Tuesday , 15 June 2021
ব্রেকিং নিউজ
Home » প্রচ্ছদ » সাইনবোর্ডে বাংলা লেখা না থাকলেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের শাস্তি
সাইনবোর্ডে বাংলা লেখা না থাকলেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের শাস্তি
--সংগৃহীত ছবি

সাইনবোর্ডে বাংলা লেখা না থাকলেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের শাস্তি

অনলাইন ডেস্ক:

সাইনবোর্ড, নামফলক ইত্যাদিতে বাংলা লেখা নিশ্চিত করতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত রাজধানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ ও রামপুরা এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।

কামাল আতাতুর্ক এভিনিউতে অঞ্চল-৩ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল বাকীর নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্ট কর্তৃক সাইনবোর্ড বাংলা ভাষায় না লেখায় ১০টি ভবন ও প্রতিষ্ঠানকে মোট ৫৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

এর মধ্যে আহমেদ টাওয়ার, এ আর টাওয়ার, সফুরা টাওয়ার, ইরেকার্ট হাউজ, বোরাক টাওয়ার, এসুরেন্স, ভিশন কেয়ার, মটকা কিচেন, চাটাই এদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা এবং আরো ২টি প্রতিষ্ঠানকে ২ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। এছাড়া ৩টি ব্যাংককের প্রত্যেককে ২ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। এসব ভবন ও প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড অপসারণ করে বাংলা ভাষায় প্রতিস্থাপন করার জন্য ৭ দিন সময় দেওয়া হয়। ব্যাংকগুলো হচ্ছেঃ ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক এবং সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স (এসবিএসি) ব্যাংক। এছাড়া ফুটপাত অবৈধভাবে দখল করার অপরাধে একটি ফুলের দোকানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কামাল আতাতুর্ক এভিনিউতে প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আবদুল হামিদ মিয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্ট ৩টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯  হাজার টাকা জরিমানা করেন।

সাইনবোর্ড বাংলা ভাষায় না লেখায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ রামপুরা এলাকায় ৬টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪৮ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড অপসারণ করা হয়। এর মধ্যে আল কাদেরিয়া হোটেলকে ১০ হাজার, এসকোয়ার ইলেকট্রনিক্সকে ৫ হাজার, অরেঞ্জ ফার্নিচারকে ৫ হাজার, রানার মোটরসাইকেলের দোকানকে ১০ হাজার, বোলিং জুতার দোকানকে ১৫ হাজার, ভিবো মোবাইল ফোনের দোকান ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলায় সাইনবোর্ড প্রতিস্থাপনের জন্য এক সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়। যে ৫টি প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড অপসারণ করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে ফেস জামা-কাপড়ের দোকান, ফিশারম্যান খাবার দোকান, রেমন্ড কাপড়ের দোকান, টারগেট কাপড়ের দোকান ও ভিবো মোবাইল ফোনের দোকান। এছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত ফেরদৌসের নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্ট কর্তৃক রামপুরা এলাকায় ক্রিসেন্ট সুপার শপকে ১০ হাজার ও স্প্যান জুতার দোকানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সাইনবোর্ড বাংলায় না লেখায় রামপুরায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পার্শিয়া সুলতানা ৫টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এর মধ্যে ট্রান্সকম ইলেক্ট্রনিক্স, নাদিয়া ফার্নিচার ও ব্রাদার্স ফার্নিচার এর প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএনসিসি জানিয়েছে, হাইকোর্ট বিভাগের ১৬৯৬/২০১৪ নং রিট পিটিশনে প্রদত্ত আদেশ অনুযায়ী সকল প্রতিষ্ঠানের (দূতাবাস, বিদেশী সংস্থা ও তৎসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্র ব্যতীত) নামফলক, সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, ব্যানার ইত্যাদি বাংলায় লেখা বাধ্যতামূলক। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে হাইকোর্টের আদেশটি ডিএনসিসি এলাকায় বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব ডিএনসিসিকে প্রদান করা হয়। এছাড়া ডিএনসিসি থেকে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার সময় ট্রেড লাইসেন্স বইয়ের মধ্যে “সাইনবোর্ড বাংলায় লেখা বাধ্যতামূলক” শর্ত দেওয়া হয়।

ডিএনসিসির আওতাধীন এলাকার প্রত্যেকটি নামফলক, সাইনবোর্ড ইত্যাদিতে বাংলা ভাষা নিশ্চিত করতে উচ্ছেদ ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ডিএনসিসি।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*