Tuesday , 20 April 2021
Home » দৈনিক সকালবেলা » উপজেলার খবর » সিরাজদিখানে ভূমি প্রতারণা ও জালিয়াতি করে বিক্রি, টাকা আত্মসাৎ এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানহানি করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

সিরাজদিখানে ভূমি প্রতারণা ও জালিয়াতি করে বিক্রি, টাকা আত্মসাৎ এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানহানি করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

সিরাজদিখানে (মুন্সিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে ভূমি প্রতারণা ও জালিয়াতি করে বিক্রি, টাকা আত্মসাৎ এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানহানি করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভূক্তভোগী। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় সিরাজদিখান প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন উপজেলার ইছাপুরা গ্রামের বাসিন্দা মো. খলিল হাওলাদারের ছেলে আঃ কুদ্দুস হাওলাদার। ভূক্তভোগীর অভিযোগ সম্পত্তি নিয়ে প্রতারণা, জালিয়াতি করে বিক্রি, নগদ অর্থ আত্মসাৎসহ এসব থেকে বাঁচতে সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য প্রদান করে সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে একই গ্রামের মৃত মতিউর রহমান মেয়ে মরিয়ম আক্তার ও তার নাতি ফাহিম। তিনি প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষনের উদ্দেশ্যে ও সাংবাদিকদের দারস্থ হয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। আঃ কুদ্দুস হাওলাদার তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমি ইছাপুরা গ্রামের মরিয়ম আক্তারের লিজকৃত পুকুর ৩২ শতাংশ সংজমা নিয়ে মাছ চাষ করতাম। হঠাৎ একদিন আমাকে পুকুর বিক্রি করার প্রস্তাব করিলে আমি পুকুর কিনতে সম্মত হই। তখন সিরাজদিখান ভূমি অফিসে গিয়ে জানতে পারি পুকুর লিজকৃত যার মালিক বাংলাদেশ সরকার। তখন খোঁজ নিয়ে জানতে পারি লিজকৃত সম্পত্তি দখল ক্রয়-বিক্রয় হয়। আরো জানতে পারি এই মরিয়ম আক্তার (তাপন) এর কাছ থেকে আশপাশের আরো কিছু লোকের নিকট বিক্রি করেছেন। সেই ভরসায় আমিও মরিয়ম আক্তারের নিকট থেকে ২০১৯ সালের আগষ্টের ৯ তারিখে আনরেজিষ্ট্রি ৩ শত টাকার স্টাম্পে ৩২ শতাংশ পুকুর ৪৯ শতাংশ বাড়ি সর্বমোট ৮১ শতাংশ সম্পত্তি ৪০ লক্ষ টাকা মূল্য ধার্য করে ৩৩ লক্ষ টাকা মরিয়মকে দিয়ে তার কাছ থেকে ক্রয় করি। সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়ার পর বাকি ৭ লক্ষ টাকা ৬ মাসের মধ্যে দেওয়ার কথা থাকে। ইছাপুরা গ্রামের মৃত এন্তাজ উদ্দিনের ছেলে সুমন মিয়াসহ এলাকার গণ্যমান্য লোকদের সাথে নিয়ে ২০১৯ সালের মার্চ মাসের ১১ তারিখে ৪৯ শতাংশ বাড়ি থেকে ২৫ শতাংশ বাড়ি সরকারি আমিন দ্বারা মেপে মরিয়ম আমাকে বুঝিয়ে দেয়। এরপর আমি ওখানে ৩ টি সাইনবোর্ড লাগাই। আমার ক্রয়কৃত সম্পত্তি আমাকে বুঝিয়ে না দেওয়ায় একই বছর মার্চ মাসের ২ তারিখে ইছাপুরা ইউনিয়ন পরিষদে এলাকার গণ্যমাণ্য ব্যাক্তিবর্গের সামনে আমাকে টাকা ফিরত দিবে চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন হাওলাদার বলে ঘোষণা দেন। সে মোতাবেক বলা হয় ২ দিনের মধ্যে আমাকে ২৫ লক্ষ টাকার চেক এবং ২ মাসের মধ্যে চেকের টাকা বুঝিয়ে দিবে। ধার্যকৃত সময়ের মধ্যে টাকা দিতে না পারলে মরিয়ম আক্তারের বাড়ি আমাকে বুঝিয়ে দিবে। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর আরো ৮ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও আমাকে টাকা বা বাড়ি কোন কিছুই বুঝিয়ে দেয়নি। হঠাৎ একদিন আব্দুল মতিন চেয়ারম্যান আমাকে ডেকে নিয়ে মরিয়ম আক্তারের স্বাক্ষর করা ১ লক্ষ টাকার একটি মূল চেক এবং ১৪ ও ১০ লক্ষ টাকার ২টি চেকের ফটোকপি আমাকে দেয়। যে জায়গা আমার কাছে বিক্রি করার পর বুঝিয়ে দেওয়ার কথা সে জায়গা এরমধ্যেই গোপনে ৬.৬ শতাংশ জায়গা রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যাক্তির কাছে ৮ লক্ষ টাকায় বিক্রয় করে আমার সাথে প্রতারণা করে মরিয়ম আক্তার। চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সামনে দেওয়া চেক সমূহ নিয়ে ব্যাংকে টাকা উত্তোলন করতে গিয়া দেখি একাউন্টে ৯৯ হাজার ৭০০ টাকা গচ্ছিত পাই এবং উক্ত টাকা আমি উত্তলন করি। আমি বহুবার চেয়ারম্যান সাহেবকে বিষয়টি অবগত করেও কোনো সু-বিচার পাইনি। পরিশেষে আমি মুন্সিগঞ্জ কোর্টে মামলা করতে বাধ্য হই। এছাড়া মরিয়ম আক্তার ও তার ছেলে ফাহিম আমার বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে। এতে আমার স্থানীয় ভাবে সম্মান হানী ঘটেছে। তারা সাংবাদিকদের কাছে যে তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করিছেয়েছে সেসব তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি তাদের এ প্রতারণা থেকে উদ্ধার পেতে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ ও সাংবাদিক ভাইদের সার্বিক সহযোগীতা কামনা করছি।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*