Sunday , 20 June 2021
ব্রেকিং নিউজ
Home » দৈনিক সকালবেলা » বিভাগীয় সংবাদ » খুলনা বিভাগ » ধুঁকতে ধুঁকতে বন্ধ কুষ্টিয়ার বারোটি সিনেমা হল
ধুঁকতে ধুঁকতে বন্ধ কুষ্টিয়ার বারোটি সিনেমা হল

ধুঁকতে ধুঁকতে বন্ধ কুষ্টিয়ার বারোটি সিনেমা হল

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:

কুষ্টিয়া শহরে চারটি এবং এর বাইরে ছয় উপজেলায় আটটি সহ মোট ১২ টি সিনেমা হল ছিল কুষ্টিয়া জেলায় । মানসম্পন্ন সিনেমার অভাবে এবং আকাশ সংস্কৃতির দাপটে দিন দিন দর্শকশূন্য হয়ে পড়ে সিনেমা হল গুলো । ইতিমধ্যেই ১১ সিনেমা হল এখন হাঁড়ি পাতিলের গোডাউন আর কমিউনিটি সেন্টার হিসাবে নিজেদের ব্যবসা পরিবর্তন করে নিয়েছেন ।বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, ৬০ এর দশকে কুষ্টিয়া শহরের প্রাণকেন্দ্রে সর্বপ্রথম চালু হয়েছিল রক্সি সিনেমা হল । সিনেমা হলটি ২০০৩ সালে বন্ধ হয়ে বর্তমানে হাঁড়িপাতিলের গোডাউন হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে । সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে খ্যাত কুষ্টিয়ার প্রাণকেন্দ্র নবাব সিরাজউদ্দৌলা রোডে পরিমল থিয়েটার কর্তৃপক্ষ নির্মাণ করেছিলেন কেয়া সিনেমা হল । ইতিপূর্বে নাম পরিবর্তন করে গড়াই সিনেমাহল হিসেবেও পরিচিত লাভ করেছিল । সেই হলটি এখন ভেঙ্গে গড়ে তোলা হয়েছে বহুতলবিশিষ্ট বাণিজ্যিক ভবন পরিমল থিয়েটার ।কুষ্টিয়া পৌর সভার বাণী ম সিনেমা হলটি প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ অবস্থায় রয়েছে । এখন কুষ্টিয়া পৌরসভার কমিউনিটি সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে । এর আগে কুষ্টিয়া পৌরসভার কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ আজাদ নামের এক ব্যবসায়ী হল পরিচালনা করেন ।জনাব আজাদ জানান, ছবির মান ক্রমাগত নিম্নমুখী এবং আকাশ সংস্কৃতির দাপটে দর্শকরা হল বিমুখ হয়ে পড়ে । তাই তিনি অব্যাহত লোকসানের হাত থেকে বাঁচতে বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিলেন ।বন্ধ সিনেমা হলগুলোর সুদিন ফিরিয়ে আনতে বুকিং এজেন্ট তদারকির বেসরকারি উদ্যোগের প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন । একই সঙ্গে টেক্স ও খাজনা কমাতে হবে বলে জানান বনানী সিনেমাহলের কর্মচারী খালেক বারি ।রক্সি সিনেমা হলের মালিক জামাল হোসেন জানান, আগে প্রায় প্রতিটি ছবি হাউসফুল হতো এবং আমরা দর্শকের চাহিদা মোতাবেক টিকেট দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতাম । এখন দর্শকরা আর হলে আসতে চায় না । যার ফলে হল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছি । এই শিল্পে জড়িত ব্যক্তিরা এখন বিভিন্ন পেশা বেছে নিয়েছেন ।কুষ্টিয়া সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্র আরাফাত বলেন, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হলে ছবি দেখার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে । সেই সাথে সামাজিক, কাহিনীনির্ভর এবং ডিজিটাল প্রিন্ট এর ছবি নির্মাণ করতে হবে । তাহলেই বাংলার সিনেমা সোনালী যুগে ফিরে যাবেন বলে তিনি মনে করেন ।