Friday , 23 April 2021
Home » জাতীয় » মাথা উঁচু করে বিশ্বদরবারে চলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
মাথা উঁচু করে বিশ্বদরবারে চলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
--সংগৃহীত ছবি

মাথা উঁচু করে বিশ্বদরবারে চলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক:

মহান মুক্তিযুদ্ধের কথা স্মরণ করে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সদস্যদের বুকে সাহস নিয়ে মাথা উঁচু করে বিশ্বদরবারে চলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফোর্সেস গোল ২০৩০ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিমানবাহিনীকে যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে আরো আধুনিক যুদ্ধবিমান ক্রয়ের বিষয়টি তাঁর সরকারের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী গতকাল রবিবার দুপুরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী একাডেমি, যশোরে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ—২০২০ (শীতকালীন) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিমানবাহিনীতে শিগগিরই যুক্ত হবে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন, আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকল সিস্টেম, মোবাইল গ্যাপ ফিলার রাডার এবং সর্বাধুনিক এয়ার ডিফেন্স রাডার।’

‘জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে আওয়ামী লীগ সরকার বিভিন্ন মেয়াদে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে আরো শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে’, উল্লেখ করে সরকারপ্রধান জানান, এরই মধ্যে বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নে তাঁর সরকার গৃহীত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকার বিমানবাহিনীর উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের ধারাবাহিকতায় আধুনিক উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিমান, হেলিকপ্টার, রাডার, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র এবং মুখ্য যন্ত্রপাতি সংযোজন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অত্যাধুনিক পাঁচটি সি-১৩০জে পরিবহন বিমান কেনার জন্য চুক্তি সম্পাদন করা হয়েছে, যার তিনটি বিমান এরই মধ্যে দেশে এসে পৌঁছেছে। বৈমানিকদের উন্নততর প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে আরো সাতটি অত্যাধুনিক কে-৮ডাব্লিউ জেট ট্রেইনার বিমান সংযোজন করা হয়েছে এবং অচিরেই যুক্ত হতে যাচ্ছে পিটি-৬ সিমুলেটর।

তিনি বলেন, ‘এখন হয়তো কভিড-১৯-এর কারণে আমরা বেশি অর্থ ব্যয় করতে পারছি না। তবে, আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে বিমানবাহিনীকে আরো যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার।’

প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের উদ্যোগে লালমনিরহাটে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিমান চলাচল, বিমান নির্মাণ, গবেষণা, মহাকাশ বিজ্ঞানচর্চা হবে। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি এর মাধ্যমে একদিন হয়তো বাংলাদেশ যুদ্ধ বিমান, পরিবহন বিমান এবং হেলিকপ্টারও তৈরি করতে সক্ষম হবে, ইনশাআল্লাহ।’ তা ছাড়া মহাকাশ বিজ্ঞানচর্চার মাধ্যমে একদিন মহাকাশে যাওয়াও সম্ভব হতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে সেই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বিমানবাহিনীর মনোজ্ঞ ফ্লাইপাস্ট উপভোগ করেন। এ সময় তাঁকে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সালাম জানানো হয়।

এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ৭৭তম বাফা কোর্স এবং ডিরেক্ট এন্ট্রি-২০২০ কোর্স সম্পন্নকারীদের মাঝে ফ্লাইং ব্যাজ, ট্রফি এবং অন্যান্য পুরস্কার বিতরণ করেন।

স্কোয়াড্রন জুনিয়র অফিসার শাকিল আহমেদ শ্রেষ্ঠ চৌকস ক্যাডেট হিসেবে অনুষ্ঠানে ‘সোর্ড অব অনার’ লাভ করেন।

‘মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বহু আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন,’ উল্লেখ করে সরকারপ্রধান পাসিং আউট ক্যাডেটদের উদ্দেশে বলেন, ‘এ দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা, দেশের মানুষের কল্যাণ করা এবং সার্বিক উন্নতি করাটাই আমাদের লক্ষ্য।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে আমরা ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। কাজেই আমাদের বিমানবাহিনীর প্রতিটি সদস্য এবং বিশেষ করে নবীন ক্যাডেট যারা, তাদের সবাইকে আমি বলব, আমরা যুদ্ধ করে বিজয় অর্জনকারী একটি দেশ ও জাতি। সে কথা মনে রেখেই বুকে সাহস নিয়ে মাথা উঁচু করে বিশ্বের দরবারে চলতে হবে। আর নিজেদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি এ সময় বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে সশস্ত্র বাহিনীর সাফল্যজনক অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ‘সেখানে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন বাহিনী যারা আসে, তাদের সঙ্গে আমাদের তাল মিলিয়ে চলতে হবে। কোনো কিছুতেই বাংলাদেশ যেন পিছিয়ে না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই যে ধরনের আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার দরকার আমরা তা করে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি ক্যাডেটদের বলব, বিমানবাহিনীর অনন্য প্রশিক্ষণের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তোমরা নিজেদের এমনভাবে গড়ে তুলবে যাতে আমাদের এই বাংলাদেশ তোমাদের মতো তরুণদের কাছে যেটা প্রত্যাশা করে সেটা তোমরা পূরণে সক্ষম হও।’

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে তোমরা সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে মাতৃভূমি রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব পালনে যথাযথ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

করোনা মহামারিসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন দুর্যোগে বিমানবাহিনীর সদস্যদের কার্যকর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ ও জাতির প্রতি আপনাদের দায়বদ্ধতা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারি মোকাবেলায় আপনাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থাসমূহ অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আপনারা চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে নিয়ে এসেছেন বিপুল পরিমাণে চিকিৎসা সহায়ক সরঞ্জাম।’ শুধু তাই নয়, মানবিক সাহায্যসহ বিমানবাহিনী বাংলাদেশ সরকারের বন্ধুত্বের বার্তা নিয়ে পৌঁছে গেছে মালদ্বীপ, লেবাননসহ বিভিন্ন দেশে। করোনা প্রাদুর্ভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের দেশের মাটিতে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে পরম মমতায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় আম্ফান-পরবর্তী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশংসনীয় ভূমিকার জন্য আমি এ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে অভিনন্দন জানাই। তা ছাড়া করোনা রোগীদের দ্রুত ঢাকায় নিয়ে এসে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা—সেটাও বিমানবাহিনী করেছে।’

হিমছড়িতে শনিবার আটকে পড়া চার শিক্ষার্থীকে সফলভাবে উদ্ধার করায় বিমানবাহিনীকে তিনি ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে কুচকাওয়াজ এবং ফ্লাইপাস্টের জন্য তিনি সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে কুচকাওয়াজে নারী সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির প্রশংসা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ বিমানবাহিনী একাডেমির কমান্ড্যান্টসহ যেসব প্রশিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও প্রচেষ্টায় আজকের এই প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ সফলভাবে সম্পন্ন হলো তাঁদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

সূত্র : বাসস।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*