Wednesday , 23 June 2021
ব্রেকিং নিউজ
Home » দৈনিক সকালবেলা » বিভাগীয় সংবাদ » খুলনা বিভাগ » ভুয়া সার্টিফিকেট ধারী মান্নান এখন কুুষ্টিয়া পৈারসভার সার্ভেয়ার
ভুয়া সার্টিফিকেট ধারী মান্নান এখন কুুষ্টিয়া পৈারসভার সার্ভেয়ার
--প্রেরিত ছবি

ভুয়া সার্টিফিকেট ধারী মান্নান এখন কুুষ্টিয়া পৈারসভার সার্ভেয়ার

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: 
কুষ্টিয়া পৌরসভার ময়লার গাড়ির হেলপার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন আব্দুল মান্নান। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া পৌরসভার সার্ভেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আমরা জানতে চাই কিভাবে আব্দুল মান্নান পৌরসভার ময়লার গাড়ির হেলপার থেকে এখন হয়েছেন পৌরসভার সার্ভেয়ার। ১৯৯৭ সালে সার্ভেয়ার হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন রামবাবু। সেই সময় কৌশলে রামবাবুর সাথে বিভিন্ন জায়গা পামযোগের কাজে ফিতা ধরার সুযোগ করে নেন মান্নান। কিছুদিন পরে এসিস্ট্যান্ট সার্ভেয়ারের পোষ্ট সৃষ্টি করিয়ে কোন সাটিফিকেট না দিয়েই সার্ভেয়ার হিসেবে নিয়োগ পান আব্দুল মান্নান। এরপর চাকুরীতে বহাল থাকার জন্য তার দরকার ছিলো একটি সাটিফিকেট। কিন্তু সেই সাটিফিকেট দিয়েছে কিনা সেটা শুধু পৌর কর্তৃপক্ষই জানেন। এ বিষয় পৌর কর্তৃপক্ষের সাথে অনেক বার কথা হলেও তার সাটিফিকেট দেখাতে চাননি তারা, শুধু আছে বলে পৌর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেন। আমাদের একটু সন্দেহ জাগায় আমরা খোঁজ করতে নামি পুরো বিষয়টার।একটি সূত্র জানায়, চাকুরিতে যোগদানের আগে সার্ভেয়ার আব্দুল মান্নান কুষ্টিয়া পৌরসভার ময়লা টানা গাড়ীর হেলপার ছিলেন। ওই সময় চট্রগ্রাম থেকে সার্ভেয়ারের সাটিফিকেট এনে সার্ভেয়ার হয়ে যান। আমরা জানতে চাই আব্দুল মান্নান কোন প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি ভূমি জরিপ প্রশিক্ষণ সার্ভে আমিনশীপ ট্রেনিং কোর্স করেছেন। মান্নানকে তার প্রতিষ্ঠানের নাম জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, চট্রগ্রামের “দি ইষ্টার্ন মডার্ন সার্ভে ট্রেনিং ইন্সটিটিউট” থেকে সে সার্ভেয়ার শীপ পাশ করেছে এবং প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা বলে চট্রগ্রাম হালিশহর। তবে সে কোন হালিশহর সেটা বলতে পারেননি। তার কাছে সার্টিফিকেট দেখতে চাইলে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে খুজে দেখবো, আর কারোর দরকার হলে চট্রগ্রামে গিয়ে দেখে আসুক। সার্ভেয়ার মান্নানের কথা শুনে আমাদের সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। এরপর ঘটনার আসল রহস্য উন্মোচন করতে আমরা পৌঁছে যাই চট্রগ্রাম। তখন আমাদের হাতে ছিল শুধু “দি ইষ্টার্ন মডার্ন সার্ভে ট্রেনিং ইন্সটিটিউট” নাম আর তার ঠিকানা ছিলো চট্রগ্রামের হালিশহর। চট্রগ্রামে পৌঁছে আমরা জানতে পারি এখানে ৩ টি হালিশহর রয়েছে। উত্তর হালিশহর, দক্ষিন হালিশহর আর মধ্য হালিশহর। তখন কোন হালিশহরে “দি ইষ্টার্ন মডার্ন সার্ভে ট্রেনিং ইন্সটিটিউট” অবস্থিত এটা জানতে কুষ্টিয়া পৌরসভার সার্ভেয়ার আব্দুল মান্নানের কাছে ফোন করা হলে প্রথমে সে জানান, এতদিন আগের কথা এ টাকি মনে থাকে বলে ফোন কেটে দেন। এর পর তাকে আবার ফোন দিলে সে কোন কথা না বলে ফোনের সংযোগ কেটে দেয়। পরবর্তীতে সে ফোন বন্ধ করে দেয়।