Saturday , 19 June 2021
ব্রেকিং নিউজ
Home » জাতীয় » বাংলার গণমানুষের নন্দিত নেত্রী
বাংলার গণমানুষের নন্দিত নেত্রী
--ফাইল ছবি

বাংলার গণমানুষের নন্দিত নেত্রী

অনলাইন ডেস্ক:

বাংলার গণমানুষের নন্দিত নেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আজ ৪০ বছর পূর্ণ হলো। ১৯৮১ সালের ১৭ মে নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রিয় মাতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তন করেন। যেদিন প্রিয় নেত্রী স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন, সেদিন শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছিল না, ছিল সর্বব্যাপী সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দুর্যোগ। স্বৈরশাসনের অন্ধকারে নিমজ্জিত স্বদেশে তিনি হয়ে ওঠেন আলোকবর্তিকা, অন্ধকারের অমানিশা দূর করে আলোর পথযাত্রী। দীর্ঘ চার দশক অত্যাচার-অবিচার, জেল-জুলুম সহ্য করে, নিষ্ঠা, সততা ও দক্ষতার সঙ্গে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দিয়ে চারবার গণরায়ে অভিষিক্ত করে সরকার গঠন করে রাষ্ট্র পরিচালনায় যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। ১৯৭৫ সালের পর আওয়ামী লীগ যখন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছিল, সেই দুঃসময়ে তিনি দলের হাল ধরেন। পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা তখন সামরিক শাসনের দুঃশাসনে নিপতিত। স্বৈরশাসনের অবসান ঘটাতে তিনি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

১৯৮১ সালের ১৭ মে ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ বৃষ্টিমুখর দিনে বিকেল সাড়ে ৪টায় তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে পদার্পণ করেন। সারা দেশ থেকে লাখ লাখ মানুষ তাঁকে সংবর্ধনা জানাতে সেদিন বিমানবন্দরে সমবেত হয়েছিল। বিমানবন্দর থেকে প্রিয় নেত্রীকে নিয়ে যখন মানিক মিয়া এভিনিউয়ে যাই রাস্তার দুই পাশে লাখ লাখ লোক। এমন দৃশ্য, যা বর্ণনাতীত। সভামঞ্চে উঠে ক্রন্দনরত অবস্থায় সেদিন তিনি বলেছিলেন, ‘আমি সর্বহারা। আমার কেউ নেই। আপনাদের মাঝেই আমার হারানো পিতা-মাতা, আমার ভাই, আত্মীয়-স্বজন সবাইকে আমি খুঁজে পেতে চাই। আপনাদের কথা দিলাম এই দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আমি জীবন উৎসর্গ করব।’ মানিক মিয়া এভিনিউর জনসমুদ্রে সর্বস্তরের জনতার উদ্দেশে বক্তৃতায় জাতির কাছে যে অঙ্গীকার তিনি ব্যক্ত করেছিলেন পরবর্তী সময়ে সেসব প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করে আজও তা অব্যাহত রেখেছেন।

দেশে ফেরার পর তাঁর নেতৃত্বে সামরিক শাসনবিরোধী দুর্বার গণ-আন্দোলন সংগঠিত হয়। অকুতোভয় শেখ হাসিনার বড় বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি আমাদের মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতোই অসীম সাহসী, চিত্ত তাঁর ভয়শূন্য!

জাতির পিতা দুটি লক্ষ্য নিয়ে রাজনীতি করেছেন। একটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, আরেকটি অর্থনৈতিক মুক্তি। তিনি আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন, অর্থনৈতিক মুক্তি দিয়ে যেতে পারেননি। অর্থনৈতিক মুক্তির সেই অসমাপ্ত কাজটি দক্ষতা, নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিগত বছরগুলোতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং মাথাপিছু আয় যে হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, এই হার অব্যাহত থাকলে সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, ২০৪১-এর মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশে উন্নীত হবে। সামাজিক জীবনের সব ক্ষেত্রেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে আজ আমরা এগিয়ে চলেছি। তিনি নিয়মিত পড়াশোনা করেন। ক্যাবিনেট মিটিংগুলোতে যথাযথ হোমওয়ার্ক করে সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে মিটিংয়ে আসেন। একনেক বা ক্যাবিনেট মিটিংয়ের দু-এক দিন আগেই মিটিংয়ের আলোচ্যসূচি, প্রস্তাবাবলি ফাইলে দেওয়া হয়। যখন একটি বিষয় প্রস্তাব আকারে পেশ করা হয়, তখন সেই বিষয়ের খুঁটিনাটি সব বিষয় তিনি সভায় সবিস্তারে তুলে ধরেন এবং সঠিকভাবে প্রতিটি প্রস্তাবের ওপরে সুচিন্তিত মতামত ব্যক্ত করেন। তাঁর এই অবাক করা প্রস্তুতি সবাইকে মুগ্ধ করে। সারা দিন তিনি কাজ করেন। ভীষণ পরিশ্রমী, হাস্যোজ্জ্বল এবং আবেগময়ী মানুষ তিনি। পিতার মতোই গরিবের প্রতি তাঁর দরদ অপরিসীম। জাতির পিতার কন্যার কাছে গরিব-দুঃখী মানুষ যখন হাত পাতে পিতার মতো তিনিও তাদের সাহায্য করেন। আমাদের দেশে যাঁরা বুদ্ধিজীবী-কবি-সাহিত্যিক-সমাজসেবক তাঁদের বিপদ-আপদে পাশে দাঁড়ান। একাধিক গ্রন্থের প্রণেতা শেখ হাসিনা একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক। পিতা-মাতার মতো সাদামাটা জীবনে অভ্যস্ত সংস্কৃতবান এবং খাঁটি বাঙালি নারী তিনি। বাংলাদেশের রাষ্ট্রনায়ক না, আন্তর্জাতিক নেতা হিসেবে এরই মধ্যে বিশ্বজনমত ও নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণে তিনি সক্ষম হয়েছেন।

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য ছিল, তিনি যা বিশ্বাস করতেন তা-ই পালন করতেন; একবার সিদ্ধান্ত নিয়ে তার সঙ্গে আপস করতেন না এবং ফাঁসির মঞ্চে গিয়েও মাথা নত করতেন না। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাও জাতির পিতার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে সেই আদর্শ অর্জন করেছেন। তিনিও লক্ষ্য নির্ধারণ করে কাজ করেন এবং সেই লক্ষ্য পূরণে থাকেন অবিচল। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে আলোকিত করে চলেছেন। সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ হবে জাতির জনকের স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা।

লেখক : আওয়ামী লীগ নেতা, সংসদ সদস্য, সভাপতি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত 
সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ
tofailahmed69@gmail.com

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*