কুষ্টিয়ার বনানী সিনেমা হলের মালিক বকুল হোসেন বলেন, ভালো কাহিনীর ছবি নির্মাণ হলে এবং হলে নিরাপত্তা নিশ্চিত উন্নত ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারি ঋণ সহায়তা দেওয়া হলে বন্ধ সিনেমা হলগুলো আবার চালু করা সম্ভব ।কুষ্টিয়া খোকসা উপজেলার সিনেমা হলগুলো বন্ধ হয়েছে ১০ বছর আগে । ইতিমধ্যে একটি হলের অবকাঠামো ভেঙ্গে গোডাউন তৈরি করা হয়েছে । অপর সিনেমা হলটি ভাঙ্গার প্রস্তুতি চলছে ।
আশির দশকে কুষ্টিয়া সদরে পাটের গোডাউনে তৈরি করা হয় প্রথম সিনেমা হল । এরপর একে একে এক কিলোমিটারের মধ্যে তিনটি সিনেমা হল নির্মাণ হলেও প্রায় দুই যুগ ধরে সবকটি হল ব্যবসা করেন একযোগে ।বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, খোকসা উপজেলার খোকসা বাজার এর মধ্যে জনবহুল এলাকায় অপর্ণা সিনেমা হলটি বন্ধ হয়ে গেছে । বর্তমানে এই সিনেমা হলটি ভাঙ্গার পরিকল্পনা চলছে । আশির দশকে নির্মিত অপুর সিনেমা হল মনামী বন্ধ হয়েছে আরও অনেক আগে । বিভিন্ন আনন্দের দিনে যেমন ঈদ ও পূজায় হলগুলোতে দর্শক হতো এখন আর সেটি দেখতে পাওয়া যায় না । সিনেমা হলটি ভাঙ্গা হবে বলে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে ।দুইটি সিনেমা হলের মালিক আমজাদ হোসেন খোকন । তার পরিচালিত একটি হল ইতিমধ্যে ভেঙে দিয়েছেন এবং আরেকটি ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন । তিনি সিনেমা হল বন্ধের জন্য দায়ী করেন প্রযুক্তির অপব্যবহার ও দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র কে ।আমজাদ হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার প্রণোদনার মাধ্যমে সিনেমা ব্যবসা সুদিন ফেরাতে বদ্ধপরিকর । তিনি আরো জানান, প্রণোদনার ঋণের সুদের হার ৪ শতাংশ বলা হলেও তা প্রকৃতপক্ষে ৯ শতাংশে গিয়ে দাঁড়াবে । যার ফলে ব্যবসায়ীরা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবেনা ।স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার হল বাজার এলাকায় নির্মাণ করা হয় শাপলা সিনেমা হল । সেটিও বন্ধ হয়ে আছে প্রায় ১০ বছর হলো । ঘরের চারপাশ জুড়ে গড়ে উঠেছে মার্কেট এবং হলটি ব্যবহার হচ্ছে গোডাউন হিসাবে ।কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার তিনটি সিনেমা হলের মধ্যে সবচেয়ে পুরাতন সিনেমা হল হলো সজনী। হলটি ভেড়ামারার কচি স্ট্যান্ডের পাশে অবস্থিত । সজনী সিনেমা হলটি বন্ধ আছে প্রায় ৩ থেকে ৪ বছর হলো । সজনী হলের পাশে ছিল লাবণী সিনেমা হল । লাবনী সিনেমা হল ৫-৬ বছর আগে বন্ধ হয়ে গিয়েছে ।ভেড়ামারায় সর্বশেষ বছর দুয়েক আগে বন্ধ হয়ে গেছে সহতে চৈতন মধ্য বাজার এলাকার রুপাঞ্জলী সিনেমা হল । এই সিনেমা হলটি ভেঙ্গে হোটেল ও মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*