Sunday , 18 April 2021
Home » দৈনিক সকালবেলা » অপরাধ ও দূর্নীতি » নাইক্ষ্যংছড়িতে মৃত ইউপি সচিবের ভাতা নিয়ে তালবাহানায় চেয়ারম্যান মানছেন না সরকারী নির্দেশনা
নাইক্ষ্যংছড়িতে মৃত ইউপি সচিবের ভাতা নিয়ে তালবাহানায় চেয়ারম্যান মানছেন না সরকারী নির্দেশনা

নাইক্ষ্যংছড়িতে মৃত ইউপি সচিবের ভাতা নিয়ে তালবাহানায় চেয়ারম্যান মানছেন না সরকারী নির্দেশনা

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি ঃ
পার্বত্য নাইক্ষ্যংছডড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদ সচিক নূরুল আমিন মারা গেছেন ২০১৪ সালেল ১২ জানুয়ারী। তিনি এ পরিষদেই ২৯ বছর ধরে চাকরী করেছেন। আর কর্মরত অবস্থাতেই মারা যান তিনি। বিধি মতে তিনি ইউপি অংশের প্রায় ৬ লক্ষ টাকা (৫০ শতাংশের) আনুতোষিক ভাতা পাওয়ার কথা থাকলেও ২০১৭ সালে ৫০ হাজার টাকার একটি মাত্র কিস্তি পান তিনি। বাকী টাকা দিচ্ছেন না পরিষদ চেয়ারম্যান। তালবাহনা করছেন তিনি। আর এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা থেকে একে একে ৪ বার এ টাকা পরিশোধে নির্দেশ সম্বলিত চিঠি পাঠানো হলেও কর্ণপাত করছেন না এ চেয়ারম্যান। ফলে পরিবারের একমাত্র আয়ক্ষম ব্যক্তি মারা যাওয়ার প্রায় ৭ বছরেও এ টাকা পাননি নুরুল আমিনের পরিবার। ফলে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তারা।
পরিবারের বড় ছেলে শাহ মো: ফখরুদ্দীন বলেন, তার বাবা চাকুরী জীবন শুরু করেন বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদ সচিব দিয়ে। আর এ অবস্থায় বিগত ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারী সকাল সাড়ে ১১ টায় কর্মরত অবস্থায় ইউপি ভবনের নিজ চেয়ারেই ঢলে পড়েন। মারা যান। ২৯ বছর ধরে সফলার সাথে চাকুরীও করেন এই একই পরিষদে। সততার সাথে কাজ করার সুবাদে আহামরি কিছু করেন নি তার বাবা। কষ্টে ছিলেন তারা। এরই মধ্যে মৃত্যূসূধা পান করে চলে গেলেন পরপারে। পক্ষান্তরে ৩ কন্যা ও ১ ছেলে সন্তানকে নিয়ে তার মা পাড়ি দেন অজানা গন্তব্যে। সে নিজেও বেকার। সে নিজে আর তার ছোট বোন অবিবাহিত। তার খুকই অসুস্থ। মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে তাদের পরিবার।
সে আরো জানান, এমতাবস্থায় তিনি তার মায়ের নির্দেশে বাবার আবুতোষিক ভাতা পেতে বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে শুরু করেন দৌড়ঝাঁপ। পরিষদ চেয়ারম্যান মো: আলম কোম্পানী শুরুতে ৫০ হাজার টাকার একটি কিস্তি প্রদান করলেও বাকী সোয়া ৫ লক্ষ টাকা অদ্যবদি প্রদান করেন নি। আজ ২০২০ সাল শেষের দিকে। এরই মধ্যে বান্দরবান জেলা প্রশাসক কার্যালয় এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নিবার্হী অফিসারের কার্যালয় থেকে চেয়ারম্যান সাহেবকে কঠোর ভাষায় নির্দেশ দেওয়া হলেও ওনি কর্ণপাতও করেন না এ নির্দেশনা। ওনার দ্বারে দ্বারে ঘুরতে ঘুরতে চেয়ারম্যান সাহেব তাকে বাঁকা চোখে দেখেন। অনন্যোপায় হয়ে তিনি গনমাধ্যমে আশ্রয় নিয়েছেন। এতেও কাজ না হলে বিজ্ঞ কোর্ট ছাড়া উপায় নেই তাদের।

এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নিবার্হী অফিসার সাদিয়া আফরিন কচি বলেন, বাইশারী চেয়ারম্যানকে অনেকবার বলা হয়েছে। তিনি এ ভাতা দিচ্ছেন না নানা অজুহাতে। বিশেষ করে ফান্ডে টাকা নেই বলে বাববার বলেছেন তিনি। তবুও এ বিষয়ে আবারো উদ্যোগ নেবেন তিনি।
বান্দরবান জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে স্থানীয় সরকার শাখার সহকারী পরিচালক মো: শফিউল আলম বলেন, বিষয়টি অমানবিক। তিনি বিষয়টি নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানকে অনেকবার তাগাদা দিয়েছেন। নানা অজুহাত দেখাচ্ছেন তিনি। আরেকবার দেখেই ব্যবস্থা নেবেন তিনি।
এ বিষয়ে মোহাম্মদ আলম কোম্পানী বলেন, এ টাকা আগের চেয়ারম্যান মনোয়ারুল হক মনুর আমলের। তবুও তিনি ৫০ হাজার করে ২ কিস্তিতে ১ লক্ষ টাকা দিয়েছেন। লকডাউন হওয়ার কারণে গত ক’মাস টাকা দেননি তিনি। এখন আবারো ৫০ হাজার টাকা দেবেন। এছাড়া পরিষদের ফান্ডে অতিরিক্ত কোন টাকা নেই।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*