Saturday , 16 January 2021
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
Home » জাতীয় » তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে আরো অর্থনৈতিক অঞ্চল হবে
তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে আরো অর্থনৈতিক অঞ্চল হবে
--সংগৃহীত ছবি

তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে আরো অর্থনৈতিক অঞ্চল হবে

অনলাইন ডেস্ক:

দেশের তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে আরো অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, দেশে আরো অর্থনৈতিক অঞ্চল করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার চূড়ান্ত অনুমোদনের সময় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

এক কোটি ১৬ লাখ ৭০ হাজার কর্মসংস্থানের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা সামনে নিয়ে ২০২১-২৫ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৩৫ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে প্রবাসে, বাকি ৮১ লাখ ৭০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে দেশে।

এনইসি সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে বলেন, ‘তরুণদের দেশের ভেতরে থাকার জন্য পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে, তরুণরা যাতে দেশের ভেতরেই চাকরি পেতে পারেন। আর ফসলি জমি যাতে নষ্ট না হয় এর জন্য ইউনিয়নভিত্তিক মাস্টারপ্ল্যান করা হবে। ল্যান্ড ইউজ প্ল্যান বা ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। অন্য দেশে এই পরিকল্পনা আছে। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) আজ নির্দেশনা দিয়েছেন যে ভূমিভিত্তিক পরিকল্পনা করো সব ইউনিয়নের জন্য। যাতে এখানে-ওখানে ঘরবাড়ি না হয়, এটা প্রধানমন্ত্রীর সাধারণ নির্দেশনা। এটাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।’

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এনইসি সভায় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার বিস্তারিত জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, পরিকল্পনা বিভাগের সদস্য জ্যেষ্ঠ সচিব আসাদুল ইসলাম ও পরিকল্পনা কশিমনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (জ্যেষ্ঠ সচিব) ড. শামসুল আলম।

২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত অনুমোদন হওয়া অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে লাগবে মোট ৬৪ হাজার ৯৫৯ দশমিক ৮ বিলিয়ন টাকা। যার মধ্যে অভ্যন্তরীণ উত্স থেকে আসবে ৮৮.৫ শতাংশ এবং বিদেশি উত্স থেকে আসবে ১১.৫ শতাংশ। মোট বিনিয়োগের মধ্যে সরকারি খাত থেকে আসবে ১২ হাজার ৩০১ দশমিক ২ বিলিয়ন টাকা, যার আকার ১৮.৯ শতাংশ। আর বেসরকারি খাত থেকে আসবে ৫২ হাজার ৬৫৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন টাকা, যার আকার ৮১.১ শতাংশ।

এনইসি-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ড. শামসুল আলম জানান, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নকালে বার্ষিক গড় জিডিপি (মোট দেশজ উত্পাদন) অর্জন হবে ৮ শতাংশ হারে এবং পরিকল্পনার শেষ অর্থবছরে ৮.৫১ শতাংশ। এতে দেশের মূল্যস্ফীতির লাগাম টানার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরে সার্বিক মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৫.৫ শতাংশ। ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ৫.৪, ৫.৩, ৫.২, ৪.৯ ও ৪.৮ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হবে।

পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় কভিড-১৯ মোকাবেলায় নেওয়া হয়েছে পাঁচটি কৌশল। সরকারের উন্নয়ন রূপকল্প ও নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে পরিকল্পনায় নীতি ধারাবাহিকতার দিকটিতে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হবে। এ ক্ষেত্রে যেসব কার্য সম্পাদক সূচকে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে আসে সেসব ক্ষেত্রে গুরুত্ব্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অর্থনীতিতে পিছিয়ে পড়া খাতগুলো সংস্কারের গতি বাড়ানোর বিষয়টি কভিডের কারণে আরো বিশেষ গুরুত্ব্ব পেয়েছে। কভিড-১৯-এর কারণে সৃষ্ট সাময়িক বেকারত্বসহ বিদেশফেরত কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে কভিড-১৯ মহামারিসহ ভবিষ্যত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ক্রমান্বয়ে একটি সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবসা বা ইউনিভার্সেল হেলথ সিস্টেম প্রবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*