Thursday , 21 January 2021
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
Home » দৈনিক সকালবেলা » উপজেলার খবর » বন বিভাগের আপত্তি, বিদ্যুৎহীন ১৫০ খাসিয়া পরিবার

বন বিভাগের আপত্তি, বিদ্যুৎহীন ১৫০ খাসিয়া পরিবার

মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জাতীয়ভাবে ২০২০সালের ১২ফেব্রুয়ারি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতাভুক্ত হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু বন বিভাগের আপত্তির কারণে এখনও বিদ্যুৎহীন রয়েছে উপজেলার কালেঞ্জী খাসিয়াপুঞ্জি ও পুঞ্জির বাইরের কালেঞ্জী গ্রামের দেড়শ পরিবার। 
 সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সমতল ভূমি থেকে প্রায় পাঁচশত ফুট উপরে পাহাড়ি টিলার স্তরে স্তরে খাসিয়া সম্প্রদায়ের বসতঘর। কালেঞ্জী খাসিয়া পুঞ্জির ৯৫ পরিবার মিলিয়ে লোকসংখ্যা প্রায় ৬০০। অন্যদিকে পুঞ্জির পার্শ্ববর্তী কালেঞ্জি গ্রামেও ৫০টি পরিবারে প্রায় অর্ধ সহস্রাধিক লোকের বসবাস। তবে বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগেও বিদ্যুতের ছোঁয়া পায়নি এই দুটি গ্রাম। 
খাসিয়া সম্প্রদায়ের সদস্যরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কমলগঞ্জ উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়ন ঘোষণা করেছেন। অথচ বন বিভাগের আপত্তির কারণে এই দুটি গ্রাম এখনও বিদ্যুতায়নের আওতায় আসেনি। পুঞ্জির নারী-পুরুষ সদস্যরা টিলার নিচের কূপ থেকে পানি সংগ্রহ করে টিলার উপরে তুলে নিয়ে আসেন। বিদ্যুৎ সুবিধা প্রাপ্ত হলে বৈদ্যুতিক পাম্প বসিয়ে নিচ থেকে টিলার উপরে ঘরে ঘরে পানি তোলা যেতো। 
খাসিয়া সদস্যদের আয়েরপ্রধান উৎস পাহাড়ি টিলায় জুমের পান। খাসিয়া পান বৃহত্তর সিলেটের ভাটি অঞ্চল ও যুক্তরাজ্যে সরবরাহ করা হয়। যাতায়াত অব্যবস্থাপনার কারণেও এখানকার লোকেদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। 
পুঞ্জি হেডম্যান রিটেঙেন ঘেরিয়েম বলেন, আমাদের পুঞ্জির স্কুল-কলেজ পড়ুয়া প্রায় দুইশত ছাত্রছাত্রী বেশীর ভাগ সময়ে পায়ে হেটে ৯ কিলোমিটার পার হয়ে আদমপুরে যেতে হয়। সেখান থেকে গাড়ি যোগে কলেজে যেতে হয়। যাতায়াতের দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে খাসিয়া পরিবারগুলোকে বাজারে যেতে হয়।
তিনি আরও বলেন, একই উপজেলার সংরক্ষিত বনের পাত্রখোলা, মাগুলছড়া ও লাউয়াছড়া খাসিয়াপুঞ্জিতে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। গত ২৬ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার-৪ আসনের সাংসদ উপাধ্যক্ষ ড. এম এ শহীদ কমলগঞ্জের পাত্রখোলায় বনের মধ্যে খাসিয়া পুঞ্জি ও গারো টিলায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে ১৫০টি পরিবারকে বিদ্যুতায়নের আওতায় এনেছেন। অথচ বন বিভাগ অযৌক্তিকভাবে আপত্তি দিয়ে কালেঞ্জী পুঞ্জি ও গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখে দিয়েছে।
আদমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ সমিতি কালেঞ্জী খাসিয়া পুঞ্জি ও গ্রামে বিদ্যুতায়নের জন্য খুঁটি এনে অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছিল। তবে বন বিভাগের আপত্তির কারণে শতভাগ বিদ্যুতের সুবিধা ভোগ করতে পারেনি গ্রামবাসীরা।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কমলগঞ্জ আঞ্চলিক অফিসের ডিজিএম মীর গোলাম ফারুক বলেন, তিনি উপজেলায় নতুন যোগদান করেছেন। তবে অফিস রেকর্ড দেখে জেনেছেন, কালেঞ্জী খাসিয়া পুঞ্জি ও গ্রামকে বিদ্যুতায়নের আওতায় আনতে কাজ শুরু হয়েছিল। শুধুমাত্র বন বিভাগের আপত্তির কারণে এ দুটি গ্রামকে এখনও বিদ্যুতায়নের আওতায় আনা যায়নি।
কমলগঞ্জের রাজকান্দি বনরেঞ্জ কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন তাদের আপত্তির কথা স্বীকার করে মুঠোফোনে বলেন, সংরক্ষিত বনের ভিতর দিয়ে বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপনে নিষেধ আছে। শতভাগ বিদ্যুৎ নিশ্চিতকরণে কালেঞ্জী খাসিয়া পুঞ্জি ও গ্রামের কথা ভেবে বনের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে কিভাবে বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপন করা যায় সে ব্যাপারে ইতিমধ্যে জরিপ করা হয়েছে। বন ওপরিবেশ মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত কালেঞ্জী খাসিয়া পুঞ্জি ও গ্রামের বিদ্যুতায়নের বিষয়ে অপেক্ষা করতে হবে।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*