Wednesday , 27 January 2021
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
Home » জাতীয় » শীতে আগুনের প্রকোপ: এক সপ্তাহে বার্ন ইউনিটে রোগী দ্বিগুণ

শীতে আগুনের প্রকোপ: এক সপ্তাহে বার্ন ইউনিটে রোগী দ্বিগুণ

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের একটি ওয়ার্ডে ভর্তি এক শিশু। বাবা রিকশাচালক জুলহাস মণ্ডল। বাড়ি শরীয়তপুর সদর উপজেলায়। গত রবিবার শিশুটির মা খুরশিদা ভাত রান্না করতে চাল চুলায় বসান। ছোট সন্তান চার মাস বয়সী সিয়ামকে কোলে নিয়ে চুলার সামনে গিয়ে মাথা ঘুরে গরম পাতিলের ওপর পড়ে যান খুরশিদা। এতে শিশুপুত্রসহ দগ্ধ হন তিনি। পরে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেন। গত সোমবার মা ও শিশুকে এ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শীত আসি আসি করতেই পোড়া রোগীর সংখ্যা নিয়ে আতঙ্কে থাকেন চিকিৎসকরা।শীতের শুষ্ক আবহাওয়ায় আগুন ছড়ায় দ্রুত। আর শীত থেকে রক্ষা পেতে গরম পানির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় গত এক সপ্তাহে রোগী বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এভাবে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে জায়গা দেওয়া সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. পার্থ শংকর পাল।

শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, জরুরি বিভাগে অবজারভেশনে ৫/৬টি বেড ফাঁকা। বাকি বেডগুলোতে রোগী পরিপূর্ণ। সেখানে নার্স ও ওয়ার্ড বয়দের কাছে জানতে চাওয়া হয় এত রোগী অবজারভেশনে কেন। জবাবে তারা বলেন, বেশ কয়েক দিন যাবৎ রোগীর চাপ বেড়ে গেছে। ওপরে ওয়ার্ডগুলোর বেড ফাঁকা হলে একে একে তাদের সেখানে স্থানান্তর করা হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্ন ইউনিটের এক চিকিৎসক বলেন,  সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে রাজধানীসহ জেলাগুলোতে বার্ন রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি না রেখে ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কেন তারা ঢাকায় পাঠাচ্ছেন তা আমার জানা নাই। কিন্তু সেসব হাসপাতালে বার্ন রোগীদের জন্য একটি করে ইউনিট থাকার কথা।

আবাসিক চিকিৎসক জানান, এই বার্ন ইনস্টিটিউটে রয়েছে মোট ৫শ’ বেড। এরমধ্যে তিনশ’ ফ্রি বেড, কেবিনে পে বেড রয়েছে দুইশ’।  কেবিনের মধ্যে ২১টি বেড রয়েছে করোনা আক্রান্ত চিকিৎসকদের জন্য। কিছু ওয়ার্ড রয়েছে জন্মগত ত্রুটি, যেমন ঠোঁটকাটা, ঠোঁটফাটা, রগকাটা, জটিল, ক্যানসার, প্লাস্টিক সার্জারি রোগীদের জন্য। এসব রোগীর ক্ষেত্রে সময় লাগে দীর্ঘদিন। বেড ফাঁকা না হওয়ায় প্রায়ই নতুন রোগী এলে ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। বর্তমানে ৪ শতাধিক রোগী ভর্তি আছেন।

আবাসিক চিকিৎসক ডা. পার্থ শংকর পাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, রাজধানীসহ বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে থেকে পুড়ে যাওয়া শিশু, নারী, পুরুষসহ অনেক রোগী এ হাসপাতালে ছুটে আসছেন। বর্তমানে সিট খালি নেই বললেই চলে। এত রোগীর চাপে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট সকলকে। এইচডিইউর সামনে গিয়ে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেখানেও কোনও বেড ফাঁকা নেই। আইসিইউতেও একই অবস্থা। সেখানকার এক ওয়ার্ড বয়ের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, এখানে বিশটি বেড রয়েছে। তার মধ্যে ১৮টিতে রোগী রয়েছে।

ওয়ার্ডগুলোতে সরেজমিন দেখা গেছে, সেখানে কয়েকটি বেড ফাঁকা রয়েছে। বাকি প্রতিটি বেডেই রোগী রয়েছে। সেখানে এক নার্স বলেন, এই হাসপাতালটি চালু হওয়ার পর এখন সর্বোচ্চ রোগী রয়েছে। এর আগে এত রোগী হয়নি। তবে শীতকালে রোগীর চাপ একটু বেশিই থাকে।

পোড়া রোগী আরও বেড়ে গেলে করণীয় কী প্রশ্নের জবাবে আবাসিক চিকিৎসক বলেন, যেকোনও ইনস্টিটিউটে বেডের বাইরে রোগী ভর্তি নেওয়ার নিয়ম নেই। বর্তমানে রোগী বাড়ার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা সিদ্ধান্ত দেবেন বেডের বাইরে রোগী নিতে পারবো কিনা। অনুমতি পেলে ফ্লোরে রেখেই চিকিৎসা দিতে হবে।

হঠাৎ রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ার কারণ কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, শীতে এমনিতেই রোগীর চাপ বাড়ে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বৃদ্ধ, শিশুরা গরম পানি ব্যবহার ও আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হয়। এ জন্য জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াসহ সব মিডিয়ায় প্রচারণা বাড়াতে হবে। একটু অসাবধানতার কারণে আগুনে পুড়ে গেলে কত কষ্ট হয় তা বলা দরকার। এতে সবাই সচেতন হবেন।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*