Wednesday , 21 April 2021
Home » অর্থনীতি » আইপিএম প্রযুক্তি সহযোগিতা পেয়ে বরগুনায় কৃষকেরা লাভবান
আইপিএম প্রযুক্তি সহযোগিতা পেয়ে বরগুনায় কৃষকেরা লাভবান

আইপিএম প্রযুক্তি সহযোগিতা পেয়ে বরগুনায় কৃষকেরা লাভবান

বরগুনা প্রতিনিধি:
আইপিএম প্রযুক্তি সহযোগিতা পেয়ে বরগুনায় কৃষকেরা লাভবান হয়েছে। বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ। এ দেশের প্রতিটি কৃষি প্রতিবেশী অঞ্চলে সারা বছর ধরে কৃষকেরা বৈচিত্র্যময় ফসলের চাষাবাদ করেন। কিন্তু ভৌগলিক কারণে ফসলে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের পোকা মাকড়ের আক্রমণ দেখা যায়। এতে ফসলের অনেক ক্ষতি হয়। তবে, সচেতন হলে অনেকাংশে এ ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব।
আইপিএম প্রযুক্তি,র সহযোগিতা পেয়ে ও কৌশল অবলম্বন করে লাভবান হয়েছেন বরগুনার জেলার অনেক কৃষক-কৃষাণী। সিইআইপি-১ প্রকল্পের মাধ্যমে সুশীলন কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও ফেরোমন ফাঁদ সহযোগিতা করায় কৃষকেরা লাভবান হয়।
বরগুনা সদর উপজেলার মাইঠা গ্রামের কৃষাণী মিতানুর রহমান বলেন,“আমি সারা বছর বিভিন্ন প্রকার সবজি চাষ করি। সবজি চাষে পোকা দমনে কীটনাশক বাবদ আমার অনেক টাকা খরচ হতো। কিন্তু এ বছর সিইআইপি-১ প্রকল্পের মাধ্যমে সুশীলন আমাকে প্রশিক্ষণ ও ফেরোমন ফাঁদ সহযোগিতা করেছে। আমি প্রায় ২ একর জায়গায় ফেরোমোন ফাঁদ টানিয়ে লাউ, মিষ্টি কুমড়া, সীম, বরবটি, শসা চাষ করেছি। ক্ষতিকর পোকা মরে যাচ্ছে এবং ফসলের ক্ষতি করতে পারছে না। আমার সবজি এখন বীষমুক্ত। পরিবারের চাহিদা পূরন করে বাজারেও বিক্রি করছি। পুষ্টি ও অর্থ দুইভাবে আমি লাভবান এবং খুশি”।
একই উপজেলার উত্তর ছোট লবনগোলা গ্রামে কৃষক সেলিম মল্লিক বলেন,“ভাল বীজ কৃষির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন প্রযুক্তি। বীজ ভাল হলে ফলনও ভাল হয়। নিজের অভিজ্ঞতায় ও আইপিএম প্রশিক্ষণে ফসল চাষাবাদে ভাল বীজ নির্বাচন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ন জেনেছি। এ বছর আমন মৌসুমে সিইআইপি-১ প্রকল্পের মাধ্যমে সুশীলন আমাকে বিআর-২৩ ধানের বীজ সহযোগিতা করে। ফলন বেশ ভাল হয়েছে। এতে আমি লাভবান হয়ে খুব খুশি। আমিও এখন অন্যান্য কৃষকদের ভাল ও মানসম্মত বীজ সংগ্রহ, চাষাবাদ ও সংরক্ষণের পরামর্শ দিচ্ছি”।
পাথরঘাটা উপজেলার বরইতলা গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন,“ধান ক্ষেতে ডাল পোতা যে একটি প্রযুক্তি তা জানা ছিল না। এবার আমন মৌসুমে সুশীলন আমাকে ৩০ শতাংশের ধান চাষের জমিতে গাছের ডাল পোতার সহযোগিতা করে। আমি অনেকটা অবাক হয়েছি। ডালে প্রতিদিন পাখি বসে পদ্দা, মাজড়া, ফড়িংসহ অন্যান্য অপকারী পোকা ধরে খেয়ে ফেলেছে। আমি বুঝলাম কীটনাশকই একমাত্র সমাধান না। ধান ক্ষেতে ডাল পোতার মত প্রযুক্তি ব্যবহার করেও ফসলের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব। আমি ভাল ফলন পেয়েছি। পরিবেশ ভাল রাখা এবং ধান উৎপাদন খরচ হ্রাসে এ প্রযুক্তি খুবই ভাল”।
সুশীলন উপ-পরিচালক এবং সিইআইপি-১ প্রকল্পের টিম লিডার মোস্তফা বকুলুজ্জামান বলেন,“বিশ্ব ব্যাংক এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় আমরা সিইআইপি-১ প্রকল্পের মাধ্যমে বরগুনা সদর ও পাথরঘাটা উপজেলার ২শ জন কৃষকের মাঝে বিভিন্ন আইপিএম প্রযুক্তি যেমন-উন্নত সহনশীল জাত ব্যবহারের মাধ্যমে ধান ক্ষেতে পোকা দমন, ধান ক্ষেতে ডালপোতা, বসতবাড়ীতে বীষমুক্ত সবজি চাষে ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার, জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে ফসল ক্ষেতে পোকা দমন, হাত জাল ব্যবহারের মাধ্যমে ধান ক্ষেতে পোকা দমন, আলোক ফাঁদ ব্যবহারের মাধ্যমে ধান ক্ষেতে পোকা দমন, জৈব সার ব্যবহারের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন ইত্যাদি সহযোগিতা করেছি। আইপিএম প্রযুক্তি বিষয়ে কৃষকদের সচেতনতা এবং জনপ্রিয় করাই ছিল আমাদের এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। এ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকেরা লাভবান হওয়ায় আমাদের এ প্রকল্প সফলতা পেয়েছে। এ কারণে কৃষকদের পাশাপাশি আমরাও খুশি”।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*