Tuesday , 24 November 2020
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
Home » প্রচ্ছদ » ওবামা বললেন, ক্ষত সারবে না এক নির্বাচনে
ওবামা বললেন, ক্ষত সারবে না এক নির্বাচনে
--সংগৃহীত ছবি

ওবামা বললেন, ক্ষত সারবে না এক নির্বাচনে

অনলাইন ডেস্ক:

‘ষড়যন্ত্র তত্ত্বের’ যে সংস্কৃতি শুরু হয়েছে তা থেকে যুক্তরাষ্ট্র সহজে বের হতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন বারাক ওবামা। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘নির্বাচনের ফল থেকে স্পষ্ট, গভীরভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এ দেশ।’ তিনি বলেন, ‘এই ক্ষত এক নির্বাচনে সারবে না।’ পরবর্তী প্রজন্মের ‘সচেতন মনোভাবকে’ আশা-জাগানিয়া অভিহিত করে তরুণদের উদ্দেশে ওবামা বলেন, ‘বিশ্বের পরিবর্তন সম্ভব—এই বিশ্বাসকে সতর্কতার সঙ্গে বিনির্মাণ করতে হবে। চেষ্টা করতে হবে এই পরিবর্তনের অংশীদার হওয়ার।’

বিবিসি আর্ট এবং সিবিএস নিউজের ‘সিবিএস সানডে মর্নিং’ অনুষ্ঠানে দেওয়া দুটি পৃথক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট। আজ মঙ্গলবার বাজারে আসতে যাচ্ছে ওবামার স্মৃতিচারণামূলক গ্রন্থ ‘এ প্রমিজড ল্যান্ড’-এর প্রথম খণ্ড। বই প্রকাশ উপলক্ষেই সাক্ষাৎকারগুলো নেওয়া হয়। ওবামার শৈশব, রাজনৈতিক জীবন, সিনেটর হওয়া, প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও হোয়াইট হাউসের প্রথম মেয়াদ, মিশেলের সঙ্গে সম্পর্কের রসায়ন, দুই মেয়ে—সাশা ও মালিয়ার বেড়ে ওঠা নিয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে বইয়ে।

সাক্ষাৎকারের উদ্দেশ্য বই হলেও এতে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একগুঁয়েমি, একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জো বাইডেনের উঠে আসা, প্রথা ভেঙে ওবামার নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়া, বর্ণবাদসহ বহু বিষয়। অসাধারণ বাগ্মিতার জন্য খ্যাতিমান এই প্রেসিডেন্ট সঞ্চালকদের ক্ষুধা মিটিয়েছেন পরিপূর্ণভাবে। ক্ষেত্রবিশেষে তাঁর রসবোধ যুক্ত হয়ে সাক্ষাৎকারগুলোকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে।

ওবামা বলেন, ‘আমরা এই মুহূর্তে একটি বিভাজিত জাতি। ২০০৮ সালে আমি যখন নির্বাচিত হই তখন এতটা বিভাজন ছিল না। বিষয়টি এবারের নির্বাচনের ফলের দিকে তাকালেই স্পষ্ট হয়ে যায়। ট্রাম্প তাঁর রাজনৈতিক স্বার্থে এই বিভাজনে উসকানি দিয়েছেন।’ এবার বাইডেন ও ট্রাম্প দুই প্রার্থীই সাত কোটির বেশি ভোট পেয়েছেন। ওবামা বলেন, ‘আমরা একই সঙ্গে বিপরীতমুখী দুটি সত্যের প্রতি বিশ্বাস রেখে কাজ করছি। এভাবে গণতন্ত্র কাজ করে না। কোটি কোটি লোক বিশ্বাস করে, বাইডেন বামপন্থী, হিলারি ক্লিনটন যৌন নিপীড়নকারী সার্কেলের সঙ্গে যুক্ত।’

প্রথা ভেঙে বাইডেনের পক্ষে প্রচার চালানোর পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে সাবেক প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি খুব শখ করে যাইনি (প্রচারে)। পরিস্থিতি বাধ্য করেছে। আমি মনে করি, এই নির্বাচনে কিছু আদর্শ, কিছু প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল। ওই দপ্তরে (হোয়াইট হাউস) আমি একসময় কাজ করেছি। কাজেই আমার জন্য সবাইকে জানানো জরুরি, এটা স্বাভাবিক নয়।’ নির্বাচনের ফল নিশ্চিত হওয়ার পরও ট্রাম্প তা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়াই বারবার জালিয়াতির দাবি করে চলেছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের দুই মেয়াদি প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি আমার পরামর্শ হচ্ছে, দেশকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে তাঁর পূবসূরিরা যা করেছেন, সে পথেই হাঁটতে হবে তাঁকে। এটা একটা অস্থায়ী চাকরি। আমরা কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নই। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।’ বাইডেনকে তিনি কী পরামর্শ দিতে চান—এমন এক প্রশ্নের জবাবে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের সাবেক বস বলেন, ‘জোর আমার উপদেশের কোনো প্রয়োজন নেই। তবে কথা দিচ্ছি, তাঁর যেকোনো প্রয়োজনে আমি যথাসাধ্য করব।’

ট্রাম্প তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই ওবামাকে নানাভাবে আক্রমণ করে আসছেন, যা এখনো চলছে। এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া চাইলে ওবামা বলেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) বহু কিছু বলেছেন। এগুলোকে আমি কখনোই ব্যক্তিগত বা গুরুত্বের সঙ্গে নিইনি। যদিও আমি জানি, এগুলো ধ্বংসাত্মক ও ক্ষতিকর।’

মন্ত্রী হলে মিশেল ছেড়ে যাবে একপর্যায়ে ওবামাকে প্রশ্ন করা হয়, বাইডেনের মন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছা আছে কি না। জবাবে কৌতুক করে ওবামা বলেন, “এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা নেই। আর আমি যদি মন্ত্রী হতে চাই, মিশেল আমাকে ছেড়ে যাবে। ও বলবে, ‘কী…? কী করতে চাও তুমি?’” বরং তিনি এখন সাবেক ফার্স্ট লেডির আইনজীবী হওয়ার ইচ্ছাকে সময় ও সুযোগ দিতে চান। ওবামা বলেন, তাঁর রাজনৈতিক জীবন ও প্রেসিডেন্সির কারণে মিশেলকে তাঁর পেশাজীবন বরাবরই জলাঞ্জলি দিতে হয়েছে।

হোয়াইট হাউসে টানা আট বছর পার করে আসা ওবামাকে প্রশ্ন করা হয়, এখন জীবন কেমন? জবাবে হালকা টোনে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এই কমান্ডার ইন চিফ বলেন, ‘আমি এখন গাড়ি চালাই। সব সময় নয়। গাড়ির পেছনের সিটেই বসি বেশির ভাগ সময়। আইপ্যাড দেখি। হঠাৎ দেখি গাড়ি থেমে গেছে। আমি অবাক হয়ে সামনে তাকিয়ে দেখি, সিগন্যালে লাল বাতি জ্বলছে। আমার গাড়ির পাশে আরো বহু গাড়ি। কোনো গাড়ির পেছনের সিটে বসে কোনো শিশু হয়তো কিছু খাচ্ছে।…এটাই আসল জীবনে ফেরা।’

সূত্র : বিবিসি, সিএনএন।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*