Wednesday , 21 April 2021
Home » দৈনিক সকালবেলা » অপরাধ ও দূর্নীতি » সিলেটের আলোচিত রায়হান হত্যার মূলহোতা আকবর আটক
সিলেটের আলোচিত রায়হান হত্যার মূলহোতা আকবর আটক
--প্রেরিত ছবি

সিলেটের আলোচিত রায়হান হত্যার মূলহোতা আকবর আটক

সিলেট ব্যুরো: সিলেট বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদ হত্যার মূল হোতা এসআই (বরখাস্ত কৃত) আকবর হোসেন ভুইয়া কে সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য গত (১১ অক্টোবর) নগরের আখালিয়া নেহারি পাড়া এলাকার বাসিন্দা রায়হান আহমদ (৪৩) মারা যান। পরে ঐ রাতে আড়াইটার দিকে রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার বাদী হয়ে স্বামীর মৃত্যুর ঘটনায় একটি হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ না করে আসামিদের অজ্ঞাত রাখা হয়েছে।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, কে বা কারা রায়হানকে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে হত্যা করেছেন। এজাহারে রায়হান বন্দরবাজার ফাঁড়ি থেকে যে মুঠোফোন নম্বর দিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, সেই নম্বরটিও উল্লেখ করা হয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, “প্রতিদিনের মতো গত শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকাল ৩টার দিকে তার স্বামী রায়হান আহমদ নিজ কর্মস্থল নগরীর স্টেডিয়াম মার্কেটস্থ ডা. গোলাম কিবরিয়া ও ডা. শান্তা রাণীর চেম্বার শাহজালাল প্যাথলজি সেন্টারে যান। পরদিন রোববার (১১ অক্টোবর) ভোর ৪টা ৩৩ মিনিটে ০১৭৮৩৫৬১১১১ মোবাইল নাম্বার থেকে শাশুড়ি (রায়হানের মা সালমা বেগম)-এর ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার (০১৭৮৭৫৭০৯৪৯)-এ কল দিলে সেটি রিসিভ করেন রায়হানের চাচা হাবিবুল্লাহ।
এ সময় রায়হান আর্তনাদ করে বলেন, তিনি বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে আছেন। তাকে বাঁচাতে দ্রুত টাকা নিয়ে বন্দর ফাঁড়িতে যেতে বলেন রায়হান। এ কথা শুনে রায়হানের চাচা ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে রায়হান কোথায় জানতে চাইলে দায়িত্বরত একজন পুলিশ বলেন, সে ঘুমিয়ে গেছে। আর যে পুলিশ রায়হানকে ধরে নিয়ে এসেছেন তিনিও চলে গেছেন। এসময় হাবিবুল্লাহকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফাঁড়িতে আসার কথা বলেন ওই পুলিশ।
পুলিশের কথামতো হাবিুল্লাহ আবারও সকাল পৌনে ১০ টার দিকে ফাঁড়িতে গেলে দায়িত্বরত পুলিশ জানান, রায়হান অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে রায়হানের চাচা ওসমানী হাসপাতালে গিয়ে জরুরি বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, রায়হানকে সকাল ৬ টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সকাল ৭ টা ৫০ মিনিটে তিনি মারা যান। এ সময় হাবিবুল্লাহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনকে খবর দিলে তারা গিয়ে ওসমানীর মর্গে রায়হানের ক্ষত-বিক্ষত লাশ দেখতে পান।
প্রথমে রায়হান গণপিটুনিতে মারা গেছে বলে দাবি করে পুলিশ। পরে রায়হানের পরিবারের পক্ষ থেকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান কে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ ওঠার পর তদন্তে নামে পুলিশ এবং ঘটনার সত্যতাও পায় পুলিশ। পরে ওই ফাঁড়িতে কর্মরত চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত এবং আরও তিন জনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে তাদের প্রত্যাহার করা হয়। বরখাস্তরা হলেন- ফাঁড়ির ইনচার্জ ও সাব ইন্সপেক্টর আকবর হোসেন ভুঁইয়া, কনস্টেবল হারুনুর রশীদ, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাশ ও কনস্টেবল তৌহিদ মিয়া এবং প্রত্যাহারকৃতরা হলেন- এএসআই আশেক আলী, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজীব হোসেন।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*