Friday , 18 June 2021
ব্রেকিং নিউজ
Home » জাতীয় » নিউজপ্রিন্ট ও কালি আমদানিতে শুল্ককর প্রত্যাহার চেয়েছে নোয়াব
নিউজপ্রিন্ট ও কালি আমদানিতে শুল্ককর প্রত্যাহার চেয়েছে নোয়াব

নিউজপ্রিন্ট ও কালি আমদানিতে শুল্ককর প্রত্যাহার চেয়েছে নোয়াব

অনলাইন ডেস্ক:

নিউজপ্রিন্ট ও কালি আমদানিতে শুল্ককর প্রত্যাহার চেয়েছে সংবাদপত্রশিল্প মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)। সংগঠনটি বলেছে, অগ্রিম আয়কর (এআইটি) থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। কমাতে হবে করপোরেট করহার। সরকারি সংস্থার বিজ্ঞাপন বিলের বিপরীতে ভ্যাটের চালান নিশ্চিত করতে হবে। মহামারি করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে টিকে থাকার জন্য সংবাদপত্রশিল্পে জরুরি ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা প্রয়োজন।

গতকাল বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচার রাজস্ব ভবনে অনলাইনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এই প্রস্তাব দেন নোয়াব সভাপতি ও দৈনিক সমকালের প্রকাশক এ কে আজাদ। এতে আরো বক্তব্য দেন নোয়াব কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম এবং বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো) সিনিয়র সহসভাপতি ও একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু প্রমুখ। এতে সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।

অনলাইন আলোচনায় নোয়াব সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, সংবাদপত্রের কাঁচামাল নিউজপ্রিন্ট ও কালি আমদানিতে ভ্যাট ও অন্যান্য কর মিলিয়ে ৩০ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হয়। করোনার কারণে সংবাদপত্রের প্রচার সংখ্যা কমে গেছে। বিজ্ঞাপন আয়ও অনেক কমেছে। মান খারাপ ও দাম বেশি হওয়ায় দেশি কাগজ সংবাদপত্র ব্যবহার করতে পারে না। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে নিউজপ্রিন্টের দাম বেড়েছে। এ অবস্থায় সংবাদপত্র চালিয়ে নেওয়ার স্বার্থে সব ধরনের শুল্ক প্রত্যাহার জরুরি। করোনার সময়ে অন্যান্য শিল্প প্রণোদনা পেলেও সংবাদপত্রশিল্প তা পায়নি।

ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, সংবাদপত্রকে শিল্প হিসেবে দেখতে হবে এবং অন্যান্য শিল্পের মতো এখানেও সহানুভূতিশীল দৃষ্টি দিতে হবে। কারণ সংবাদপত্র জনমানুষ ঘনিষ্ঠ সেবাধর্মী শিল্প। করোনার কারণে সংবাদপত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আয় একেবারেই কমে গেছে। এই সময়ে টিকে থাকতে সংবাদপত্রকে সহযোগিতা প্রয়োজন।

বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ বলেন, সরকারের বিজ্ঞাপন কম। যেসব বিজ্ঞাপন সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দিচ্ছে, সেখানে অনেক প্রতিষ্ঠানই ভ্যাট কেটে রাখে; কিন্তু এর চালান দেয় না। এতে সংবাদপত্রের ওপর ভয়ংকর চাপ তৈরি হয়।

এদিকে একই আলোচনায় অ্যাটকোর সিনিয়র সহসভাপতি ও একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু বলেন, ৭৫ শতাংশ বিজ্ঞাপন পাচার হয়ে যাচ্ছে। বহুজাতিক কম্পানিগুলো বিদেশের টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন প্রচার করছে। এতে কম্পানিগুলোর উদ্দেশ্য পূরণ হলেও দেশের টেলিভিশন কম্পানি ও রাজস্ব বিভাগ অর্থ পাচ্ছে না। বড় ধরনের জালিয়াতি হচ্ছে। এই বিষয়টি এনবিআরের দেখা উচিত।

এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, সংবাদপত্র ও টেলিভিশন মালিকদের প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে যৌক্তিক বিষয়গুলো বিবেচনা করা হবে। এনবিআর সব সময় স্থানীয় শিল্পের বিকাশে কাজ করে আসছে। দেশে কাগজ প্রস্তুতকারক শিল্প আছে এবং বিভিন্ন ধরনের কাগজ তৈরি হচ্ছে। স্থানীয় কাগজশিল্প মানসম্পন্ন নিউজপ্রিন্ট যদি উৎপাদন করতে না পারে এবং সংবাদপত্রকে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়, তাহলে অবশ্যই আমদানিতে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব বিবেচনা করা হবে।

টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদপত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা প্রসঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই দুই খাতকে কিভাবে বিবেচনা করা হয়, তা পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*