Friday , 22 January 2021
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
Home » দৈনিক সকালবেলা » আইন ও আদালত » বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে মুক্তাগাছা থানা পুলিশের ভূমিকা-এক বৃদ্ধার কান্না
বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে মুক্তাগাছা থানা পুলিশের ভূমিকা-এক বৃদ্ধার কান্না
--সংগৃহীত ছবি

বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে মুক্তাগাছা থানা পুলিশের ভূমিকা-এক বৃদ্ধার কান্না

অনলাইন ডেস্ক:

প্রায় ৬০ বছর বয়স মুক্তাগাছা উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের খোদেজা খাতুনের। সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেন না। হাঁটতে গেলেও ধীরে ধীরে পা ফেলেন। বয়স আর অসুস্থতার ভারে ন্যুব্জ। এ বৃদ্ধাকেই সম্প্রতি মুক্তাগাছা থানা পুলিশ এক মারামারির মামলায় বাড়ি থেকে এনে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। তবে সেদিনই জামিন পান এ বৃদ্ধা। কিন্তু ৩ দিন জেল খাটেন তার পরিবারের অন্য লোকজন। মামলার এ সময়কালে বিরোধপূর্ণ জমির দখল নিয়ে নেন প্রতিপক্ষ মানিক। এখন এ বিষয়ে বিচার চাইতে গিয়েও হুমকি-ধামকিতে ভয়ে আছেন খোদেজা খাতুন আর তার পরিবারের লোকজন। 

খোদেজা খাতুন ও তার পরিবারের লোকজন আজ দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তাদের এমন দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। তারা অভিযোগ করেন, মুক্তাগাছা থানার ওসি বিপ্লব কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধেও। সংবাদ সম্মেলনে চলাকালে নিজের অসহায়ত্বের কথা বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন বৃদ্ধা খোদেজা খাতুন।  

লিখিত বক্তব্যে খোদেজা খাতুনের পরিবারের লোকজন জানান জমি নিয়ে খোদেজা ও তার পরিবারের লোকজনের সাথে বিরোধ আছে স্থানীয় মানিকের। বক্তব্যে বলা হয় খোদেজা খাতুনের জমি তার ছেলে ছিদ্দিককে ভুয়া প্রলোভন দেখিয়ে দানপত্র দলিল করে নেন একই এলাকার মানিক। সেই জমি লিখে দিতে চাপ দেয়া হয় খোদেজা খাতুনকে। জমি দখল নিতেও চাপ দেয়া হয়। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলাও করেন খোদেজা খাতুন। 
    
খোদেজা খাতুন বলেন, এরপর প্রতিপক্ষ মানিকের পক্ষে মুক্তাগাছা থানার এসআই হুমায়ুন বাড়িতে এসে জমি লিখে দিতে চাপ দেন। তিনি এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ করলে এস আই হুমায়ুন নীরব হয়ে যান। কিন্তু এরপর ওসি বিপ্লব কুমার বিশ্বাস খোদেজার বাড়িতে গিয়ে জমি লিখে দিতে চাপ দেয়। এরপর গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে খোদেজা ও তার পরিবারের লোকদের থানায় ডেকে এনে জমি লিখে দিতে চাপ দেয়া হয়। খোদেজা এবং তার পরিবারের অভিযোগ তারা এ বিষয়ে রাজি না হলে পরদিন একটি মিথ্যা মামলায় তাদের আদালতে পাঠানো হয়। মামলার বাদী হন প্রতিপক্ষ মানিক। মামলায় খোদেজা খাতুনকে ৫ নম্বর আসামি করা হয়। তবে বৃদ্ধা খোদেজাকে দেখে আদালত জামিন দিয়ে দেন। পরিবারের অন্য ৩ জন ৩ দিন পর জামিন পান। এদিকে মানিক বিরোধপূর্ণ জমি দখলে নিয়ে নেন। 

খোদেজা খাতুন আরো বলেন, তিনি এখন নিরাপত্তাহীনতায় আছেন। এ ব্যাপারে খোদেজা খাতুনের প্রতিপক্ষ মানিকের সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, তিনি মামলায় যা অভিযোগ করেছেন তা সঠিক। একই বিষয়ে মুক্তাগাছা থানার ওসি বিপ্লব কুমার বিশ্বাস বলেন, খোদেজা খাতুনের ছেলে জমি বিক্রি করেছেন এবং টাকাও নিয়েছেন। কিন্তু দখল বুঝিয়ে দেননি। এরপর মানিককে মারধর করেছেন। মানিকের মামলায় পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ কারো পক্ষে কাজ করেনি। তিনি আরও বলেন, মুক্তাগাছার বিভিন্ন মহলও বিষয়টি জানে। 

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*