Thursday , 22 April 2021
Home » খেলাধুলা » নাটকীয় জয়ে ফাইনালে বার্সা
নাটকীয় জয়ে ফাইনালে বার্সা

নাটকীয় জয়ে ফাইনালে বার্সা

অনলাইন ডেস্ক:

আগের লেগে দুই গোলে হারের ফলে বার্সেলোনার সামনে সমীকরণটা ছিল কঠিন। কোপা দেল রের ফাইনালে উঠতে হলে সেভিয়াকে সেমিফাইনালের ফিরতি লেগে হারাতে হতো ৩-০ ব্যবধানে। ঠিক সে ব্যবধানের নাটকীয় এক জয় নিয়েই ফাইনালে উঠে গেছে রোনাল্ড কুমানের দল।

বুধবার (০৩ মার্চ) রাতে কাম্প ন্যুয়ে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো সেমি-ফাইনালের ফিরতি লেগে ৩-০ গোলে জিতে দুই লেগ মিলে ৩-২ ব্যবধানে জিতে ফাইনালে উঠেছে প্রতিযোগিতার রেকর্ড চ্যাম্পিয়নরা। পেনাল্টি সেভ করে এতে বড় অবদান রখেছেন গোলরক্ষক মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগান।

উসমান দেম্বেলের গোলে বার্সেলোনা এগিয়ে যাওয়ার পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জেরার্ড পিকে। আর তৃতীয় গোলটি করেন পেদ্রির বদলি নামা মার্টিন ব্রাথওয়েট।
ম্যাচের প্রায় ৬৮ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে বার্সেলোনা গোলের উদ্দেশে মোট ২২টি শট নেয়। এর আটটি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে দৃষ্টিকটু রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলা সেভিয়ার ছয় শটের তিনটি ছিল লক্ষ্যে।

ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়, সঙ্গে চার দিন আগে এই দলকেই হারানোর আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামা বার্সেলোনা ম্যাচের শুরুটা করে দুর্দান্ত। দেম্বেলের নৈপুণ্যে দ্বাদশ মিনিটে এগিয়ে যায় তারা। দেম্বেলেকে বল বাড়িয়ে ডি বক্সে ঢুকে যান মেসি। কিন্তু ফরাসি ফরোয়ার্ডকে পাসের সুযোগ দেননি সেভিয়ার খেলোয়াড়রা। খানিকটা চেষ্টা করে দেম্বেলে বুঝতে পারেন পাস দেওয়া সম্ভব নয়। ডি বক্সের বাইরে থেকে আরেকটু সরে গিয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জাল খুঁজে নেন তিনি।

৩০তম মিনিটে ব্যবধান বাড়তে পারতো। তবে বাঁ দিকের বাইলাইন থেকে মেসির গোলমুখে বাড়ানো বলে পা লাগাতে পারেননি ফ্রেংকি ডি ইয়ং। দুই মিনিট পর ছয় গজ বক্সে মেসির শট এক জনের পায়ে লেগে উঁচু হয়ে ফাকা জালে জড়াতে যাচ্ছিল, শেষ মুহুর্তে ঠেকান সেভিয়া মিডফিল্ডার মার্কোস আকুনা।

লা লিগায় টানা ছয় ম্যাচ জয়ের পর গত শনিবার নিজেদের মাঠে বার্সেলোনার বিপক্ষে পুরো ম্যাচেই নিজেদের খুঁজে ফেরে সেভিয়া। এ দিনও প্রথমার্ধে তারা ছিল বিবর্ণ; বিরতির আগে উল্লেখযোগ্য কোনো সুযোগই তৈরি করতে পারেনি তারা। বিরতির পরও একচেটিয়া আক্রমণ করতে থাকে বার্সেলোনা। ঘর সামলাতেই ব্যস্ত সময় কাটে সেভিয়ার। অধিকাংশ সময়ই দলটির প্রায় সব খেলোয়াড়কে দেখা যাচ্ছিল ডি-বক্সের আশেপাশে। ফলে মেসি-দেম্বেলেদের সব আক্রমণ ভেস্তে যাচ্ছিল প্রতিপক্ষের জমাট রক্ষণে। এর মাঝে ৬৭তম মিনিটে তাদের হতাশা বাড়ে; দেম্বেলের ক্রসে জর্দি আলবার দারুণ ভলি ক্রসবারে লাগে।

চার মিনিট পর প্রতি-আক্রমণে বার্সেলোনার ডি-বক্সে ঢুকে পড়া লুকাস ওকাম্পোসকে ডিফেন্ডার অস্কার মিনগেসা ফাউল করলে পেনাল্টি পায় সেভিয়া। তবে ওকাম্পোসের দুর্বল শট ঠেকিয়ে দেন টের স্টেগান।

যোগ করা সময়ের শুরুতে ১০ জনের দলে পরিণত হয় সেভিয়া। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ফের্নান্দো। এরপরই নাটকীয় মোড় নেয় ম্যাচ। ম্যাচ শেষ হতে তখন বাকি আর কিছুক্ষণ। মরিয়া হয়ে উঠেছে বার্সেলোনা, তাদের ঠেকিয়ে ফাইনালের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে সেভিয়া। এমন সময় তাদের হতবাক করে সমতায় ফেরে কাতালান ক্লাবটি। বদলি অঁতোয়ান গ্রিজমানের বাঁ দিক থেকে বাড়ানো ক্রসে হেডে দলকে উচ্ছ্বাসে ভাসান পিকে।

অতিরিক্ত সময়ের পঞ্চম মিনিটে ফাইনাল নিশ্চিত করা গোলটি করেন ব্রাথওয়েট। আলবার গোলমুখে বাড়ানো ক্রসে বদলি নামা ডেনিশ ফরোয়ার্ডের হেডে বল গোলরক্ষকের দুই পায়ের ফাঁক গলে ঠিকানা খুঁজে পায়।

সেভিয়াকে এরপরও বেশ চাপেই রাখে বার্সা। কিন্তু গোলের দেখা আর পাননি মেসিরা। তবে ৩-০ গোলের জয়ে ততক্ষণে নিশ্চিতই হয়ে গেছে ফাইনালে উঠে যাওয়াটা। প্রতিযোগিতার অন্য সেমিফাইনালে আজ লড়বে লেভান্তে ও অ্যাথলেটিক বিলবাও, যে লড়াইয়ের প্রথম লেগে ১-১ গোলে ড্র করেছে দুই দল। তাদের মধ্যে জয়ী দলের বিপক্ষেই মৌসুমে প্রথম শিরোপা কোপা দেল রের জন্য লড়বে বার্সেলোনা।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*