আমাদের গন্তব্য চট্রগ্রাম হালিশহরের প্রতিটি কোনা খুজে বের করবো সেই প্রতিষ্ঠানকে। এর পর আমরা ছুটে যাই চট্রগ্রামের উত্তর হালিশহরের নয়াবাজার এলাকার কাঁচা বাজারে অবস্থিত চট্রগ্রাম উত্তর হালিশহর ভূমি অফিসে। সেখানে গিয়ে কথা হয় উত্তর হালিশহর ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা হাফেজ আহম্মেদের সাথে। সে জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই ভূমি অফিসে কর্মরত আছেন তিনি এবং চট্রগ্রামের পাহারতলী এলাকার স্থানিয় বাসিন্দা সে। তাঁর ছাত্র জীবন বা কর্মজীবনে এমন কোন প্রতিষ্ঠান দেখা তো দুরে থাক, প্রতিষ্ঠানের নাম পর্যন্ত শোনেননি ওই সহকারী ভূমি কর্মকর্তা। তিনি আরও জানান, তাঁর ১৮ বছরের কর্মজীবনে চট্রগ্রাম এলাকার বহু ভূমি অফিসে কাজ করেছেন কিন্তু “দি ইষ্টার্ন মডার্ন সার্ভে ট্রেনিং ইন্সটিটিউট” নামে কোন প্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করে কেউ সার্ভেয়ার হিসাবে কাজ করছে এমনটিও শোনেননি কোন দিন। এরপর পথ আমাদের নিয়ে যায় চট্রগ্রামের সিভিট ক্রসিং এর নেভিগেট সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত দক্ষিন হালিশহর ভূমি অফিসে। সেখানে গিয়ে কথা হয় দক্ষিন হালিশহর ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নূরুল আজিমের সাথে। সে আমাদের জানান, দক্ষিন হালিশহর এলাকায় “দি ইষ্টার্ন মডার্ন সার্ভে ট্রেনিং ইন্সটিটিউট” নামে কোন প্রতিষ্ঠান আছে বলে তিনি কখোনো শোনেননি। এই রকম ভূয়া প্রতিষ্ঠানের নামে যদি কেউ কোন সার্টিফিকেট নিয়ে কোথাও চাকরী করে তাহলে সেটা অত্যন্ত দূঃখজনক। এরপর আমরা পৌছে যাই মধ্য হালিশহরের ভূমি অফিসে। সেখানে গিয়ে কথা হয় মধ্য হালিশহর ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিনের সাথে। পঞ্চাশোর্ধ নাজিম উদ্দিন জানান, তিনি মধ্য হালিশহর এলাকা সংলগ্ন বড়পুল এলাকার স্থানিয় বাসিন্দা। তিনি উত্তর-দক্ষিন ও মধ্য হালিশহরের অলিগলি সব চেনেন। তিনি কখনো “দি ইষ্টার্ন মডার্ন সার্ভে ট্রেনিং ইন্সটিটিউট” নামে কোন প্রতিষ্ঠানের নাম শোনে নামে কোন প্রতিষ্ঠানের নাম শোনেননি বা দেখেননি। জাহের সিদ্দিকি বলেন এই প্রতিষ্ঠানটির নামের কোন অস্তিত্ব নেই। সুতরাং এই প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙিয়ে যদি কেউ চাকরী করে তাহলে সে প্রতারক দেশ ও জাতির সাথে প্রতারণা করছে। এমন প্রতারকের শাস্তি হওয়া দরকার, তা না হলে সেই সব এলাকার মানুষকে সারা জীবন এর খেসারত দিতে হবে।এরপর আমাদের কথা হয় চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক গোলাম সাদমানী জনির সাথে। জনি মধ্য হালিশহর বিডিআর মাঠ এলাকার স্থায়ি বাসিন্দা। সে জানান, হালিশহর তো দুরে থাক চট্টগ্রাম মহানগরী এলাকাতে “দি ইষ্টার্ন মডার্ন সার্ভে ট্রেনিং ইন্সটিটিউট” নামে কোন প্রতিষ্ঠানের নাম আপনাদের কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম। এরপর আমাদের কথা হয় দক্ষিন হালিশহর এলাকার স্থানিয় বাসিন্দা ও চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সহ-সভাপতি ফারুক হোসেনের সাথে। ফারুক হোসেন বলেন, পুরো চট্টগ্রাম মহানগরীতে আমার রাজনীতির সুবাদে যাতায়াত। এই রকম কোন প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড কখনো তাঁর চোখে পড়েনি এবং “দি ইষ্টার্ন মডার্ন সার্ভে ট্রেনিং ইন্সটিটিউট” এর নাম যে ব্যাক্তি ব্যবহার করেছেন তিনি আসলে একটা ভন্ড, সেই ব্যক্তি কোন চট্টগ্রাম শহর চোখে দেখেননি হয় তো নাম শুনেছেন।এবার আমাদের কথা হয় চট্টগ্রাম সিটিকর্পরেশন’র চিফ ইঞ্জিনিয়ার সোহেল আহম্মেদের সাথে। সোহেল আহম্মেদ জানান এই রকম কোন প্রতিষ্ঠানের নাম তিনি কখোনো শোনেননি, হয়তো কেউ মজা করেছে।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*