Thursday , 22 April 2021
Home » জাতীয় » দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
--ফাইল ছবি

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক:

বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের যাত্রায় যুক্তরাষ্ট্র শক্তিশালী অংশীদার হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এক ভিডিও বার্তায় এ কথা বলেন। এ সময় তিনি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নীতিগত সহায়তা চেয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শিল্প কাঁচামাল এবং তুলা, সয়াবিন, গমসহ বিভিন্ন ভোগ্য পণ্য আমদানি করি। এসব পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানিকারকরা বাংলাদেশে শূন্য শুল্ক উপভোগ করে। দুই দেশের বাণিজ্য আরো সম্প্রসারণে পর্যাপ্ত নীতিগত সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আমাদের রপ্তানির বৃহত্তম গন্তব্য, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের বৃহত্তম উৎস, দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়ন অংশীদার এবং প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।’

বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দ্রুত বর্ধনশীল অভ্যন্তরীণ বাজার এবং ক্রমবর্ধমান কানেক্টিভিটির সঙ্গে ৪০০ কোটি লোকের বিশাল আঞ্চলিক বাজার যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি লাভজনক বিনিয়োগ গন্তব্য।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগের সুবিধার্থে বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত অবকাঠামো, আইনি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নতি করে যাচ্ছে। আমাদের সরকার দ্রুত শিল্পায়নের লক্ষ্যে সারা দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছে।’

পণ্য উৎপাদনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো ব্যবহারের প্রস্তাব দেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের জন্য বিদেশি বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ যখন বৈদেশিক সাহায্যনির্ভরতা কমিয়েছে তখন লাখ লাখ যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।

রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রযুক্তির ব্যবহারে সক্ষম আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সহায়তা করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে ধন্যবাদ জানান। শেখ হাসিনা বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ সরকারের ‘ভিশন ২০২১’-এর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তথ্য-প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ বাংলাদেশ ৬০টিরও বেশি দেশে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি আইসিটি পণ্য রপ্তানি করে। যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষ রপ্তানি গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য ইউএসএআইডির ‘কম্প্রিহেনসিভ প্রাইভেট সেক্টর মূল্যায়ন ২০১৯’ অনুসারে বাংলাদেশে আইসিটি শিল্প ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় পাঁচ গুণ বাড়বে এবং প্রায় পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছবে।

বাংলাদেশের হাইটেক পার্কগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের কম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তথ্য-প্রযুক্তি সেক্টরে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগে বাংলাদেশ ২৮টি হাইটেক পার্ক তৈরি করছে।

হাইটেক পার্কে যুক্তরাষ্ট্রের কম্পানিগুলোকে আইসিটি খাতে বিনিয়োগ করার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দারিদ্র্য, শোষণ ও অর্থনৈতিক বৈষম্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের অসমাপ্ত কাজ করে যাচ্ছেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘গত এক দশকে আমরা আর্থ-সামাজিক সূচকগুলোতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছি। বাংলাদেশের অর্থনীতির শক্তি এখন বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। কভিড-১৯ মহামারির মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি দুর্দান্ত স্থিতিশীলতা প্রদর্শন করেছে।’

গত ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জন্য জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন ২০৪১ সালের মধ্যে উচ্চ আয়ের উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হওয়ার লক্ষ্য অর্জনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*