Wednesday , 23 June 2021
ব্রেকিং নিউজ
Home » জাতীয় » বঙ্গবন্ধুই বাংলাদেশের স্বাধীনতার অগ্রদূত- বিদ্যাদেবী ভাণ্ডারী
বঙ্গবন্ধুই বাংলাদেশের স্বাধীনতার অগ্রদূত- বিদ্যাদেবী ভাণ্ডারী
--সংগৃহীত ছবি

বঙ্গবন্ধুই বাংলাদেশের স্বাধীনতার অগ্রদূত- বিদ্যাদেবী ভাণ্ডারী

অনলাইন ডেস্ক:

বাংলাদেশের জনগণের অব্যাহত অগ্রগতিকে জাতি গঠন প্রক্রিয়ায় বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগের প্রতি উপযুক্ত শ্রদ্ধাঞ্জলি বলে মন্তব্য করেছেন সফররত নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যাদেবী ভাণ্ডারী। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুই বাংলাদেশের স্বাধীনতার অগ্রদূত। শেখ মুজিবুর রহমানকে যখন ১৯৬৯ সালে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেওয়া হয়েছিল, তখন সারা দেশের মানুষ তাত্ক্ষণিকভাবে তা গ্রহণ করে।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকায় জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে ‘মুজিব চিরন্তন’ অনুষ্ঠানে ‘নেপাল-বাংলাদেশ সম্পর্ক : বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী’ শীর্ষক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নেপালের প্রেসিডেন্ট তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশ-নেপাল সম্পর্ক আরো জোরদারে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও কানেক্টিভিটি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

kalerkanthoবিদ্যাদেবী ভাণ্ডারী তাঁর বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে নিবিড় ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটেছে।

নেপালের প্রেসিডেন্ট এর আগে বাংলাদেশে ব্যক্তিগত সফরের কথা স্মরণ করেন। ওই সফরের সঙ্গে এবারের পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, উন্নয়ন ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে এবার অনেক অগ্রগতি চোখে পড়ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে বড় একটি জনগোষ্ঠীকে দারিদ্র্যসীমা থেকে বের করতে সফল হয়েছে। এই ধারা এখনো চলছে। বাংলাদেশকে ‘বন্ধু রাষ্ট্র’ উল্লেখ করে নেপালের প্রেসিডেন্ট বলেন, এই দেশ ও জনগণের ইতিবাচক পরিবর্তন দেখে তিনি আনন্দিত।

বাংলাদেশ-নেপাল সম্পর্ক প্রসঙ্গে বিদ্যাদেবী ভাণ্ডারী বলেন, দুই দেশের মধ্যে নিবিড়, বন্ধুত্ব ও সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক অব্যাহত আছে অনেক দিন ধরেই। ভৌগোলিকভাবে দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব কম। ভৌগোলিক নৈকট্য, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যগত সাদৃশ্য, পারস্পরিক সমর্থন ও শুভেচ্ছা এই সম্পর্ককে জোরালো করেছে। ১৯৭১ সালের ৮ এপ্রিল দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে সম্পর্ক জোরালো হওয়া অব্যাহত আছে।

নেপালের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘বাণিজ্য, ট্রানজিট, জ্বালানি, কানেক্টিভিটি, পর্যটন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানুষে মানুষে সম্পর্ক জোরদারে আমরা সহযোগিতা করছি।’ দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাণিজ্য বাধা তুলে দেওয়ার পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সহজে বাজারে প্রবেশাধিকার সুবিধা পেলে বাণিজ্য সম্পর্ক উল্লেখযোগ্য মাত্রায় অগ্রগতি হবে।

নেপালের প্রেসিডেন্ট সহযোগিতা জোরদারে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “দুই দেশ এরই মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে। নেপালের জলবিদ্যুৎ ও বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাস আমাদের উন্নয়নের ‘গেম চেঞ্জার’ হতে পারে। আমাদের জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য নেপাল, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা আরো জোরদার হওয়া জরুরি।”

বাংলাদেশের সঙ্গে নেপালের কানেক্টিভিটি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রেসিডেন্ট বিদ্যাদেবী ভাণ্ডারী বলেন, কাঠমাণ্ডু-ঢাকা ফ্লাইট সংখ্যা আরো বাড়ানো যায়। এ দেশের সৈয়দপুর ও নেপালের বিরাটনগর শহরের মধ্যে ফ্লাইট যোগাযোগ চালু করা যায়।

তিনি নেপালের নদীগুলোর সঙ্গে ভারত ও বাংলাদেশের নদীগুলোর সংযুক্তির মাধ্যমে নৌপথ গড়ার ভাবনাও তুলে ধরেন। এর মাধ্যমে কানেক্টিভিটির উন্নতি হবে। পরিবহন ও বাণিজ্য খরচ কমবে। রেলপথের আধুনিকায়ন ও সেগুলোর সংযোগ হলেও অর্থবহ অগ্রগতি হবে।

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রসারে রোহনপুরকে ‘পোর্ট অব কল’ ঘোষণার প্রক্রিয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন নেপালের প্রেসিডেন্ট। তিনি দুই দেশের মধ্যে পর্যটনের সম্ভাবনাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশি পর্যটকরা নেপালে তুষারাচ্ছাদিত পর্বত, সুবজ উপত্যকা, ঐতিহাসিক-সাংস্কৃতিক স্থানগুলো দেখতে যেতে পারে। অন্যদিকে নেপালি পর্যটকরাও বাংলাদেশে চমৎকার সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবনসহ ঐতিহাসিক-সাংস্কৃতিক স্থানগুলো দেখতে আসতে পারে।

নেপালের প্রেসিডেন্ট শিক্ষা খাতে দুই দেশের সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নেপালের উচ্চভূমি আর বাংলাদেশের নিম্নভূমি—দুই দেশই জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতের শিকার। এর প্রভাব মোকাবেলায় দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর তিনি জোর দেন।

নেপালের প্রেসিডেন্ট বলেন, “বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’র আলোকে বাংলাদেশে দ্রুত উন্নয়ন হচ্ছে জেনে আমি খুব খুশি। কাছের বন্ধু হিসেবে নেপাল বাংলাদেশে অব্যাহত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি দেখতে চায়।”

বাংলাদেশিরা তাদের উন্নয়নের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে সম্মান জানাচ্ছে উল্লেখ করে নেপালের প্রেসিডেন্ট বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন ‘ক্যারিসমেটিক’ নেতা। তিনি একজন ভালো সংগঠক, সাহসী ও সংকল্পবদ্ধ এবং দৃঢ়প্রত্যয়ী মুক্তিসংগ্রামী ছিলেন।

নেপালের প্রেসিডেন্ট বলেন, তাঁর দেশও সমৃদ্ধ ও সুখী নেপাল গড়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। মধ্যম আয়ের দেশ হতে তাদের হয়তো আর বেশি সময় লাগবে না। তিনি বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশ ও নেপালের উন্নয়ন প্রচেষ্টা পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবে।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*