Friday , 18 June 2021
ব্রেকিং নিউজ
Home » দৈনিক সকালবেলা » বিভাগীয় সংবাদ » জেলার-খবর » জুড়িতে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ভূয়া সন্তান সেজে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ
জুড়িতে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ভূয়া সন্তান সেজে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ

জুড়িতে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ভূয়া সন্তান সেজে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ

মোঃ আজিজুল ইসলাম, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের জুড়িতে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সেজে মৃত মুক্তিযােদ্ধার ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে জেলার জুড়ী উপজেলার ৭নং ফুলতলা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য মৃত শফিক মিয়ার পুত্র মাহবুবুল আলম রওশন এর বিরুদ্বে। গত ৭ই মার্চ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন একই জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের কালেঙ্গা গ্রামের মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিক মিয়ার স্ত্রী আজিরুন বেগম। 
আজিরুন বেগম লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন,আমার স্বামী শফিক মিয়া একজন প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা । যুদ্ধকালীন সময়ে আমাদের বিষয় সম্পত্তি নি:শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে আমি ও আমার সন্তানাদি নিয়ে তিনি বর্তমান ঠিকানায় আসিয়া সরকারি খাস ভূমিতে ঝুপড়ি ঘর নির্মাণ করিয়া বসবাস করিয়া আসিতেছি। আমার স্বামী বিগত ১১/১২/২০০৬ইং তারিখে বর্তমান ঠিকানায় মৃত্যুবরণ করেন। স্বামীর মৃত্যুর সময় আমার ২ পুত্র  ও ৪ কন্যা সন্তানকে রেখে মারা যান । আগে কিংবা পরে আমার স্বামী আর কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন নাই। স্বামীর মৃত্যুর পর আমি বিগত ২০০৭ ইংরেজীর জুলাই মাস হইতে নিয়মিত স্বামীর উত্তরাধীকারী সূত্রে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা উত্তোলন করিয়া অদ্যাবধি পর্যন্ত আসিতেছি । 
সম্প্রতি মুক্তিযোদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের  মাধ্যমে জানিতে পারিলাম যে, উক্ত বিবাদী আমার স্বামীর ভূয়া সন্তান সেজে মুক্তিযােদ্ধা ভাতা উত্তোলন করিতেছে । বিবাদীর পিতা শফিক মিয়া কোন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না, তাই বিবাদী তার দাদার নাম রেজান আলীর স্থলে আমার শশুর আজন মিয়ার নাম জালিয়াতি করে আমার স্বামীকে তার পিতা পরিচয় দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা উত্তোলন করে আসছেন তা সঠিক তদন্ত করলেই তথ্য বেরিয়ে আসবে। বিবাদী মাহবুবুল আলম রওশনের চাচারা এবং ফুফুদের ভোটার আইডিতেও তাদের পিতার নাম রেজান আলী উল্লেখ রয়েছে। বিবাদী একজন প্রতারক দুর্নীতিবাজ হিসেবে তার এলাকায় পরিচিত। গত কিছুদিন পুর্বে বিরইনতলা এলাকার আব্দুল জব্বার নামের এক ব্যক্তির বয়স্ক ভাতা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করায় তার বিরুদ্বে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে বিরইনতলা গ্রামের হাজী আব্দুল মন্নানের পুত্র আব্দুস সোবহান লিখিত অভিযোগও রয়েছে বিবাদীর বিরুদ্ধে। মুক্তিযোদ্ধা সন্তান দাবীদার মাহবুবুল আলম রওশন একজন প্রতারক, মিথ্যাবাদী, ধোকাবাজ অত্যন্ত অন্যায়কারী খারাপ কিছিমের লোক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার কাছে বিচার চাই, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ঘটনার সরেজমিন তদন্তক্রমে ধোকাবাজ চক্রান্তকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দাবি জানাচ্ছি। 
এব্যপারে মাহবুবুল আলম রওশন জানান, আমি ২০১৪ সালে পত্রিকার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা ভাতার আবেদনের বিষয়ে অবগত হয়ে আবেদন করলে ২০১৮ সাল থেকে ভাতা পাচ্ছি।   

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*