Thursday , 22 April 2021
Home » দৈনিক সকালবেলা » বিভাগীয় সংবাদ » জেলার-খবর » বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসে বাংলাদেশ অটিজম গবেষণা ও প্রতিবন্ধী স্কুল, সিলেট (বার্ডস) এর বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ
বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসে বাংলাদেশ অটিজম গবেষণা ও প্রতিবন্ধী স্কুল, সিলেট (বার্ডস) এর বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ

বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসে বাংলাদেশ অটিজম গবেষণা ও প্রতিবন্ধী স্কুল, সিলেট (বার্ডস) এর বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ

সিলেট ব্যুরো চীফ:

আজ ২ রা এপ্রিল ১৪তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস। অটিজম বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালন করা হয়। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ অটিজম গবেষণা ও প্রতিবন্ধী স্কুল, সিলেট (বার্ডস) এর উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ অটিজম গবেষণা ও প্রতিবন্ধী স্কুল, সিলেট (বার্ডস) এর প্রিন্সিপাল শামীম ইকবাল বলেন- ”অটিজম হলো শিশুদের বিকাশগত একটি সমস্যা। অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুরা সাধারণত অপরের সাথে ঠিকমতো যোগাযোগ করতে পারে না, তারা অতিরিক্ত জেদী হয়ে থাকে এবং নিজেকে বিচ্ছিন্ন ও গুটিয়ে রাখার মানসিকতাসম্পন্ন হয়ে থাকে। অটিজমের সুনির্দিষ্ট কোন কারণ নেই। তবে, গবেষকরা মনে করেন, জেনেটিক, নন-জেনেটিক ও পরিবেশগত প্রভাব সমন্বিতভাবে অটিজমের জন্য দায়ী। শিশুর বিকাশে প্রাথমিক পর্যায়ে এটি সৃষ্টি হয়। এ পর্যন্ত পরিচর্যাই এর একমাত্র বিকল্প। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা ও স্কুল সাইকোলজিস্ট সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নিরলস প্রচেষ্টায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অটিজম বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে”। এজন্য তিনি দেশরত্ন শেখ হাসিনা ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল কে ধন্যবাদ জানান।

অটিজমে আক্রান্ত শিশু ও বয়স্কদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০০৭ সালে ২ এপ্রিলকে ‘বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস’ হিসেবে পালনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর থেকে প্রতি বছর দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হলো ‘মহামারিত্তোর বিশ্বে ঝুঁকি প্রশমন, কর্মক্ষেত্রে সুযোগ হবে প্রশাসন’ ।

এক সময় অটিজম ছিল একটি অবহেলিত জনস্বাস্থ্য ইস্যু। এ সম্পর্কে সমাজে নেতিবাচক ধারণা ছিল। সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ২০০৭ সালে এ বিষয়ে দেশে কাজ শুরু করেন। সায়মা সম্প্রতি এ অবহেলিত জনস্বাস্থ্য ইস্যুতে তাঁর বিরাট অবদানের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বীকৃতিও পেয়েছেন।

বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক শিশু অটিজম নামের এই নিউরো-ডেভেলমেন্ট ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত। ইতোমধ্যে এ সম্পর্কে পিতা-মাতা, পরিবার-পরিজন ও সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের চিকিৎসা ও যথার্থ পরিচর্যার জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আগামী ৩ রা এপ্রিল ‘বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস-২০২১’ উদযাপন করতে নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর। বুধবার (৩১ মার্চ) অধিদফতরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) প্রফেসর শাহেদুল খবির চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপিতে বলা হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অফিসসমূহে ‘১৪তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস-২০২১’ উদযাপন উপলক্ষে নিম্নে বর্ণিত কমূসূচি পালনের অনুরোধ করা হল-

১) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অফিসসমূহে ১ এপ্রিল ২০২১ থেকে ৩ এপ্রিল ২০২১ পর্যন্ত নীল বাতি প্রজ্জ্বলন।

২) ২০২১ সালের বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয়ে ‘মহামারিত্তোর বিশ্বে ঝুঁকি প্রশমন, কর্মক্ষেত্রে সুযোগ হবে প্রশাসন’ আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অফিসসমূহে অনলাইনে আলোচনা সভা ও মতবিনিময় সভার আয়োজন।

যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ পত্র জারি করা হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*