান শুনে উগ্রবাদের প্রতি উদ্ভূদ্ধ হন ও জেএমবির সমর্থক এবং সক্রিয় সদস্য হয়ে উঠেন। এ ব্যাপারে র‌্যাব-১৪ ময়মনসিংহ বাদী হয়ে মোঃ শহিদুল ইসলাম ওরফে শহিদুল্লা মাষ্টার (৪১), পিতাঃ আলহাজ¦ নাজিম উদ্দিন, সাং- বিন্নাকুড়ি, মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহসহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনকে আসামী করে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মুক্তাগাছা থানায় মামলা করেন। মামলা নং-০৩ তাং-০১/১১/২০২০। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ আসামীকে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডের আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত ৪/১১/২০ ইং তারিখ পুলিশ রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে। বিজ্ঞ আদালত আসামীকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
জেএমবি তৎপরতার বিষয়ে গত মঙ্গলবার মুক্তাগাছার দুল্লা ইউনিয়নের বিন্নাকুড়ি
এলাকাসহ আশপাশের এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে জেএমবির
তৎপরতার বিষয়ে জানতে চাইলে এলাকার লোকজন জানান, বাংলা ভাই গ্রেফতার হওয়ার পর কিছুদিন এ এলাকায় জেএমবির তৎপরতা ছিল। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় এবং তাদের হাতে বেশ কিছু জেএমবি সদস্য গ্রেফতার হয় এবং মামলা ও জেল হওয়ার পর এখন আর এ অঞ্চলে জেএমবি তৎপরতা নেই বললেই চলে। সম্প্রতি গ্রেফতারকৃত শহিদুল্লা মাস্টারের বিষয়ে এলাকাবাসী জানান, তাদের জানামতে শহিদুল্লা মাস্টার জেএমবি কার্যক্রমের সাথে জড়িত নহেন। তিনি সামাজিক লোক, শিক্ষকতা করেন তার হাত ধরে এই এলাকার সাধারণ মানুষের অনেক উপকার হয়েছে। তার হাতে গড়া একটি দাখিল মাদ্রাসা, একটি নূরানী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসা, একটি ঈদগাহ মাঠ, এলাকার কৃষি কাজে সেচের জন্য ৪টি গভীর নলকূপ স্থাপিত হয়েছে। তাছাড়া এলাকার অনেক গরীব মানুষকে বিভিন্ন সময় সাহায্য সহযোগিতা করে আসছেন। শহিদুল মাস্টারের পিতা আলহাজ¦ নাজিম উদ্দিন জানান, ২০০৬ সালে বাংলা ভাই গ্রেফতার হওয়ার পর অত্র এলাকায় জেএমবি তথ্য দিয়ে র‌্যাবকে সহযোগিতা করে আসছি আমরা। আমার মেয়ের জামাতা আনোয়ার হোসেন র‌্যাবের সোর্স ছিল। জেএমবিরা আনোয়ারকে জবাই করে হত্যা করে। মামলার বাদী ছিল শহিদ মাস্টারের ছোট বোন হাজেরা খাতুন অর্থাৎ আমার মেয়ে। পরবর্তীতে জেএমবিরা রফিক মাস্টারকে হত্যা করে। র‌্যাবের সোর্স সাদেক জেএমবির তৎপরতার কারণে কিছুদিন পালিয়ে থাকার পর বিদেশে চলে যায়।
আমরা কোনভাবে টিকে আছি। আমার ছেলে শহিদ মাস্টার কোনদিনই জেএমবির সঙ্গে
আপোষ করেননি। অথচ তাকেই জেএমবি বলে গ্রেফতার করা হলো এর চেয়ে আর দুঃখ কি হতে পারে। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী জানান, বিন্নাকুড়ি গ্রামের লোকমান হোসেন, আব্দুর করিম, দুলাল উদ্দিন, ইউসুফ আলী, আমজাদ হোসেন, আবুল হোসেন, আয়নাল হক, ইয়ার আলী, ফজলুল হক, কাশেম আলী, হিন্দুরী বেগম, মোশেদা বেগম, মকবুল হোসেনসহ অনেকেই শহিদ মাস্টারের বিষয়ে ভাল মানুষ বলে মতামত প্রকাশ করেন। এলাকাবাসী জানান, অত্র এলাকার মানুষের জন্য কিছু কাজ করেছেন বলেই একটি মহল ঈর্ষান্বিত হয়েই তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে তাকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছেন।
র‌্যাবের সাবেক সোর্স সাদেক আলী জানান, ২০০৬ সালে বাংলা ভাই গ্রেফতার হওয়ার পর
আমি ও আমার সহযোগীরা তথ্য দিয়ে র‌্যাবকে সহযোগীতা করি এবং অনেক জেএমবি
সদস্যকে গ্রেফতার করতে সহযোগীতা করি যার দরুন জেএমবিরা ক্ষিপ্ত হয়ে শহিদ মাস্টারের
ভগ্নিপতি আনোয়ার কে জবাই করে হত্যা করে। সে মামলায় বাদী হয় শহিদ মাস্টারের ছোট
বোন হাজেরা খাতুন। আমার আরেক সহযোগী যাকে নিয়ে র‌্যাবকে জেএমবি তথ্য দিয়ে
সহযোগীতা করেছিলাম। বন্দচিতুলীয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক রফিকুল ইসলাম মাস্টার তাকে জেএমবিরা গুলি করে হত্যা করে। অবশেষে আমি পালিয়ে থেকে বিদেশ গিয়ে প্রাণে বেঁচে যাই। ২০১৪ সালে দেশে আসি। সে সময় জেএমবিদের যোগসাজসে আমার বাড়িতে হামলা হয়। আমার পরিবার পরিজন মুক্তাগাছা ভাড়া বাসায় রেখে আমি পুনরায় বিদেশে চলে যাই। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের শেষের দিকে বিদেশ থেকে এসে স্বপরিবারে মুক্তাগাছায় বসবাস করছি। আমরা দেশের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করে আসছি। প্রতিহিংসা মূলকভাবে শহিদ মাস্টারকে শায়েস্তা করার জন্যই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে এ কাজটি করেছেন বলে আমার ধারণা। শহিদ মাস্টাররা এলাকায় থেকেই জেএমবির বিরোধিতা করে আসছিল। অথচ সেই শহিদ মাস্টারকেই জেএমবি সদস্য বলে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার দাবী পুলিশ তদন্ত করলেই প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসবে। শহিদ মাস্টারের স্ত্রী শিরিনা বেগম জানান, আমার ঘরে তল্লাশীর সময় আমার শিশুকন্যা সাইমা (৭) লেখাপড়া করতেছিল শুধু তাকেই ঘরে রেখেই তল্লাশী করে। তিনি দাবী করেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত করলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। এলাকাবাসীর দাবী নিরাপরাধ কোন ব্যক্তি যেন হয়রানীর শিকার না হয়। তাই এলাকাবাসী পুলিশের প্রতি সুষ্ঠু তদন্তের দাবী করেছে।
এ ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা এস আই হুমায়ুনের সাথে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি
জানান, মামলাটি তদন্তাধীন। তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে এখন কিছু বলা যাচ্ছে না।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*